২১, অক্টোবর, ২০১৮, রোববার | | ১০ সফর ১৪৪০

শক্তিশালী লড়াইয়ের জন্য জনগণকে প্রস্তুত হতে বললেন নজরুল

আপডেট: অক্টোবর ১৩, ২০১৮

শক্তিশালী লড়াইয়ের জন্য  জনগণকে প্রস্তুত হতে বললেন নজরুল

গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান শক্তিশালী লড়াইয়ের জন্য নেতাকর্মীদের প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

শনিবার (১৩ অক্টোবর) ঢাকা রিপোর্টার ইউনিটির সাগর রুনি মিলনায়তনে খালেদা জিয়ার মুক্তি, তারেক রহমানের ফরমায়েসী ও প্রতিহিংসামূলক সাজা বাতিল এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি হাবিব-উন-নবী খান সোহেলের মুক্তির দাবিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ফোরামের আয়োজনে এক প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি একথা বলেন।

নজরুল বলেন, ‘আজকে ভাবতে খুব কষ্ট হয় যে, স্বাধীনতার ৪৮ বছর পর আজ পর্যন্ত আমাদের এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে হয়। আমরা আজ পর্যন্ত ঠিক করতে পারলাম না নির্বাচনকালীন সরকার কেমন হবে। আজ পর্যন্ত আমরা একটা গণতান্ত্রিক পরিবেশে জীবনযাপনের পন্থা বাহির করত পারলাম না। স্বাধীনতা যুদ্ধে লক্ষ লক্ষ যেসব মানুষ জীবন দিয়েছে। কথায় কথায় যাদেরকে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করি। তাদের আত্মা যে কষ্ট পাচ্ছে এটা বুঝিনা।’

তিনি বলেন, ‘নেতাদের গ্রেফতার করে বা তাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে যদি রাজনীতি বন্ধ করা যেত, লড়াই সংগ্রাম বন্ধ করা যেত। তাহলে দুনিয়াতে কোনো পরিবর্তন হতো না। কতো স্বৈরাচার, কতো ফ্যাসিস্ট সরকার এই দুনিয়াতে এসেছে। তারা যদি এই রকম অত্যাচার, নির্যাতন করে টিকে যেতে পারতো। তাহলে কখনো কোথাও আর গণতন্ত্র ফিরে আসতো না। ইতিহাস বলে স্বৈরাচারি সরকার যতো ক্ষমতাবানই হোক তাকে জনগণের সামনে নত হতে হয়, পরাজিত হতে হয়। এই সরকারেরও পরাজয় অবসম্ভাবী।’

বিএনপির এই নীতিনির্ধারক বলেন, ‘ফেসবুকে একটা ছবি দেখলাম। জার্মানির একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশকে স্বৈরাচারি রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দিয়েছে। এটার প্রেক্ষিতে এরশাদ সাহেব প্রধানমন্ত্রীকে বলছেন- আমি স্বৈরাচার ছিলাম কিন্তু আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাইনি। আমাদের দেশে যারা এই ধরণের স্বৈরাচারের স্বীকৃতি নিয়ে আসেন তাদের উদ্দেশ্যে একটি কথায় বলতে চাই মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে যদি সত্যিই ধারণ করেন তাহলে তাহলে মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা গণতন্ত্রকে অবাধে চলতে দিন। তাকে রুদ্ধ করার চেষ্টা করবেন না। কারণ যে কোনো শাস্তির জন্য রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা প্রস্তুত থাকেন। শাস্তির পরিবেশ যেন না থাকে সেই জন্য লড়াই সংগ্রাম করেন।’

এসময় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি- আপনারা আগামী দিনে গণতন্ত্রের জন্য শক্তিশালী লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত হবেন। ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে আমরা এদেশে মহান মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা গণতন্ত্রকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করবো।’

নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘আওয়ামী লীগের নেতারা সন্ত্রাসী দল হিসেবে বিএনপির নিবন্ধন বাতিলের বিষয়ে কথা বলেছেন। কিন্তু জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার জন্য লন্ডনে আজকের প্রধানমন্ত্রীকে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী তখন বলেছিলেন- না না, আমরা একটা রাজনৈতিক দল হয়ে আরেকটা দলকে কিভাবে নিষিদ্ধ করব।’

তিনি বলেন, ‘২১ শে আগস্টের সময় বিএনপি ক্ষমতায় থাকায় সন্ত্রাসী দল হিসেবে বিএনপির যদি নিবন্ধন বাতিল হয় তাহলে বোমা হামলা শুরু হয়েছিল আওয়ামী লীগের সময়। তাদের সময় উদীচীর অনুষ্ঠানে রমনায় বোমা হামলা হয়েছিল। লগি বৈঠা দিয়ে সন্ত্রাসী কায়দায় পিটিয়ে পল্টনে মানুষ হত্যা করেছিল আওয়ামী লীগ। তাদের নিবন্ধন থাকে কিভাবে।’

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারাবাস প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়া তিন বারের প্রধানমন্ত্রী। যদি একবারও প্রধানমন্ত্রী না হতেন। তাহলে তিনি হতেন সাবেক সেনাপ্রধানের স্ত্রী। স্বাধীনতার ঘোষকের স্ত্রী। এদেশের প্রথম নির্বাচিত প্রেসিডেন্টের স্ত্রী। যথেষ্ট সম্মানের সঙ্গে তিনি বসবাস করতে পারতেন। তার বাড়িটাও কেড়ে নেয়া হতো না। কারাগাতে তাকে অত্যাচার নির্যাতনও করা হতো না। তিনি বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মতো এমন মানুষ বিশ্বে খুজে পাওয়া যাবেনা। যার বাবা সাবেক প্রেসিডেন্ট আর মা তিন বারের প্রধানমন্ত্রী। এরকম একজন ভাগ্যের অধিকারি মানুষের কোনো কিছু না হলেও তো তাকে মানুষ সম্মান করতো শহীদ জিয়ার পুত্র হিসেবে, খালেদা জিয়ার পুত্র হিসেবে। মানুষের সম্মান নিয়ে শুখে শান্তিতে বসবাস করতে পারতেন। কিন্তু তারা এটা করেন নি। করেন নি আমাদের জন্য। জনগণের জন্য। দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য। খালেদা জিয়া রাজনীতিতে এসেছেন দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য। এদেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করার জন্য। তারেক রহমান রাজনীতিতে এসেছেন তার মরহুম পিতা যে স্বপ্ন দেখেছেন তা বাস্তবায়নের জন্য। তার মা যে লড়াই করেছেন তা সম্পন্ন করার জন্য। কিন্তু এই সরকারের পছন্দ হয়নি। এই সরকার তারেক রহমানের নামই শুনতে পারে না।’

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি হাবিব-উন-নবী খান সোহেল এর মামলার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘কেউ বলে তার বিরুদ্ধে ৪০০ মামলা, কেউ বলে ৬০০ মামলা। মামলা কোনো ইয়ার্কির বিষয় নাকি। মানে ইচ্ছা হল আর মামলা করে দিলেন। ইয়ার্কির বিষয় না হলে একজন মানুষের নামে সাড়ে ছয়শ মামলা হল কিভাবে।’ তিনি বলেন, ‘আজকের পত্রিকায় দেখলাম ঝিনাইদহের মহেশপুরে একজনের মৃত্যুর ৯ বছর পর তার নামে মামলা হয়েছে। শুধু মামলা হলেও মেনে নেয়া যায়। মামলা হয়তো ভুলে করে ফেলতে পারে। কিন্তু মামলার পর তার বিরুদ্ধে ৩ বছর ধরে তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে চার্জশিটও দেয়া হয়েছে।’

নজরুল বলেন, ‘কোনো লোকের বিরুদ্ধে যদি কোনো ফ্যাক্ট ছাড়াই মামলা করা যায়। তদন্ত করে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা যায়। তাহলে আর মামলা করতে অসুবিধা কোথায়।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডনে। কিন্তু রাজেন্দ্রপুরের এক গ্রামের মধ্যে বাসে আগুন দেয়া হয়েছে। সেই আগুন দেয়ার মামলায় তারেক রহমান আসামি হয়েছেন। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে যখন আমরা গুলশান অফিসে অবরুদ্ধ। তখন কুমিল্লায় একটি বাস পোড়ানো মামলায় আসামি হলেন খালেদা জিয়া। এখনো ওই মামলার আসামি হিসেবে জামিন না পেয়ে তিনি এখন জেলখানায় আছেন। লন্ডনে থেকে যদি রাজেন্দ্রপুরের গাড়ি পোড়ানো মামলার আসামি হতে হয়, আটক থেকে যদি কুমিল্লার গাড়ি পোড়ানো মামলায় আসামি হতে হয়। তাহলে আপনারা যে যেখানে আছেন মামলার আসামি থেকে রক্ষা পাওয়ার কোনো পথ নেই বলে মনে হয়।’

নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি কয়েকদিন ধরে বলতাম আসামিদের ধরতে কবরস্থানে পুলিশ মোতায়েন করা হোক। যারা মারা গেছে তাদের ওখানে পাওয়া যাবে। কিন্তু কয়েকদিন আগে আমাদের এক নেতা মন্টু কুমার দাসের নামে মামলা হয়েছে। তাকে তো আর কবরস্থানে পাওয়া যাবে না। আবার শ্মশানেও পাওয়া যাবেনা। তাকে তো পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘পুলিশ এসব গায়েবী মামলা করছে। আর সরকার তাতে উৎসাহ দিচ্ছে। যে কারণে এখন মামলা নিয়ে ইয়ার্কি করার সুযোগ পাচ্ছে। এই সরকারের দেয়া মামলার হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার একটাই মাত্র সম্ভাবনা আছে। সেটা হল আন্দোলন। সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে নামতে হবে। এই সরকারের পতন ঘটাতে হবে।’

আয়োজক সংগঠনের আহ্বায়ক আত্তারুজ্জামান বাচ্চুর সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সভায় বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদিকা সুলতানা আহমেদ, তাঁতীদলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু, জিনাফের সভাপতি লায়ন মিয়া মো. আনোয়ার প্রমুখ বক্তব্য দেন।