২২, অক্টোবর, ২০১৮, সোমবার | | ১১ সফর ১৪৪০

প্রিয়াঙ্কাকে নিয়ে রাষ্ট্রপতির ‘আক্ষেপ’! (ভিডিও)

আপডেট: অক্টোবর ৬, ২০১৮

প্রিয়াঙ্কাকে নিয়ে রাষ্ট্রপতির ‘আক্ষেপ’! (ভিডিও)

সরেস বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের জুড়ি মেলা ভার। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তার হাস্যরসপূর্ণ বক্তব্যে আমোদিত হয়েছেন সবাই। কিশোরগঞ্জের আঞ্চলিক ভাষার ব্যবহার তার বক্তব্যকে দেয় ভিন্নমাত্রা। ঢাবির ৫১তম সমাবর্তনে প্রধান অতিথির বক্তব্যেও সেই ধারা বজায় রাখলেন আবদুল হামিদ।

রাষ্ট্রপতি রসিকতা করে বলেছেন, ‘কয়েক মাস আগে প্রিয়াঙ্কা চোপড়া…প্রিয়াঙ্কা চোপড়াকে তো সবাই চেনেন। আমি যদিও বুড়া বয়সে চিনি, এই ছেলেদের তো না চেনার কোনো কারণ নেই। এই প্রিয়াঙ্কা চোপড়া রোহিঙ্গা ইস্যুতে ঢাকা আসছিলেন। বাংলাদেশে অন্য দেশের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী আসলে তারা বিভিন্ন পর্যায়ে দেখা করে সর্বশেষ রাষ্ট্রপতির কাছে বঙ্গভবনে আসেন। সবাই আসেন।’

তিনি বলেন, ‘আমার স্ত্রীকে বললাম এবার তো প্রিয়াঙ্কা চোপড়া আসবে। আসার একদিন আগে এই কথা বললাম- পরে শুনেছি সে (রাষ্ট্রপতির স্ত্রী) নাকি টেলিফোন করে প্রধানমন্ত্রীকে বলেছেন, প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার বঙ্গভবনে আসার কী দরকার!’

এর মধ্যেই রাষ্ট্রপতি বলে চলেন, ‘ইট ওয়াজ জাস্ট কন্সপাইরেসি, ষড়যন্ত্র। শেষ পর্যন্ত প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার বঙ্গভবনে আসা ক্যানসিল, তিনি আসেননি।’

‘প্রিয়াঙ্কা চোপড়া যাওয়ার কয়েক মাস পরে শুনলাম সে আমেরিকা গেছে, তার চেয়ে ১০ বছরের, ১০ বছরের না আরও বেশি ১২-১৪ বছরের নিক নামের ছেলেরে বিয়া করছে, আমেরিকা গিয়ে। আমি তো তার চেয়ে ৩০-৩৫ বছরের বড়। সে যদি ১২-১৩ বছর নিচে নামতে পারে তাহলে সে ৩০-৩৫ বছর উপরেও তো উঠতে পারত’ বলেই রাষ্ট্রপতিও হাসতে থাকেন। আর হাসির রোল পড়ে যায় উপস্থিত গ্র্যাজুয়েটদের মধ্যে।

এরপর তিনি বলেন, ‘এই ধরনের একটি সুযোগ নষ্ট, এটা সে (স্ত্রী) ঠিক করেনি। আসার পর যদি ঘটনা ঘটত অন্তত এই উপ-মহাদেশের একটা মেয়েকে সাত সমুদ্র তের নদী পার হয়ে সুদূর আমেরিকা যেতে নাও তো হতে পারত। সবই কপাল-ভাগ্য, কিছু করার নেই।’

আবদুল হামিদ বলেন, ‘কবে আমি বিয়া করছি…আজকে হিসাব অন্যভাবে বলবো- ১৭০ কোটি ২ লাখ ৯২ হাজার ৪০০ সেকেন্ড হয়ে গেছে। হঠাৎ বলতে পারবেন না সময় কতদিন হয়েছে। আসলে হয়েছে ৫৪ বছর দুদিন। এটা হওয়ার কারণ হলো কী- এ বাচুপানকে মোহাব্বতের মতো কম বয়সে বিয়া কইরা ফালাইছিলাম।’

তিনি বলেন, ‘৫৪ বছরে একটা মহিলা তো মোটামুটি আমার সবকিছুই বুইঝা ফেলছে। ভালো-খারাপ, কী করতে পারি না পারি। এটা কিন্তু তার কন্ট্রোলের ভেতরে। আমি যখন ৭/৮ বছর আগে স্পিকার ছিলাম, যখন আমি নারী নির্যাতন বিল পাস করি তখন আমি প্রধানমন্ত্রীকে বলেছিলাম, আপনি নারী নির্যাতন বিল পাস করছেন, ভালো কথা; কোন অসুবিধা নেই। পুরুষ নির্যাতন বিল পাস করাও তো প্রয়োজন।’

‘তিনি (প্রধানমন্ত্রী) বলেন, এটা এই মুহূর্তে প্রয়োজন নেই। পরে দেখা যাবে, যদি হয়; তবে করা হবে। ছয় বছর চলে গেছে এখনও কিন্তু করা হয়নি। প্রধানমন্ত্রী খবর-টবর রাখেন না, আসলে খালি আমার ঘরেই নয়, সারা বাংলাদেশেই পুরুষ নির্যাতন যে কিছু হচ্ছে না, এই কথাটা ঠিক নয়। এটা কিন্তু মারাত্মকভাবে হচ্ছে। ভুক্তভোগীরাই এটা টের পাচ্ছে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে এই সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়। লিখিত বক্তব্যের বাইরে স্বভাব-সুলভ মজার কথাবার্তায় সমাবর্তন প্রাঙ্গণ মাতিয়ে রাখেন রাষ্ট্রপতি।

এর আগে গত ২৯ সেপ্টেম্বর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) দশম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে রাষ্ট্রপতি রসিকতা করে বলেন, ‘দেখেন আমি খুব দ্রুত লিখিত বক্তব্যটি পাঠ করছি। দেরি হয়ে গেলে হেলিকপ্টার নিয়ে আর ফিরতে পারব না। পাঁচদিন ঘুইরা আইচি হাওড় এলাকায়, দুর্গম এলাকায়, অনুন্নত এলাকায়। রাজশাহী তো অনেক উন্নত এলাকা, তবে এখানে গরম আবার খুব বেশি। আজকে যেভাবে আপনারা হাতের ব্যায়াম করছেন, এই ব্যায়াম দেখে বেশি কথা বলার মতো সাহস আমার নাই। পত্রিকা আর খাতা দিয়া যে ব্যায়াম হচ্ছে (খাতা দিয়ে বাতাস করা), এটা ছাড়া আমি কিছু আর দেখছি না।’

গত ৭ ফেব্রুয়ারি যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে গ্র্যাজুয়েটদের উদ্দেশ্যে রসিকতা করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘দ্বিতীয় মেয়াদে আজ রাষ্ট্রপতি হয়েছি। এতে আমি খুশি হলেও তোমরা খুশি হতে পারোনি। কারণ বুড়া বাতিল না হলে তোমাদের পথ পরিষ্কার হচ্ছে না। বড় ভাইয়ের বিয়ে না হলে যেমন ছোট ভাই বিয়ে করতে পারে না—তেমনই ব্যাপার। তবে হতাশ হইয়ো না। বুড়া হয়ে গেছি আগামী পাঁচ বছর বাঁচবো কি-না ঠিক নাই।’

রাষ্ট্রপতি রসিকতা করে আরও বলেন, ‘যশোর অঞ্চলে এসে লিখিত বক্তব্যের বাইরে কথা বলতে ভয় পাই। কী বলতে কী বলে ফেলাই। কারণ এখানকার মানুষ শুদ্ধ ভাষায় কথা বলে।’

এছাড়া ২০১৪ সালের ৭ এপ্রিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৮তম সমাবর্তনে বক্তব্য দিতে গিয়ে রসিকতা করে রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য আবদুল হামিদ বলেন, ‘আপনারা জানেন যে আচার্য হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো সমাবর্তন অনুষ্ঠানে এটিই আমার প্রথম যোগদান। আরেফিন সিদ্দিক যেভাবে বললেন, জিল্লুর রহমান সমাবর্তনে যোগ দেওয়ার কয়েক দিন পরই ইন্তেকাল করেছেন। এরপর থেকে আমার মনের অবস্থা যে কী, সেটা আপনারা ভালোই বুঝতে পারছেন।’