১৫, অক্টোবর, ২০১৮, সোমবার | | ৪ সফর ১৪৪০

সিনিয়রদের ছাড়াই জিম্বাবুয়ে সিরিজ, কেমন খেলবে বাংলাদেশ?

আপডেট: October 6, 2018

সিনিয়রদের ছাড়াই জিম্বাবুয়ে সিরিজ, কেমন খেলবে বাংলাদেশ?

দলের সিনিয়র ও সেরা তারকারা ইনজুরির জন্য ছিটকে পড়েছেন দল থেকে। দেশসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান মাঠে নামতে পারবেননা চলতি বছর। তাঁর আঙুল আর কখনও শতভাগ ফিট হবেনা, এমন খবর প্রকাশের পর মাথায় বাজ পড়েছে দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের উপর। অন্যদিকে ওপেনার তামিম ইকবালসহ মুশফিকও খেলতে পারবেননা অন্তত কয়েক সপ্তাহ। টাইগার অধিনায়ক মাশরাফির চোটও গুরুতর। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খেলবেন কীনা, তা এখনও নিশ্চিত নয়। ফলে নতুন এক পরীক্ষার সম্মুখীন হতে যাচ্ছে টিম বাংলাদেশ।

অপেক্ষাকৃত নবীন ও অনভিজ্ঞরাই খেলবেন সফরকারীদের বিপক্ষে। একাদশ নিশ্চিত হতে আরো সময় লাগবে। তবে পুরনোদের মধ্যে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের কাঁধেই থাকবে অনেক বড় দায়িত্ব। মাশরাফি না খেললে ওয়ানডেতে অধিনায়কত্বও করতে হতে পারে তাঁকে। পাশাপাশি নতুনদের উজ্জীবিত করে সামনে এগিয়ে নেয়ার কাজটাও ন্যাস্ত হবে তাঁর উপর।

এছাড়া ইমরুল, লিটন, সৌম্য সরকার, মিথুন, শান্ত ও মুমিনুলের ব্যাটের উপর নির্ভর করতে হবে টাইগারদের। মিডল অর্ডারে মিরাজকে নিতে হবে বাড়তি দায়িত্ব। ওপেনিংয়ে এই সিরিজেও তামিম ইকবালের অভাব বোধ করবে বাংলাদেশ। সেইসাথে মিডল অর্ডারে সাকিব-মুশফিকের গুরু দায়িত্ব পালন করতে হবে ব্যাটসম্যানদের। মোসাদ্দেক-আরিফুলরা সুযোগ পেলে তাদেরও ভূমিকা রাখতে হবে দলের প্রয়োজনে। চাপের মুখে ব্যাটিং ব্যর্থতাটা সম্প্রতি যথেষ্ট চিন্তার কারণ হয়ে দেখা দিয়েছে। সেদিক থেকে অভিজ্ঞ সেনানী মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের ব্যাটিংটা খুব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়াবে এই সিরিজে। অবশ্য তিনি অনেক দিন ধরেই দলের পরীক্ষিত ব্যাটসম্যান। পার্টটাইম বোলার হিসেবে তাঁর অফস্পিনটাও যথেষ্ট কার্যকরী।

অন্যদিকে বোলিংয়ে টাইগারদের মূল ভরসা হবেন কাটার মাস্টার মোস্তাফিজুর রহমান। এশিয়া কাপে তাঁর দারুণ পারফর্ম্যান্সটা খুব ইতিবাচক। এই সিরিজেও ফিজকে একই ভূমিকায় পেতে চাইবে বাংলাদেশ। মাশরাফি খেললে সেটা হবে দলের জন্য প্লাস পয়েন্ট। সেক্ষেত্রে ম্যাশের অধিনায়কত্ব ও বোলিং টাইগারদের উজ্জীবিত করবে পুরোদমে। বল হাতে এখনও তাঁর গুরুত্ব অপরিসীম। লোয়ার অর্ডারে ব্যাটিংসহ অধিনায়কত্ব ও ব্যাক্তিত্ব আমলে নিলে মাশরাফিই আমাদের নিউক্লিয়াস। সুতরাং, তাঁকে মাঠে পাওয়ার জন্য যে সারাদেশ উদগ্রীব থাকবে, তা বলাই যায়।

নতুন বলে আরেক বিশ্বস্ত বোলার রুবেল হোসেন। গতি আর সুইং মিলিয়ে তাঁর কার্যকারীতা প্রমাণ হয়েছে এশিয়া কাপেও। এছাড়া দলের প্রয়োজনে শুরুর দিকে আক্রমণে আসতে পারেন মেহেদি হাসান মিরাজ। নিয়ন্ত্রণ আর চাপ সামলানোতে দারুণ পারদর্শী মিরাজ। হয়তো প্রথম ব্রেক থ্রু আনার কাজটাও তাঁকে করতে হবে এই সিরিজে। এছাড়া স্পিনার হিসেবে নাজমুল ইসলাম অপুও হতে পারেন ভালো অস্ত্র। পার্ট টাইম বোলার হিসেবে দলকে নেতৃত্ব দিতে হবে মাহমুদুল্লাহ ও সৌম্য সরকারকে। ম্যাশ না খেললে, আবু হায়দার রনি হতে পারেন তাঁর সম্ভাব্য বিকল্প।

জিম্বাবুয়ে প্রতিপক্ষ হিসেবে খুব একটা প্রতাপশালী নয় এখন। তারপরও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কোনো দলকেই অবহেলা করার সুযোগ নেই। মাসাকাদজা, চিগুম্বুরা, টেইলররা নিজেদের দিনে ভালো করার যথেষ্ট ক্ষমতা রাখেন। সেদিক থেকে মাঠে ভালো পরীক্ষা দিতে হবে টাইগারদের। পাশাপাশি সিনিয়রদের অনুপস্থিতিতে নিজেদের মেলে ধরার মঞ্চ হিসেবেও এই সিরিজ হতে যাচ্ছে এক অভিনব অধ্যায়। লিটন, সৌম্য, মিরাজ, ইমরুল, মোস্তাফিজদের কাঁধে তাই অনেক বড় দায়িত্ব। আশার বিষয় হল, সম্প্রতি সময়ে ভালো খেলছে বাংলাদেশ। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে দুর্দান্ত জয়ের পর, এশিয়া কাপের ফাইনালিস্ট হওয়াটাও টাইগারদের যোগাবে আত্নবিশ্বাসের রসদ।