১৮, অক্টোবর, ২০১৮, বৃহস্পতিবার | | ৭ সফর ১৪৪০

কলেজছাত্রীকে ধর্ষণ করল আপন মামার শ্বশুর! এরপর…

আপডেট: অক্টোবর ৬, ২০১৮

কলেজছাত্রীকে ধর্ষণ করল আপন মামার শ্বশুর! এরপর…

কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার খোকসা ডিগ্রি কলেজের প্রথম বর্ষের মেধাবী ছাত্রী সুমাইয়া তরনী হঠাৎ করেই গত ২৯ সেপ্টেম্বর আত্মহত্যা করে। গত শনিবার রাতে নিজের ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে সুমাইয়া।

তবে সুমাইয়ার আত্মহননের ৫ দিন পর তার খাতায় লিখে যাওয়া ‘সুইসাইড নোট’ থেকে ইতোমধ্যে রহস্যের জট খুলতে শুরু করেছে।

প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যার কারণ জানা না গেলেও এই ঘটনার ৫ দিনের মাথায় অর্থাৎ গত বৃহস্পতিবার বিকেলে ওই ছাত্রীর খাতা উল্টাতেই আত্মহননের আগে লিখা একটি ‘সুইসাইড নোট’ পাওয়া যায়।

ওই ছাত্রীর লিখা ‘সুইসাইড নোটে’ লেখা রয়েছে আপন মামার শ্বশুর শাহীনের যৌন লালসার শিকার হয়ে আত্মহননের পথ বেছে নেন সুমাইয়া তরনী নামের ওই মেধাবী ছাত্রী। ওই ছাত্রী তার লিখে যাওয়া ‘সুইসাইড নোটে’ ওই নরপশু লম্পটের বিচারের দাবিও করেছেন তিনি।

লজ্জায় ঘিনায় আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়া ওই ছাত্রীর পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, অসুস্থ আপন খালাকে দেখতে কুষ্টিয়া জেলা শহরে যাওয়ার জন্য গত শুক্রবার বিকেলে মামার শ্বশুর শাহীনের মোটরসাইকেলে রওনা হয় সুমাইয়া। কিন্তু, কিছু দূর যাবার পর যে পথে যাবার কথা ছিল সে পথে না গিয়ে নতুন রাস্তা দিয়ে যাওয়ার কথা বলে কৌশলে শাহীন ওই ছাত্রীকে পদ্মা নদীর চরে নিয়ে যায়। এরপর সেখানে ভয়ভীতি দেখিয়ে আপন মামার শ্বশুর শাহীন তাকে ধর্ষণ করে।

পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে শাহীন ওই ছাত্রীকে বাড়ির গেটে নামিয়ে দিয়ে যায়। এর পরের দিন শনিবার সন্ধ্যায় সিলিং ফ্যানে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন সুমাইয়া তরনী।

এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়। কিন্তু, পরিবারের লোকজনের আবেদনের প্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ দাফন করা হয়।

জানা যায়, নিহত ওই কলেজছাত্রীর বাবা আজমল হোসেন খোকসা পৌরসভায় চাকরি করেন। তার বাড়ি উপজেলার কমলাপুর গ্রামে।

এদিকে, একমাত্র মেয়েকে হারিয়ে মা রেশমী পারভিন বন্যা শোকে পাথর প্রায় অবস্থা। তার এখন পাগল প্রায় অবস্থা, তিনি কারও সঙ্গে কথা বলেন না।

গত বৃহস্পতিবার মেয়ের ‘সুইসাইড নোট’ পাওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রথম কথা বলেন নিহত ছাত্রীর মা। শাহীনের লালসার কবল থেকে মুক্তি পেয়ে বাড়ি এসেই রাতে সুমাইয়া তার সঙ্গে ঘটা পুরো ঘটনার কথা খুলে বলেছিল মাকে। ওই ছাত্রী জানিয়েছিলেন কিভাবে, কখন, কোথায় তাকে ধর্ষণ করেছে আত্মীয় শাহীন। কিন্তু, এই ঘটনা শোনার পরে লজ্জায় মেয়েটির মা বিষয়টি গোপন রাখেন।

এ বিষয়ে নিহত ওই ছাত্রীর কাকা ইস্তেকবাল চয়ন জানিয়েছেন, তারা মেয়ের আত্মহত্যার কারণ না বুঝতে পেরেই থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করেছেন। তবে সুমাইয়ার লিখা ‘সুইসাউড নোট’ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা ওই নোটটি থানায় জমা দেন বলেও জানান তিনি। এখন আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য তারা মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

অন্যদিকে, সুমাইয়ার আত্মহত্যার পর থেকে ধর্ষক শাহীন গা ঢাকা দিয়েছে। যৌন পিপাসু শাহীন খোকসা হেলথ কেয়ার নামের একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক বলেও জানা গেছে।

এ ব্যাপারে খোকসা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বজলুর রহমান জানান, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।