২২, অক্টোবর, ২০১৮, সোমবার | | ১১ সফর ১৪৪০

সর্বাধিক নারী এবার মনোনয়নপ্রত্যাশী

আপডেট: অক্টোবর ৭, ২০১৮

সর্বাধিক নারী এবার মনোনয়নপ্রত্যাশী

নির্বাচনের মাঠে নারী প্রার্থীদের ছড়াছড়ি। আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে গত কয়েকটি জাতীয় নির্বাচনের তুলনায় ব্যাপক সংখ্যক নারী এবার রাজনৈতিক দলগুলোর মনোনয়নপ্রত্যাশী হয়েছেন ।

দেশের বিভিন্ন আসনেই কয়েকশ’ নারী প্রার্থী নির্বাচনী গণসংযোগ ও প্রচার-প্রচারণা শুরু করেছেন। বেশিরভাগই দিন-রাত নির্বাচনের মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। তাদের পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুনে ছেয়েছে অনেক এলাকাই। কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে এসব নারী প্রার্থীর শোডাউন, উঠান বৈঠক এবং নির্বাচনী সভা-সমাবেশও নির্বাচনের মাঠে বাড়তি উত্তাপ ছড়াচ্ছে।

বিশেষ করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও সরকারবিরোধী প্রধান দল বিএনপি থেকে এবার সম্ভাব্য নারী প্রার্থীর সংখ্যা অধিক। আওয়ামী লীগ থেকে শতাধিক নারী নির্বাচনের মাঠে তৎপর রয়েছেন। বিএনপি থেকে অর্ধশতাধিক নারী দলের মনোনয়ন চেয়ে মাঠ দাপাচ্ছেন। জাতীয় পার্টিসহ অন্যান্য দল থেকেও কমবেশি নারী মনোনয়নপ্রত্যাশী রয়েছেন।

এসব নারী মনোনয়নপ্রত্যাশীর মধ্যে সিংহভাগই সংশ্নিষ্ট দল ও সহযোগী-ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের কেন্দ্রীয় অথবা তৃণমূলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃত্বে রয়েছেন। দীর্ঘদিন রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার পর এসব নারীনেত্রী এবার দলের কাছে এমপি মনোনয়নপ্রত্যাশী হয়েছেন। যাদের মধ্যে অনেকে আবার বর্তমান সংসদের সরাসরি নির্বাচিত অথবা সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি হিসেবেও রয়েছেন। সাবেক এমপিদের বেশিরভাগই আবার নিজ নিজ দলের মনোনয়ন চাইছেন। স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি তথা সিটি করপোরেশন, জেলা ও উপজেলা পরিষদ এবং পৌরসভার চেয়ারম্যান, মেয়র ও কাউন্সিলর পদে দায়িত্ব পালন করছেন- এমন বেশ কয়েকজন নারীও এমপি হওয়ার প্রত্যাশা থেকে মাঠে নেমেছেন। এ ছাড়া দলীয় রাজনীতির বাইরেও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সমমনা সংগঠনের নেতৃত্বে থাকা নারীরাও নিজ নিজ মতাদর্শের দলগুলো থেকে প্রার্থী হতে চাইছেন। এ ক্ষেত্রে আইনজীবী, চিকিৎসক, শিক্ষক, ব্যবসায়ী এবং চলচ্চিত্র, নাট্য ও সঙ্গীত জগতের তারকাসহ সংস্কৃতিকর্মীদের প্রাধান্য দেখা গেছে।

অতীতের কয়েকটি সংসদের তুলনায় বর্তমান দশম জাতীয় সংসদের সরাসরি নির্বাচিত নারী প্রতিনিধির সংখ্যাও বেড়েছে। এই সংসদে সরাসরি নারী এমপির সংখ্যা ২২ জন। যার মধ্যে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ থেকে ১৯ জন, সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি থেকে তিনজন ও জাসদ থেকে একজন নারী নির্বাচিত হয়েছেন। বর্তমান সংসদের সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ এবং স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী- এ তিনজনই নারী। এর বাইরে ৫০টি সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপিও রয়েছেন।

নারী মনোনয়নপ্রত্যাশীরা বলছেন, নারীর ক্ষমতায়ন বৃদ্ধিতে সরকারসহ সব মহলের মধ্যেই ইতিবাচক মনোভাব রয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোও এ বিষয়ে আন্তরিক। এ ছাড়া শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি এবং সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের কারণে নারীদের মধ্যে রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার বিষয়েও আগ্রহ বেড়েছে। এ ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সর্বস্তরের কমিটিগুলোয় নারী নেতৃত্ব বৃদ্ধির নির্দেশনাও নারীদের জন্য সহায়ক হয়েছে। মূলত এসব বিষয়ই নারীদের অন্য নির্বাচনগুলোর মতো সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার বিষয়েও উৎসাহ জোগাচ্ছে। আর এসব কারণেই যত দিন যাচ্ছে, ততই নির্বাচনে নারী প্রার্থীর সংখ্যাও বাড়ছে।

আওয়ামী লীগের সূত্রগুলো বলছে, ক্ষমতাসীন দল হওয়ার সুবাদে অন্যান্য সেক্টরের মতো নারীদের মধ্যেও জাতীয় নির্বাচনে মনোনয়নপ্রত্যাশী হওয়ার বিষয়ে আগ্রহ বেশি। টানা দুই মেয়াদে ক্ষমতাসীন হওয়ায় নারীরাও অধিক সংখ্যায় এই দলের রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছেন। দলের সহযোগী সংগঠনগুলোতেও নারী নেতৃত্বের সংখ্যা ক্রমে বাড়ছে, যাদের অনেকে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হয়ে সরকারের কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে চাইছেন। ফলে আওয়ামী লীগে নারী মনোনয়নপ্রত্যাশীর সংখ্যা আগের নির্বাচনগুলোকেও ছাড়িয়ে গেছে।

বিএনপি সূত্রগুলো বলছে, দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপিতে আন্দোলন-সংগ্রাম ছাড়াও দলের যে কোনো দুঃসময়ে নেপথ্যে ভূমিকা পালন করেছেন দলের অনেক নারীনেত্রী। বিশেষ করে মামলা-হামলায় জর্জরিত নেতারা আত্মগোপনে চলে গেলে নারীদেরই রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে অবতীর্ণ হতে হয়েছে। আবার বিগত দিনে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কঠিন সময়ে এসব নারীনেত্রীর অনেকেই তাকে সঙ্গ দিয়েছেন। জাতীয় নির্বাচন এগিয়ে আসায় এসব নারীনেত্রীই মূলত আগামী নির্বাচনে দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে মাঠে নেমেছেন।

অন্যান্য শ্রেণি-পেশার নেতৃত্বে থাকা নারীরা বলছেন, সরাসরি রাজনীতিতে না থাকলেও তারা নানাভাবে সমাজ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করছেন। এখন বৃহত্তর পরিসরে দেশ ও মানুষের জন্য কাজ করার আকাঙ্ক্ষা থেকেই তারা সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপ্রত্যাশী হয়েছেন। সরকারসহ সব রাজনৈতিক দলই যেহেতু নারীর ক্ষমতায়ন বৃদ্ধির কথা বলে থাকে, সেহেতু দলগুলো তাদের এই আকাঙ্ক্ষার প্রতি সম্মান দেখিয়ে দলীয় মনোনয়ন দেবে বলেই তাদের প্রত্যাশা।

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেছেন, আওয়ামী লীগ এ দেশের সর্ববৃহৎ ও জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল। এ কারণে সব নির্বাচনেই এই দল থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশীর সংখ্যা বেশি হবে- এটাই স্বাভাবিক। আর আওয়ামী লীগ সরকার ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নারীবান্ধব এবং নারীর ক্ষমতায়ন বৃদ্ধি ও নারী নেতৃত্ব সৃষ্টিতে তৎপর। নারীদের কল্যাণে তাদের অবদানও সবচেয়ে বেশি। ফলে নারীরা যত বেশি করে আওয়ামী লীগের রাজনীতি ও আদর্শের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে, ততই অন্য নির্বাচনগুলোর মতো সংসদ নির্বাচনেও নারী মনোনয়নপ্রত্যাশীর সংখ্যা বাড়ছে। এসব মনোনয়নপ্রত্যাশীর যোগ্যতা ও নেতৃত্বের দক্ষতাকে বিবেচনায় এনে অধিকসংখ্যক নারী এবারও দলের মনোনয়ন পাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

জাতীয় নির্বাচনে নারীদের অংশগ্রহণের বিষয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান জানান, বিএনপি অনেক বড় রাজনৈতিক দল। এখানে নারীদের অংশগ্রহণও দিন দিন বাড়ছে। তারা আগের থেকে অনেক সক্রিয়। অন্যদিকে, নারীদের ক্ষমতায়ন ক্রমে বাড়ছে। রাজনীতি সেই ক্ষমতায়ন বাড়ানোর একটা অন্যতম ক্ষেত্র। এসব কারণে নারীরা তাদের কাজের মূল্যায়ন চায়। সংরক্ষিত আসন থেকে বের হয়ে তারা পুরুষদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রাজনীতি করার সুযোগ পেতে চায় বলে জাতীয় নির্বাচনে নারীদের অংশগ্রহণের মাত্রা বাড়ছে।