১৫, অক্টোবর, ২০১৮, সোমবার | | ৪ সফর ১৪৪০

রাষ্ট্রপতির কণ্ঠে চরম সত্য

আপডেট: অক্টোবর ৬, ২০১৮

রাষ্ট্রপতির কণ্ঠে চরম সত্য

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ প্রায়ই নানা ধরনের কঠিন এবং প্রয়োজনীয় কথা একটু কৌতুকের সুরে বলে থাকেন। গণমানুষের নেতা হিসেবে এটা তার চিরায়ত রূপ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫১তম সমাবর্তনে তিনি নিজের স্বাভাবিক ঢংয়ে আবারও আমাদের রাজনীতির করুণ চিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন।

সমাবর্তন অনুষ্ঠানে আচার্যের ভাষণে তিনি বলেছেন: ‘গরিবের বউ নাকি সবার ভাউজ। রাজনীতি সাবজেক্ট হয়ে গেছে গরিবের বউয়ের মতো। এখানে যে কেউ যেকোনো সময় ঢুকে পড়ে। আমি যদি বলি ফিজিক্সের টিচার হবো তাহলে হাসির পাত্র হওয়া ছাড়া কিছুই হবো না। কিন্তু রাজনীতি গরিবের ভাউজ। গ্রামে গরিবের বউকে সবাই ভাবী বলে।’

শিক্ষার্থীদের চাকরি শেষে রাজনীতিতে না এসে, কলেজ জীবন থেকেই রাজনীতিতে প্রবেশের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন: ‘চাকরি করে কেউ ৫৯ বছর ৬০ বছর যা করার করে ফেলেছে। এরপর এসে বলে রাজনীতি করবো। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ডিআইজি, আইজিরাও রাজনীতিতে আসেন করে। যে পুলিশ তোমার বাহিনী দিয়ে আমাকে কতো বারি দিয়েছো, সেই তুমি আবার আমার সাথে আসছো রাজনীতি করতে। আর শিল্পতি ব্যবসায়ীরাতো আছেই। কিন্তু যারা রাজনীতি করবেন তাদের স্কুল না হোক, কলেজ জীবন থেকেই শুরু করে আসতে হবে।’

আমরা রাষ্ট্রপতির এই কথা শতভাগ সমর্থন করি। এত সহজ করে রাজনীতির করুণ চিত্র তুলে ধরে গুণগত মান ধরে রাখার আহ্বান জানানোয় আমরা রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদকে অভিনন্দন জানাই।

একইসঙ্গে আমরা মনে করি, একদিনে রাজনীতির এমন বেহাল দশা হয়নি। বরং যুগের পর যুগ কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্র সংসদ নির্বাচন বন্ধ রেখে রাজনীতির স্বাভাবিক গতি-প্রকৃতি বদলে দেয়া হয়েছে। আর শূন্যস্থান পূরণ করেছে ব্যবসায়ী, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, পুলিশ, আমলারা। এ কারণেই রাজনীতি সবার কাছে ‘গরীবের বউ’ হয়ে গেছে।

রাজনীতির এই করুণ দশা থেকে উত্তরণের পথ এখনও বন্ধ হয়ে যায়নি বলেই আমরা মনে করি। এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫০তম সমাবর্তনে রাষ্ট্রপতি ডাকসু’সহ দেশের সকল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচনের বিষয়ে আলোকপাত করেছিলেন। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করলে আবার সেই হারানো গৌরব ফিরে পেতে পারে আমাদের রাজনীতি। এবারও রাষ্ট্রপতি ডাকসু নির্বাচনের আহ্বান জানিয়েছেন। যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে সেটা যেনো পরিণতি পায় সেজন্য শিক্ষার্থীদের সজাগ ও সক্রিয় থাকতে বলেছেন।

আমরা রাষ্ট্রপতির আহ্বান মেনে সরকারি দল, বিরোধী দল এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সবাইকে রাজনীতির গুণগত মান রক্ষায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি। দেশের এক সময়কার ‘সেকেন্ড পার্লামেন্ট’ খ্যাত ডাকসুসহ ছাত্র সংসদগুলো পুনরায় নির্বাচিত প্রতিনিধিদের পদচারণায় মুখর হলে দেশ নেতৃত্বশূন্য হওয়ার কোনো শঙ্কা থাকবে না বলে আমরা মনে করি।