২১, অক্টোবর, ২০১৮, রোববার | | ১০ সফর ১৪৪০

রেখে চলে গেল প্রেমিক, হোটেলের ভিতর বন্ধু, অতঃপর

আপডেট: অক্টোবর ১১, ২০১৮

রেখে চলে গেল প্রেমিক, হোটেলের ভিতর বন্ধু, অতঃপর

প্রেমের টানে দিনাজপুর থেকে কুয়াকাটায় এসে প্রেমিক শহিদুলের বন্ধুদের হাতে গণধর্ষণের শিকার হলেন এক তরুণী। বন্ধুর প্রেমিকাকে রাতভর হোটেলে রেখে ধর্ষণ শেষে তুলে দেয়া হলো তার আরেক বন্ধু ও সহযোগীদের হাতে।

নির্যাতিত তরুণী (৩০) একজন গার্মেন্ট কর্মী (৩০)। পটুয়াখালীর কুয়াকাটার দু’টি আবাসিক হোটেলে দু’দিন আটকে রেখে কয়েক দফায় তাকে ধর্ষণ করা হয়।

কাল বিকেলে ওই তরুণীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় একটি করা মামলা হয়েছে। এ ঘটনার মূল হোতা প্রেমিক শহিদুল পালিয়ে গেলেও তার বন্ধু ও ধর্ষণে জড়িত ৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

আটককৃতরা হলো- শহিদুলের বন্ধু আলমগীর হোসেন, আলমগীরের বন্ধু খলিলুর রহমান, রুবেল চৌকিদার, যমুনা গেস্ট হাউসের ম্যানেজার সাইফুল ইসলাম এবং বেঙ্গল গেস্ট হাউসের ম্যানেজার সাইদুর রহমান সুমন।

আজ (৯ অক্টোবর, মঙ্গলবার) দুপুরে পটুয়াখালীর পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ মইনুল হাসান এ ঘটনায় মহিপুর থানায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান।

তিনি জানান, দিনাজপুরের বিরল থানার দৌলতপুর গ্রামের ওই তরুণী রোববার সকালে হামীম পরিবহনের একটি বাসযোগে ঢাকা থেকে কলাপাড়ায় আসেন।

কলাপাড়া থেকে রাত সাড়ে ৮টার দিকে কুয়াকাটায় পৌঁছে প্রেমিক শহিদুলকে খুঁজে নেন তরুণী। পরে প্রেমিকাকে এক বন্ধুর বাসায় নিয়ে যায় শহিদুল। কিন্তু ওই বন্ধু তাদের বাড়িতে স্থান না দিয়ে তাড়িয়ে দেয়।

পরে শহিদুল কৌশলে ওখান থেকে সটকে পড়ে। যাওয়ার আগে তার বন্ধু আলমগীরকে বলে যায় প্রেমিকাকে যেন বাসে তুলে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়া হয়।

কিন্তু বন্ধুর প্রেমিকাকে বাসে তুলে না দিয়ে কৌশলে আবাসিক হোটেল যমুনা গেস্ট হাউসের ১০ নম্বর কক্ষে নিয়ে আটকে রাখে আলমগীর। সেখানে মধ্যরাতে আলমগীর ও হোটেল ম্যানেজার সাইফুল ইসলাম তরুণীকে হত্যার ভয় দেখিয়ে কয়েক দফা ধর্ষণ করে। সেখানে রাতভর আটকে রাখা হয় তরুণীকে।

সোমবার সকাল ৭টার দিকে আলমগীর তার বন্ধু খলিলুর রহমানের সহায়তায় তরুণীকে বেঙ্গল গেস্ট হাউসে নিয়ে যায়। ওই হোটেলেরও ১০ নম্বর কক্ষে আটকে রেখে তরুণীকে আবারও ধর্ষণ করা হয়।

পরে খবর পেয়ে তরুণীকে উদ্ধার করে মহিপুর থানা পুলিশ।সেই সঙ্গে ধর্ষণে জড়িত ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে মূল হোতা প্রেমিক শহিদুল পলাতক।

ধর্ষণের অভিযোগে আটক ৫ জনের মধ্যে একজনের বাড়ি লতাচাপলী ইউনিয়নের আজিমপুর ও চারজনের বাড়ি মহিপুরের বিপিনপুর গ্রামে বলে জানান পটুয়াখালী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মইনুল হাসান।