১৫, অক্টোবর, ২০১৮, সোমবার | | ৪ সফর ১৪৪০

শরীর দেখিয়ে লাইক বাড়ানোর কৌশল, পড়ুন বিস্তারিত….

আপডেট: অক্টোবর ৬, ২০১৮

শরীর দেখিয়ে  লাইক বাড়ানোর কৌশল, পড়ুন বিস্তারিত….

আচ্ছা! প্রশ্নটা আপনাকেই প্রথমে করি? আপনি কারোকে দেখে কিভাবে ‘ক্রাশড’ হন? তাঁর শরীর দেখে? চেহারা? উন্মুক্ত পিঠ? নাকি অন্য কিছু? ভাবতে বসলেন তাই তো! মিথ্যা বলব না, আমি নিজেও কনফিউজড হয়ে গিয়েছি ক্রাশড হতে গেলে আজকাল কী কী উপাদান লাগে। কপালে টিপ, গোছানো শাড়ি, সুন্দর হাসি? নাকি ফিটেড ডেনিম, গ্রুমড কেশ আর মেকআপলেস স্মাইল?

কিন্তু, ফেসবুক তো এখন অন্য কথা বলছে! এখানে রীতিমতো ‘ভাড়া’ পাওয়া যাচ্ছে বাঙালির ক্রাশ দের। তাঁদের পোশাকি নাম ‘বং ক্রাশ’। রাতারাতি ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠছে বিভিন্ন গ্রুপ। সেখান থেকেই ছড়ানো হচ্ছে একের পরে এক ‘বং ক্রাশ’-দের ছবি।

ফেসবুক পোস্ট।

তবে হ্যাঁ, এখন এই ক্রাশের তালিকাভুক্ত হতে গেলে কিছু রুল মানা দরকার । এক নজরে দেখে নিন-

বং ক্রাশ হতে হলে যা করতে হবে—

১. একটু হেলদি বা মোটা হতে হবে।

২. ক্লিভেজ দেখানো পোশাক বা স্লিভলেস পরতে হবে।

৩. সামনে শাড়ির আঁচল বা ওড়না সামনে ফেলতে হবে।

৪. উড়ুক্কু চুলে কয়েকটা পোজ দিতে হবে।

ব্যাস হয়ে গেল বং ক্রাশ। এটা অবশ্য আমি বলছি না। একটা ফেসবুক পোস্ট বলছে।

রইল এই বিষয়ের একটি পোস্ট।

কয়েক দিন আগে একটা ছবি দেখলাম, মডেল নিজেকে ‘গ্রামের মেয়ে’ হিসাবে তুলে ধরতে চেয়েছেন। রাঙা মাটির দেশে নববধূর সাজে নিজেকে তুলে ধরতে গিয়ে গলার দামি গয়নাটি তিনি হয়তো খুলতে ভুলে গিয়েছেন। ব্লাউজ ছাড়া তাঁর স্নানের দৃশ্যের সব ছবি সোশ্যাল মিডিয়া কার্যত গিলে খেয়েছে। লাইক পরছে দেদার, শেয়ার হচ্ছে প্রচুর।

তবে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, এভাবে কি আদৌ বাঙালিদের হৃদয় জয় করে ‘ক্রাশ’ হওয়া সম্ভব? এ তো পাক্কা নিজেদের প্রচার করার জন্য করা। যেসব ছবিগুলি বং ক্রাশ বলে শেয়ার করা হচ্ছে তার ক্যাপশনে সংশ্লিষ্ট মডেলের নাম লেখা থাকে। ব্যাস! আর দেখে কে! নাম মেনশন করার ফলে হু হু করে পাবলিক ঢুকছে মেয়েটির প্রোফাইলে। বাড়ছে নাম, যশ, খ্যাতি!

তবে হ্যাঁ, অনেকে এমনও রয়েছেন, যাঁরা এদের সমর্থনে সোচ্চার হবেন। তাঁদের দাবি এ ধরনের ছবি তুলতে গেলে সাহস লাগে। মানছি, তাঁরা ‘সাহসী’। কিন্তু অর্ধনগ্ন শরীর দেখেই কি শুধু বাঙালিরা ক্রাশ খাবে? আর কিছুরই কি দরকার নেই!

ফেসবুক পোস্ট।

আর ‘বং’ শব্দটাই তো বলে দিচ্ছে, এই ক্রাশবাজির নেপথ্যে রয়েছে মেকি বাঙালিয়ানা। যেমন একটা রেডিমেড ভাঙালিয়ানা ভাড়া পায়া য়ায় বাঙালি ফুডের জয়েন্টগুলোয়, তেমনটাই অনেকটা।

‘ক্রাশ’ সাধারণ তাঁদেরই বলবে, যাদের ছবি ভাইরাল ‘করতে’ হয়নি, শরীর দেখিয়েও প্রচারে আসতে হয়নি। আমরাই, হ্যাঁ আমরাই স্বেচ্ছায় তাঁদের ভাইরাল করে দিয়েছি। প্রিয়া প্রকাশ, টুম্পা খান— এমন উদাহরণ সাম্প্রতিকে দেদার রয়েছে।

তবে হ্যাঁ! ফেসবুকের ‘বং ক্রাশ’দের গ্রাফ এখন নীচের দিকে। বিগত কয়েকদিনে একের পরে এক সমালোচনা হচ্ছে ‘বং ক্রাশ’দের ঘিরে। সেদিন তো দেখালাম এক ‘বং ক্রাশ’কে বিরিয়ানির হাঁড়ির সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। ট্রলও হচ্ছে প্রচুর।

তবে সব শেষে বলব, ক্রাশদের শুভবুদ্ধি উদয় হোক। কোনওদিন হাসিমুখে একটা ছবি নেহাত পোস্ট করে দেখুন না, ভাগ্যে থাকলে পরের দিন ঘুম থেকে উঠে দেখলেন হয়তো আপনার ছবিটিই ট্রেন্ডিং হয়ে গিয়েছে।

শুভম মুখোপাধ্যায়