১৯, অক্টোবর, ২০১৮, শুক্রবার | | ৮ সফর ১৪৪০

নড়াইলবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ ‘শেখ রাসেল সেত’ উদ্বোধনের অপেক্ষায়

আপডেট: অক্টোবর ১১, ২০১৮

নড়াইলবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ ‘শেখ রাসেল সেত’ উদ্বোধনের অপেক্ষায়

উজ্জ্বল রায়, নড়াইল প্রতিনিধি: প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের মধ্যদিয়ে নড়াইলবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ ‘শেখ রাসেল সেতু’ উদ্বোধনের অপেক্ষায়-১৪১ মিটার দৈর্ঘ্য মূল সেতুর বাইরে দু’পাশে ফ্লাইওভারের মতো দেখতে ভায়াডাক্টের দৈর্ঘ্য ২৩৮ মিটার। সেতুর প্রস্থ ১৮ ফুট। দুই পাশে অ্যাপ্রোচ সড়ক আছে ৪৩১ মিটার। ঢাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স এমবিইএল-ইউডিসি (জেভি) সেতুটি নির্মাণকাজ করেছে।

সেতুটি নির্মাণকাজের সময়সীমা ২০১৭ সালের জুন পর্যন্ত থাকলেও নির্ধারিত সময়ের তিনমাস আগেই নির্মাণ কাজ শেষ হয়। তবে জনগণের চলাচলের সুবিধার্থে উদ্বোধন না করেই ২০১৭ সালের ২৬ মার্চ থেকেই চলাচল শুরু হয়। নড়াইলের চাঁচুড়ি বাজারের ব্যবসায়ী আফসাল হোসেন ও ওমর ফারুক জানান, নড়াইল ফেরিঘাটে ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকে যাত্রীদের নৌকায় পারাপার হতে সময় এবং অতিরিক্ত টাকা গচ্ছা যেতো। নৌকা চালকদের হাতে প্রতিনিয়ত মানুষ অপমান-অপদস্থ হতে হয়েছে। সেতুটি নির্মাণ হওয়ায় সব সমস্যার সমাধান হয়েছে। কালিয়া ও নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলাসহ পার্শ্ববর্তী জেলার লোকজন খুব সহজেই জেলা শহরে যাতায়াত করতে পারে। নড়াইলবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত চিত্রা নদীর ওপর নির্মিত ‘শেখ রাসেল সেতু’র উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সেতুটির উদ্বোধন করবেন তিনি। জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ভিডিও কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হবে। নড়াইলের স্থানীয় সরকার বিভাগ (এলজিইডি) নড়াইল অফিস সূত্রে জানা গেছে, নড়াইল শহরের প্রাণকেন্দ্র সাবেক ফেরিঘাটে একটি সেতু নির্মাণের দাবি ছিল দীর্ঘদিনের। গণমানুষের দাবির প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) তত্ত্বাবধায়নে ২৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০১৫ সালের ৩০ এপ্রিল সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। নড়াইল শহরের মহিষখোলা এলাকার রাজীব জামান রাজু নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় চাকরি করেন। নিয়মিত জেলা শহর থেকে নড়াইলের লোহাগড়ায় যাতায়াত করেন। সেতুটি নির্মাণের আগে যে অসহনীয় দুর্ভোগ ছিল, এখন সবকিছুর থেকেই মানুষ মুক্তি পেয়েছে বলে তিনি জানান। কারণ সেতুটি নির্মাণ হওয়ায় শহর থেকেই এখন যানবাহনে নির্দিষ্ট গন্তব্যে চলাচল করা যায়।

নড়াইলের জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক জেলা পরিষদের প্রশাসক জানান, তিনি জেলা পরিষদের প্রশাসক থাকাকালীন সেতুটি নির্মাণের জন্য কাজ চালিয়ে যান। সেতুটি নির্মাণ হওয়ায় তিনি নড়াইল জেলা বাসীর পক্ষ থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে অবহেলিত জেলার উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন। নড়াইলের স্থানীয় সরকার বিভাগ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী বিধান চন্দ্র সোমদ্দার, আমাদের নড়াইল প্রতিনিধি উজ্জ্বল রায়কে জানান, বলেন, নবগঙ্গা নদীর ওপর নির্মিত শেখ রাসেল সেতুটি প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের মধ্যদিয়ে নড়াইলবাসীর দীর্ঘদিনের একটি দাবি পূরণ হতে চলেছে। এই সেতুর নির্মাণের ফলে শুধু নড়াইল জেলা নয়, পার্শ্ববর্তী জেলার লাখ লাখ মানুষ উপকৃত হবে। পার্শ্ববর্তী জেলা, যশোর, সাতক্ষীরাসহ পাশের জেলার মানুষ এই সেতুর ওপর দিয়ে ভাটিয়াপাড়া, মাওয়া সড়ক দিয়ে খুব দ্রুত সময়ে রাজধানীতে পৌঁছাতে পারবেন।