১৫, অক্টোবর, ২০১৮, সোমবার | | ৪ সফর ১৪৪০

মেধাবী শিক্ষার্থী শহিদুল বাঁচতে চায়

আপডেট: অক্টোবর ১৩, ২০১৮

মেধাবী শিক্ষার্থী শহিদুল বাঁচতে চায়

।।না্ঈম ইসলাম, সহ-সম্পাদক।।

শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার মেধাবী শিক্ষার্থী শহিদুল ইসলামের (২৩) দুটি কিডনি অকেজো হয়ে গেছে। জীবন বাচাঁতে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন তিনি। একটি কিডনির ব্যবস্থা হলেও স্থানান্তরের জন্য ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকার প্রয়োজন। এত টাকা যোগাড় করতে গিয়ে তিনি হতাশায় পড়েছেন। সুহৃদয়বান মানুষের আর্থিক সহযোগিতা পেলে ছেলেটি ফিরে পেতে পারেন নতুন জীবন।

শহিদুল ও তার পরিবার এবং এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, শহিদুল উপজেলার দক্ষিণ রাণিগাঁও গ্রামের মোফাজ্জল আলীর ছোট ছেলে। ২০১০ সালে সন্ন্যাসীভিটা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক ও নাজমুল স্মৃতি সরকারি কলেজ থেকে তিনি উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। ২০১৩ সালে ঢাকা ইন্টান্যাশনাল ইউনিভারসিটিতে ইংরেজী বিভাগে ভর্তি হন। বর্তমানে তিনি অনার্স শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী।

২০১৭ সালে শহিদুল তার খালাতো বোনরে সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। গত বছরের ৭ এপ্রিল হঠাৎ করে তার দু’ পা ফুলে যায়। পরে চিকিৎসার জন্য বারডেম হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। সেখানে চিকিৎসকরা তার দুই কিডনী নষ্ট হয়ে গেছে বলে জানান। পরে সে কিডনী ফাউন্ডেশনে ভর্তি হয়ে দেড় মাস চিকিৎসা করান।

বর্তমানে তিনি ন্যাশনাল ইউস্টিউট অব ডিজেস্ট কিডনি হাসপাতালে চিকিৎসাধী রয়েছেন। সেখানে তার সকল পরীক্ষা নিরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। তবে দ্রুত কিডনি প্রতিস্থানের জন্য চিকিৎসকরা পরামর্শ দিয়েছেন। ভাগ্যক্রমে তার স্ত্রী মোছা. স্মৃতির সঙ্গে কিডনি মিল হওয়ায় শহিদুল তার স্ত্রীর কিডনি গ্রহণ করতে পারবেন। কিন্তু এই কিডনী স্থানান্তর ও চিকিৎসা বাবদ তার প্রয়োজন প্রায় ১৫-২০ লাখ টাকা।

এছাড়া, তার ১৭ মাস ধরে চিকিৎসা বাবদ প্রতি মাসে ৬০ হাজার টাকা ব্যয় হচ্ছে। কিন্ত কৃষক বাবার পক্ষে এতো টাকা যোগার করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে শহিদুলকে বাঁচাতে তার বন্ধুরা তাকে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিকট যাচ্ছে এবং আর্থিক সাহায্য গ্রহণ করছেন। তবে এই আর্থিক সাহায্য খুবই সামান্য। তাই শহিদুলকে বাঁচাতে হৃদয়বানদের এগিয়ে আসতে সকলে আহ্বান জানিয়েছেন।

শহিদুলের বাবা মোফাজ্জল আলী বলেন, আমার আট ছেলে মেয়ে মধ্যে শহিদুলই সবার ছোট। সবাই যার যার মতো সংসার করে আলাদা হয়ে গেছে। এই পর্যন্ত শহিদুলের চিকিৎসার জন্য অনেক টাকা ব্যয় হয়ে গেছে। জায়গা জমি বিক্রি করে চিকিৎসা করিয়েছি। আমি কৃষক হওয়ায় আমার পক্ষে আর সম্ভব হচ্ছে না তাকে চিকিৎসা করানো। তাই সমাজের সকলের কাছে অনুরোধ করছি আমার ছেলের পাশে দাঁড়ানোর জন্য।

অসুস্থ শহিদুল বলেন,

চিকিৎসক আমাকে একদমই পানি খেতে বারণ করেছেন। সারাদিন রাতে হাফ লিটার পানি খেতে পারি। তাতে পিপাসা মিটে না। আমার অনেক কষ্ট হয়ে। সারাদিন গামছা ভিজিয়ে শরীর মুছি। আমি সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসর স্বপ্ন দেখি। মানুষের আর্থিক সহযোগিতা পেলে আমি ভালো হয়ে যাবো বলে দু’চোখ মুছতে থাকেন।

প্রফেসর একাডেমির অধ্যক্ষ মো. এনায়েত আলী বলেন, ছেলেটি মেধাবী শিক্ষার্থী। তার চিকিৎসার জন্য অনেক অর্থের প্রয়োজন। কিন্তু তার পরিবারের সেই সামর্থ নেই। যদি সুহৃদয়বার মানুষ ছেলেটির চিকিৎসায় এগিয়ে আসেন তাহলে তাকে বাঁচানো সম্ভব হবে। উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাা প্রতিষ্ঠান থেকে তাকে আর্থিক সহযেগিতা করা হয়েছে। কিন্ত সেই অর্থ একেবারেই সামান্য।