২১, অক্টোবর, ২০১৮, রোববার | | ১০ সফর ১৪৪০

তিতলি ও রেইনকোট

আপডেট: অক্টোবর ১৩, ২০১৮

তিতলি ও রেইনকোট

শুক্রবার সকাল। তিতলির কারণেই রেইনকোট নিতে বাধ্য হয়েছিলাম। তিতলি আসলেই অনেক দুষ্টু! এত সকালে এই দুষ্টুমিটা না করলেই কি হত না! ওর কারণেই ঘুম থেকে উঠতে ইচ্ছা করছিল না। এদিকে আবার অফিসে দেরি হয়ে যাচ্ছে। সাতসকালে গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি ঝরাচ্ছে তিতলি। না, এই তিতলি আমার বোনের মেয়ে নয়, সম্প্রতি ভারতের ওডিশা ও অন্ধ্রপ্রদেশে হানা দেয়া ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ের নাম।

শুক্রবার হওয়ায় ক্যাজুয়াল ড্রেসেই অফিসে গিয়েছিলাম। নেভি-ব্লু জিন্সের সঙ্গে ব্লাক কালারের টি-শার্ট আমার বরাবরই পছন্দ। সানগ্লাসটা চোখে দিয়ে যখন বাইকে কিক মারলাম তখন নিজেকে ইন্টারমিডিয়েটের ছাত্র মনে হচ্ছিল। যেদিকে তাকাই সব কিছুই রোমান্টিক মনে হয়। এ জন্যই বাইক চালাতে গিয়ে মাঝে মাঝে মনোযোগ হারিয়ে ফেলি। জীবনের জন্য যেটা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ।

যাহোক, নিরাপদেই অফিসে পৌঁছালাম। অফিস শেষে যখন বাসায় ফিরছিলাম তখন তিতলি যথেষ্ট দুর্বল হয়ে পড়েছে, বৃষ্টিও থেমে গেছে। অভ্যাস অনুযায়ী আয়াতুল কুরসি পড়ে বাজাজের পুরাতন বাইকের গিয়ারে ধাক্কা মারার আগে বৃষ্টির বন্ধু রেইনকোটটা পেছনের হ্যাংগারে ঝুলিয়ে নিতে ভুল করলাম না। ইদানিং বাইকটি একবারে স্টার্ট নিচ্ছে না। কয়েকবার কিক মারার পরেই তার ঘুম ভাঙে। অনেকটা আমার মতই।

গুলশান ১ হয়ে অলিগলি পথ পেরিয়ে কিছুক্ষণের মধ্যেই বাসায় পৌঁছালাম। নিরাপত্তার স্বার্থে বাইকে অতিরিক্ত তালা লাগিয়ে পার্কিং থেকে বাসায় উঠছিলাম। হঠাৎই মনে হল রেইনকোটটার কথা। বাইকের যেখানটায় ঝুলিয়ে রেখেছিলাম সেদিকে তাকিয়ে দেখি নেই! সেখানে ঝুলছে রেইনকোটের বাড়তি ফিতাটা। রাস্তার ঝাকুনিতে কখন এবং কোথায় যে পড়ে গেছে কিছুই বুঝতে পারিনি। ভীষণ রাগ হচ্ছিল এই তিতলির উপর। মনে মনে ভাবলাম, হায়রে তিতলি, শেষ পর্যন্ত আমার রেইনকোটটা নিয়েই ক্ষান্ত হইলি!

লেখক: মফিদুল হক তুষার

আহবায়ক, আলফাডাঙ্গা যুব উন্নয়ন সমিতি, ঢাকা