২১, অক্টোবর, ২০১৮, রোববার | | ১০ সফর ১৪৪০

বাংলাদেশ-ফিলিপাইন ম্যাচে মাঠ ভর্তি দর্শক

আপডেট: অক্টোবর ৬, ২০১৮

বাংলাদেশ-ফিলিপাইন ম্যাচে মাঠ ভর্তি দর্শক

সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে চলমান বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশ ও ফিলিপাইনের ম্যধকার ম্যাচে ঢল নেমেছিল দর্শকের। গ্যালারিতে ছিল না তিল ধারণের ঠাঁই নেই। মাঠের বাইরেও অপেক্ষা করছেন আরও ১০ থেকে ১৫ হাজার দর্শক।

বাংলাদেশের তপু-রানা-বিপলুরা যখন আক্রমণে যান তখন স্টেডিয়ামের গ্যালারি যেনো উৎসব শুরু হয়ে যায়। ‘বাংলাদেশ’ স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে গ্যালারি। গোল হওয়ার আগেই ‘গোল, গোল’ আওয়াজ বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের অনুপ্রাণিত করে।

স্টেডিয়ামের উত্তর প্রান্তের গ্যালারিতে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা হাতে হাজির হয়েছেন ব্যাংক কর্মকর্তা তাহের হামিদ। সাথে ১০ বছরের কন্যা সন্তান লামিয়া এবং বড় ছেলে সাঈদ মোক্তাদির। জানালেন খেলা নিয়ে নিজের আগ্রহের কথা। তাহের হামিদ বললেন, পুরো পরিবারই ফুটবলপ্রেমী। এর মধ্যে সিলেটের বিপলু-মতিনরা খেলছে। ঘরে বসে সবাই টেলিভিশনে খেলা দেখছে। বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়দের উৎসাহ দিতে তিনি বড় ছেলে ও ছোট মেয়েকে নিয়ে মাঠে এসেছেন।

গ্যালারিতে নারী দর্শকদের উপস্থিতি কম হলেও দক্ষিণ গ্যালারি এবং ভিআইপি গ্যালারিতে বেশ কয়েকজনকে দেখা গেলো। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে এসেছেন সিলেটের একটি বেসকরারি বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সৈয়দা ফাতেমা মাহিমা। মাহিমা জানালেন, সিলেটে খুব একটা আন্তর্জাতিক ফুটবল ম্যাচ হয় না। অতীতে যতগুলো খেলা হয়েছে সব ম্যাচেই তিনি উপস্থিত ছিলেন। অতীতের মতো বাংলাদেশের খেলা উপভোগ করতে তিনি মাঠে হাজির থাকেন। কারণ জানতে চাইলে বলেন, দেশের খেলা তিনি মিস করতে চান না। আর গ্যালারিতে দর্শক যত বেশি থাকবে খেলোয়াড়রা ততই উৎসাহ পাবে।

খেলা দেখতে এসেছেন এক ঝাঁক কিশোর। সাদা স্কুল ড্রেস পরিহিত শিক্ষার্থীরা সিলেট মডেল স্কুল এন্ড কলেজের এই শিক্ষার্থীরা দলবেঁধে এসেছে নিজের দেশের খেলোয়াড়দের পায়ের শৈল্পিক জাদু দেখতে। জনি দে-নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা টেলিভিশনে খেলা দেখি। আজ স্কুল ছুটি থাকায় আমরা কয়েক বন্ধু মিলে সিদ্ধান্ত নিলাম খেলা দেখতে যাব। তাই, স্কুল ড্রেস পরেই সবাই একসাথে এসেছি। আমরা চাই সিলেটে বেশি বেশি আন্তর্জাতিক টুর্ণামেন্ট হোক।

এভাবে সিলেটের খেলা পাগলদের আরেকজন ইলিয়াস রহমান। আজ মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা দিয়েছে। টুর্ণামেন্টের প্রথম দিন মাঠে আসতে পারেননি। আজ পরীক্ষা দিয়েই সিদ্ধান্ত নিয়েছে খেলা দেখা মিস করবে না। ইলিয়াস বলেন, ক্রিকেটে বাংলাদেশ অনেক ভাল করছে। ফুটবল মেয়েরা ভাল করছে। ছেলেদেরও এগিয়ে নিতে সংগঠকদের আরো বেশি উদ্যোগ প্রয়োজন।

সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে ধারনক্ষমতা ২৫ হাজার। আজ শুক্রবার বাংলাদেশের খেলা দেখতে আসা দর্শকদের সংখ্যা ৪০ হাজারের কম হবে না। আগে যারা টিকেট কিনেছেন তারা স্টেডিয়ামে প্রবেশের সুযোগ পেয়েছেন। অন্যরা ঢুকতে পারেননি। অবশ্য, সিলেট জেলা ফুটবল এসোসিয়েশনের সভাপতি ও বাফুফে’র সদস্য মাহি উদ্দিন আহমদ সেলিম দুঃখ প্রকাশ করে বলেছেন, ভবিষ্যতে আরো খেলা হবে এই স্টেডিয়ামে। যারা আজ সুযোগ পাননি ভবিষ্যতে তাদের জন্য সুযোগ করে দেওয়া হবে।

গত ১ অক্টোবর সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে শুরু হয় বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ আন্তর্জাতিক ফুটবল টুর্ণামেন্টের পঞ্চম আসর। গ্রুপ পর্বের ছয়টি খেলা এই স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।-বাসস