২২, অক্টোবর, ২০১৮, সোমবার | | ১১ সফর ১৪৪০

সংসদে চত্বরে ফলানো আরবের খেজুর বিতরণ

আপডেট: অক্টোবর ৪, ২০১৮

সংসদে চত্বরে ফলানো আরবের খেজুর বিতরণ

জাতীয় সংসদ ভবনের চত্বরে চাষ করা আরবের খেজুর পেড়ে ভিআইপি ও সংসদে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দেয়া হয়েছে। সংসদের দক্ষিণ প্লাজার পশ্চিমে সিড়ির পাশে খেজুর গাছটিতে বড় বড় মোট ১৩টি থোকা ধরেছিল। খেজুরগুলো রক্ষণাবেক্ষণের জন্য জাল দিয়ে ঘেরাও ও পুলিশ পাহারা দেয়া হলেও উৎসাহী মানুষদের হাত থেকে পুরোটা রক্ষা করা যায়নি।

চলতি বছর সেপ্টেম্বরে সংসদের ২২তম অধিবেশন চলার সময় অনেকে ঘেরাও দেয়া জালের ভেতরে গিয়ে খেজুর ধরে তোলা ছবি ফেসবুকে প্রকাশ করেন। কেউ কেউ আবার বিস্কুট খেলার মত করে খেজুর মুখে নিয়ে ছবি তোলেন। পাহারা থাকা সত্ত্বেও অনেকে আড়ালে এসব খেজুর পেড়েছেন। ফলে প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছিল গাছের খেজুর।

জানা যায়, গত ২৮ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) বিকেলে জাতীয় সংসদের প্রধান হুইপ আসম ফিরোজ, স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর স্বামী সৈয়দ ইশতিয়াক হোসাইন, প্রধান হুইপের একান্ত সচিব মো. আনিছুর রহমানসহ অন্যান্য কর্মকর্তাদের নিয়ে খেজুরগুলো পাড়া হয়।

ওমরা হজ পালনে প্রধান হুইপ সৌদি আরবে থাকায় তার সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তার একান্ত সচিব মো. আনিছুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, খেজুরগুলো সংসদের ভিআইপি ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। তবে খেজুর কম হওয়ায় সবার মধ্যে বিতরণ করা সম্ভব হয়নি। এ ছাড়া অনেকেই আগেই আড়ালে পেড়ে নিয়ে গেছেন।

জাতীয় সংসদের সহকারী সচিব ও ফেসবুকের মাধ্যমে বিনামূল্যে গাছ, বীজ বিতরণের উদ্যোক্তা গ্রিন বাংলাদেশ (Green Bangladesh) গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা এবিএম বিল্লাল হোসেন বলেন, সংসদের ওই গাছের ধরা খেজুর আমিও পেয়েছি। স্পিকার ম্যাডামের নির্দেশে সংসদের হুইপ স্যার আমাদের মধ্যে খেজুর বিতরণ করেছেন। খেজুরগুলোর স্বাদ ও গন্ধ অতুলনীয়।

ফল উন্নয়ন প্রকল্পের পরামর্শক এস এম কামরুজ্জামান বলেন, আবহাওয়া উপযোগী বিশেষ জাতের খেজুর ফললের সম্ভবনা রয়েছে বাংলাদেশে। এ জন্য পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে ১৮টি উন্নত জাতের ১ হাজার খেজুর গাছের চারা আনা হয়। এদের মধ্যে ৮০ শতাংশই নারী জাতের, বাকিগুলো পুরুষ।

খেজুর গাছটির বয়স ৬ থেকে ৭ বছর বলে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, মাত্র একটি গাছ হওয়ায় পুরুষ রেনু ছিটিয়ে গাছটিতে খেজুর ফলানো হয়েছিল। সংসদের ওই গাছ থেকেই প্রায় দুই মণ খেজুর হওয়ার কথা ছিল।

কৃষিবিদ মাহবুবুল ইসলাম এ বিষয়ে জাগো নিউজকে বলেন, টিস্যু কালচারের মাধ্যমে চারা করে আরবীয় খেজুর গাছ লাগাতে হয়। বীজ থেকে খেজুর হবে কিনা নিশ্চিত হতে ৫/৬ বছর লেগে যায় এবং পুরুষ গাছ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। তাই টিস্যু কালচারের মাধ্যমে এ ফলের গাছ লাগানো উচিত।

জানা গেছে, সংসদ এলাকায় ১৩৪টি আম, ১১৯টি কাঁঠাল ও ২৪৯টি নারিকেল গাছ আছে। এ ছাড়া কয়েকশ’ দেশীয় খেজুর গাছ রয়েছে। সংসদ এলাকার পাশে আরও কয়েকটি আরবের খেজুর গাছ থাকলেও সেসবের খেজুর অনেকেই পেড়ে নিয়ে যান। ফলে ভেতরের গাছটির খেজুর রক্ষায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল।