২২, অক্টোবর, ২০১৮, সোমবার | | ১১ সফর ১৪৪০

কোটা বাতিলের প্রতিবাদে ফের শাহবাগে আন্দোলন

আপডেট: অক্টোবর ৬, ২০১৮

কোটা বাতিলের প্রতিবাদে ফের শাহবাগে আন্দোলন

মন্ত্রিপরিষদের কোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহাল রাখার দাবিতে রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেছেন মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডসহ কয়েকটি সংগঠনের সদস্যরা।

সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতা-কর্মীরা শনিবার (৬ অক্টোবর) বেলা পৌনে তিনটার দিকে শাহবাগের মোড় অবরোধ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন উপলক্ষে শুক্রবার দিবাগত রাত একটা থেকে আজ বেলা তিনটা পর্যন্ত অবরোধ কর্মসূচি স্থগিত করা হয়।

সমাবেশে মানিকগঞ্জ, নেত্রকনা, রাজশাহী, বরিশাল, শেরপুর, যশোরসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা যোগ দিয়েছে। কোটা বাতিলের প্রতিবাদে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের এ সমাবেশ সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত চলবে।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, ‘দেশের স্বাধীনতার সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের অবদান ওতপ্রোতভাবে জড়িত। মুক্তিযোদ্ধাদের রক্তের বিনিময়ে দেশ স্বাধীন হয়েছে। তাই যতদিন দেশ থাকবে ততদিন দেশের চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের ৩০ শতাংশ কোটা বহাল রাখতে হবে।’

মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা রাজাকার আলবদর আলসামসের সন্তানদের চাকরির সুযোগ সৃষ্টি করে দিচ্ছেন বলেও মন্তব্য করেন বক্তারা।

অবরোধের কারণে এই পথে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়েছে।

মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল ইসলাম বলেন, তাঁরা সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট ঘোষণা না আসা পর্যন্ত কর্মসূচি অব্যাহত রাখবেন।

গত সপ্তাহে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে নিয়োগে কোটা বাতিলের প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ। শিগগির প্রজ্ঞাপন জারি হবে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ সফিউল আলম।

এরপরই বুধবার সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের প্রতিবাদে রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা। তাদের দাবি করেন, ৩০ শতাংশ কোটা বহাল রাখতে হবে।

৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহাল রাখা ছাড়াও তাঁদের অন্য দাবিগুলো হলো মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সাংবিধানিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের জন্য সুরক্ষা আইন, রাজাকারের সন্তানদের সরকারি চাকরিতে নিয়োগ না দেওয়া ও তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা।

বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে প্রায় শ’খানেক আন্দোলনকারী একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশ থেকে শাহবাগে মোড়ে যান। পরে সেখানে সবদিকের রাস্তা বন্ধ করে তারা সড়কে অবস্থান নেন।

পরের দিন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জাতীয় জাদুঘরের সামনে ১ম ও ২য় শ্রেণী সরকারি চাকরিতে কোটা পুরাপুরি বাতিলের প্রতিবাদে আদিবাসী কোটা সংরক্ষণ পরিষদ সমাবেশ করে।

সমাবেশে গণসংসহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জুনায়েদ সাকী বলেন, সরকার খুব দায়িত্বহীনভাবে ও স্বেচ্ছাচারিতা করে পুরো কোটা বাতিল করেছে। কারণ যারা কোটা সংস্কারের জন্য আন্দোলন করেছিলেন তারা কোটা বাতিল চাননি।

সেখানে আন্দোলনকারীরা বলছেন, মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে গঠিত কোটা পর্যালোচনা কমিটির সিদ্ধান্ত অত্যন্ত দুঃখজনক। এটা স্বাধীনতাবিরোধীদের কাছে হেরে যাওয়ার শামিল।