২১, অক্টোবর, ২০১৮, রোববার | | ১০ সফর ১৪৪০

ওসি সাহেব, আমি স্ত্রীকে হত্যা করেছি

আপডেট: অক্টোবর ৬, ২০১৮

ওসি সাহেব, আমি স্ত্রীকে হত্যা করেছি

স্বামী-স্ত্রী। পৃথিবীর সবচেয়ে আপন এবং মধুর একটি সম্পর্কের বন্ধন। অবশ্য এই সম্পর্কের মাঝে গভীর ভালোবাসা, সত্য, বিশ্বাস ও নির্ভরতা থাকা চাই। তবে এই মধুর সম্পর্কে কলঙ্কিত করেছে এক স্বামী। ঘটনাটি খুবই মর্মান্তিক। নিজের স্ত্রীকে হত্যা করেছে ওই স্বামী।

শুক্রবার (৫ অক্টোবর) নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার পঞ্চবটি এলাকায় চাঞ্চল্যকর এ ঘটনাটি ঘটেছে।

তাহলে ঘটনাটি সম্পর্কে খুলে বলা যাক-

স্ত্রীকে হত্যা করে থানায় এসে ওই স্বামী বলেন, ‘ওসি সাহেব আমি আমার স্ত্রীকে হত্যা করেছি। আমার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন।’ নিজ স্ত্রীকে খুন করার পর থানায় গিয়ে নির্মম ঘাতক স্বামীর এই স্বীকারোক্তি শোনার পর দায়িত্বরত পুলিশ কর্তারা বনে যান।

থানার ওসি দায়িত্বরতদের ডেকে বলেন, ‘এই লোক কি পাগল নাকি সত্যি বলছে।’

ফতুল্লা মডেল থানার ওসি এসএম মঞ্জুর কাদের নির্দেশে ঘটনাটি যাচাই করার জন্য খুনির বাড়ির দেয়া ঠিকানা অনুযায়ী পুলিশ পাঠিয়ে দেয়া হয়। পরে জানা যায় সত্যিই ওই ব্যক্তি তার স্ত্রীকে হত্যা করে আত্মসমর্পণ করতে থানায় এসেছেন।

জানা গেছে, নিহত ওই গৃহবধূ নাটোর জেলার বাদীপাড়া থানার সাবদিয়া গ্রামের আবদুর রহিমের মেয়ে আফরিনর আক্তার রীনা (২৩)। আর ঘাতক স্বামী মেহেদী হাসান (২৭) মুন্সীগঞ্জ জেলার গজারিয়া থানার নিজামউদ্দিনের ছেলে।

স্ত্রী হত্যাকারী স্বামী মেহেদী হাসানের বরাত দিয়ে ওসি এসএম মঞ্জুর কাদের জানান, মেহেদী হাসান ও তার স্ত্রী আফরিন আক্তার রীনা দু’জনেই আগে থেকে বিবাহিত ছিল। তাদের দু’জনের আগের সংসারে সন্তানও রয়েছে। ফতুল্লার পঞ্চবটি এলাকায় একটি হোসিয়ারিতে একইসঙ্গে কাজ করার সুবাদে পরিচয় এবং সে সময় পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন তারা।

এরই জেরে বছর দুয়েক আগে আফরিনর আক্তার রীনা তার আগের সংসারের স্বামীকে এবং মেহেদী হাসানও তার পূর্বের স্ত্রীকে তালাক দিয়ে নতুন করে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। বিয়ের পর মেহেদী তার মা জোছনা বেগম, বাবা নিজামউদ্দিন ও স্ত্রী রীনাকে নিয়ে পঞ্চবটি চাঁদনী হাইজিংয়ের ওমর ফারুকের বাড়ির দ্বিতীয় তলায় বসবাস করতে শুরু করেন। পরে তাদের সংসারে তৌহিদ নামে একটি পুত্র সন্তান জন্ম নেয়। বর্তমানে ছেলে তৌহিদের বয়স ৫ মাস।

নিহত গৃহবধূর রীনার পরিবারের বরাত দিয়ে ওসি জানান, বিয়ের পর মেহেদীকে আড়াই লাখ টাকা ঋণ দেয় রীনার পরিবার। এই টাকা নিয়ে গত বৃহস্পতিবার রাতে দুজনের মধ্যে ঝগড়া হয়। ওই সময় স্ত্রী রীনা তার স্বামী মেহেদী হাসানকে টাকার খোটা দিয়ে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন। আর এরপরই রাগে-ক্ষোভে ক্ষিপ্ত হয়ে স্বামী মেহেদী গামছা দিয়ে তার স্ত্রী রীনাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।

এ বিষয়ে শুক্রবার (৫ অক্টোবর) সকালে ঘাতক মেহেদী তার মা জোছনা বেগমকে জানায়, সে রাগের বশে স্ত্রী রানীকে হত্যা করেছে।

মা জোছনা বেগম আরও বলেন, সেই সময় মেহেদীকে সাফ জানিয়ে দেন তিনি- ‘তুই যদি আমার ছেলে হয়ে থাকিস তাহলে থানায় গিয়ে নিজের খুনের কথা স্বীকার করে আত্মসমর্পণ করবি’।

পরে মায়ের কথামতো শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে মেহেদী ফতুল্লা মডেল থানায় গিয়ে সে প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে থানা কমপাউন্ডে এদিক-সেদিক ঘোরাফেরা করতে থাকে। এতে মেহেদীর গতিবিধি থানায় কর্তব্যরতদের সন্দেহ হয় এবং মেহেদীর কাছে থানায় আসার কারণ জানতে চায় দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তারা।

ওই সময় মেহেদী হাসান জানায়, ওসি সাহেবের কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেবে সে। পরে ওসি সাহেবের রুমে মেহেদীকে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় তিনি ওসিকে বলেন, ‘আমি আমার স্ত্রীকে হত্যা করেছি। আমার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন।’

এ ব্যাপারে ওসি জানিয়েছেন, ঘটনাটি যাচাইয়ে পুলিশ পাঠিয়ে খুনের সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর আত্মসমর্পণকৃত মেহেদী হাসানকে থানায় হাজতে আটক রাখা হয়েছে।

ওসি এসএম মঞ্জুর কাদের আরও জানান, রাগের বশে মেহেদী এই ঘটনা ঘটিয়েছে। তবে অনুশোচনা ও তার মায়ের সৎ পরামর্শে মেহেদী থানায় এসে আত্মসমর্পণ করেছে। তিনি বলেন, প্রত্যেক বাবা-মাকে মেহেদীর মায়ের মতো হওয়া উচিত। পাশাপাশি আমাদের সবাইকে রাগের সময় নিজেদের নিয়ন্ত্রণ করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন ওসি।