২২, অক্টোবর, ২০১৮, সোমবার | | ১১ সফর ১৪৪০

বাড়ি থেকে যাত্রা শুরু, এখন ৫২ বছরে সরকারি আদর্শ কলেজ

আপডেট: অক্টোবর ১৩, ২০১৮

বাড়ি থেকে যাত্রা শুরু, এখন ৫২ বছরে সরকারি আদর্শ কলেজ

।।উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি।।

নড়াইলের রায় বাহাদুর যদুনাথ মজুমদারের বাড়িতে পথচলা শুরু করে আজকের সরকারি আদশ কলেজ! মধুমতি-নবগঙ্গা বিধৌত প্রাণকেন্দ্রে অবস্তিত এই প্রতিষ্ঠান। সবুজে শ্যামলেঘেরা প্রায় ১৪ একর জমির উপর প্রতিষ্ঠিত এই মহাবিদ্যালয়টি শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে। আমাদের নড়াইল প্রতিনিধি উজ্জ্বল রায় জানান, আলোকিত মানুষ গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি অর্ধশত বছর আগে এলাকার কিছু শিক্ষানুরাগী মানুষের হাতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল সেটি আজকের নড়াইলের সরকারি আদর্শ কলেজ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তৎকালিন সময়ে সৈয়দ মোকাররম হোসেনকে অধ্যক্ষ করে মৌলভী আলতাফ উদ্দিন, অন্যতম শিক্ষাবিদ নূর মোহাম্মদ মিঞা, শিক্ষক শা. ম. আনয়ারুজ্জামান, কাজী আব্দুর ওহাব, হেমায়েত হোসেন, ডাঃ মহিউদ্দিন, ওয়াহিদুজ্জামানসহ স্থানীয় বিদ্যানুরাগী ব্যক্তি বর্গের নিরলস প্রচেষ্টায় এলাকায় মানবিক মূল্যবোধ সম্পন্ন মানুষ গড়ার লক্ষ্যে ১৯৬৮ সালের ১ জুলাই রায় বাহাদুর যদুনাথ মজুমদারের বাড়িতে পথচলা শুরু করে আজকের নড়াইলের লোহাগড়া সরকারি আদর্শ মহাবিদ্যালয়।

এ ছাড়াও ইউপির প্রাক্তন চেয়ারম্যান কমলেশ মজুমদার, জয়পুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ সরদার, লোহাগড়া বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী জগবন্ধু সাহা, রোকন উদ্দিন, এম. মকবুল হোসেন, বদরুল আলম, সৈয়দ রুস্তম আলী, মোয়াজ্জেম হোসেন মোল্যাসহ স্থানীয় অনেক শিক্ষানুরাগী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ কলেজ প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। উল্লেখ্য, কলেজ প্রতিষ্ঠায় নড়াইলের তৎকালিন মহাকুমা প্রশাসক খোরশেদ আলম এর ভূমিকা স্মরনীয়। আমাদের নড়াইল প্রতিনিধি উজ্জ্বল রায় জানান, শুরুতে মানবিক বিভাগে ৫৭জন ও বানিজ্য বিভাগে ৩৯ জন শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা করলেও বর্তমানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৪ হাজার। এখানে শিক্ষক রয়েছেন ৩৫জন, অতিথি শিক্ষক ২জন। কর্মচারী আছেন ২৫জন। কর্মচারীদের জন্য রয়েছে কল্যাণ ফান্ড। রয়েছে সুসজ্জিত মাল্টিমিডিয়া ক্লাস রুম, কম্পিউটার ল্যাব, বিজ্ঞানাগার, সমৃদ্ধ পাঠাগারসহ ছাত্র-ছাত্রীদের পৃথক পৃথক কমনরুম। কলেজ কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে জানা যায়, ১৯৬৮ সালে এইচ.এস.সি, ১৯৭০ বি.এ/বি.কম/বি.এস.এস এবং ২০০৭ চারটি (বাংলা, সমাজবিজ্ঞান, রাষ্ট্রবিজ্ঞান এবং হিসাববিজ্ঞান) বিষয়ে স্নাতক (সম্মান) কোর্স চালু হয়। ইতি মধ্যে চলমান স্নাতক (সম্মান) বিষয়গুলির মাস্টার্স সহ ইতিহাস, ইসলামিক ইতিহাস ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ে সম্মান (অনার্স) কোর্স চালু করার জন্য আবেদন করা হয়েছে।

২০১৩ সালের ১১ অক্টোবর বর্তমান সরকার কলেজটি জাতীয়করণ করে। উল্লেখ্য কলেজ জাতীয়করণে এসএসএফ-এর সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শেখ মোহাম্মদ আমান হাসান এনডিইউ (অব:) এর অবদান স্মরনীয়। শিক্ষকদের বস্তনিষ্ঠ পাঠদান ও তত্বাবধায়নে দেশের অন্যতম এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা আলোকিত মানুষ হওয়ার পাশাপাশি খেলাধুলায় জাতীয় পর্যায়ে একাধিকবার চ্যাম্পিয়ান হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। অনেক শিক্ষার্থী শিক্ষা জীবন শেষে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরে গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মরত আছেন। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বর্তমান অধ্যক্ষের আন্তরিক প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠানে যেমন শিক্ষার মান উন্নয়ন হয়েছে তেমনি কলেজের প্রতিটি সেক্টরে দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে সুন্দর পরিবেশ। তবে কলেজের এক মাত্র খেলার মাঠ বছরের ৯-১০ মাস পানির নিচে থাকার কারনে অত্র কলেজ এবং এলাকার এ্যাথলেটদের অনুশীলন বাঁধাগ্রস্থ হচ্ছে।

কলেজের কর্মচারি তহমিনা পারভীন, আদরী খামন, মর্জিনা খানম ও আমীনুর রহমান জানান, প্রায় ৫ বছর যাবত তারা বিনা বেতনে কাজ করে আসছে। তেমন কোন সুযোগ সুবিধা পাননি। অধ্যক্ষ মহব্বত আলী প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব গ্রহণের পর সম্মানী ভাতা পাচ্ছেন তারা। কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক মোঃ বদরুদ্দোজা বলেন,“এলাকার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে লোহাগড়া সরকারি কলেজ এক গুরুত্ব পূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। মানবিক, বাণিজ্য ও বিজ্ঞান বিভাগের পাশাপাশি ৪টি বিষয় অনার্স কোর্স চালু হওয়ার ফলে এলাকার দরিদ্র, মেধাবী শিক্ষার্থীরা স্বল্প খরচে স্নাতক (সম্মান) ডিগ্রী লাভ করে দেশের সেবায় অবদান রাখছে এবং বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের এইচ,এস,সি ও বিএ/বিএসএস প্রোগ্রাম চালু থাকায় ঝরে পড়া শিক্ষার্থরা শিক্ষার সুযোগ লাভ করে নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হচ্ছে।

আমাদের নড়াইল প্রতিনিধি উজ্জ্বল রায় জানান, জাতির জনকের সুযোগ্য কন্যা দেশনেত্রী শেখ হাছিনা’র প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মোঃ মহব্বত আলী বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর একান্ত ইচ্ছায় নড়াইলের লোহাগড়া আদর্শ কলেজ জাতীয় করণ হয়েছে। তিনি শিক্ষা বিস্তারের যে মহানব্রত গ্রহণ করেছেন, তাঁর সেই ইচ্ছার সাথে আমরা একাত্মতা ঘোষনা করে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার কাজে সহায়তা করার প্রত্যয় ব্যক্ত করছি। কলেজকে দেশের মধ্যে অন্যতম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে আমরা আন্তরিক ভাবে কাজ করছি।