মানুষ হত্যার জন্য জনগণের কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত

হত্যা-গুম নিয়ে কথা বলার অধিকার বিএনপির নেই উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেছেন, আওয়ামী লীগের দিকে আঙুল তোলার আগে বিএনপিকে তাদের আমলে হাজার হাজার মানুষ হত্যার জন্য জনগণের কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত।

জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ স্বাধীনতা পরিষদ (বিএসপি) আয়োজিত আলোচনা সভায় এ কথা বলেন তিনি।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে হত্যার রাজনীতি শুরু করছে জিয়াউর রহমান ও তার বিএনপি। জিয়াউর রহমান যখন ক্ষমতায় ছিলেন, তখন আওয়ামী লীগের বহু নেতাকর্মী গুম হয়েছেন, হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত ২১ হাজার মানুষ হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে। সুতরাং তাদের এই সব বিষয় নিয়ে কথা বলার অধিকার নেই।

তিনি বলেন, বিএনপি গতকাল সংবাদ সম্মেলন করেছে এবং মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ অন্য নেতারা সেখানে বক্তব্য রেখেছেন। বাংলাদেশে গত ১০ বছরে কত মানুষ হারিয়ে গেছে, সে বিষয়ে কথা বলেছেন।

বিএনপির আনা অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেন, ইজতেমার মুসল্লিকে পুড়িয়ে হত্যাসহ দুবারের শাসনামলে বিএনপি সহস্রাধিক মানুষকে হত্যা করে।

তারা গ্রেনেড হামলা চালিয়ে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রাণনাশের চেষ্টা চালায়। এখনো তাদের হাত রক্তে রঞ্জিত। তারা চার হাজার গাড়ি ও ৩০টি লঞ্চ পোড়ায়, ২০১৪ সালের নির্বাচনের সময় তারা কোমলমতি ছাত্রছাত্রীদের বইসমেত ৫০০ স্কুলঘর পুড়িয়ে দেয়।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলার মূল হোতাদের বিচারের মুখোমুখি করা উচিত।

বিএনপি দেশব্যাপী গ্রেনেড ও পেট্রলবোমা হামলা এবং আগুন-সন্ত্রাসের মাধ্যমে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল। তাই হত্যাকাণ্ডের ইস্যুতে কথা বলার কোনো অধিকার তাদের নেই।

বিএনপির ‘রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মকে হত্যাকাণ্ডের প্ল্যাটফর্ম’ উল্লেখ করে সাবেক খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান হত্যার মাধ্যমে ক্ষমতায় যাওয়ার পরও হত্যাকাণ্ড অব্যাহত রাখেন।

তার স্ত্রী খালেদা জিয়াও নির্বিচারে বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের হত্যার মাধ্যমে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেন।

বিএসপির উপদেষ্টা জাকির আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, আওয়ামী লীগ নেতা আখতার হোসেন, বলরাম পোদ্দার, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক অরুণ সরকার রানা, বিএসপি সভাপতি জিন্নাত আলী জিন্নাহ, সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ হোসেন তোয়েল প্রমুখ।

বার্তাবাজার/এম.কে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর