আজ শুক্রবার রাত ১২:৩১, ২০শে অক্টোবর, ২০১৭ ইং, ৫ই কার্তিক, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ২৮শে মুহাররম, ১৪৩৯ হিজরী

শেষ দিনে মাঠে নামার আগে বাংলাদেশ শিবিরে যোগ হলো আক্ষেপ!

নিউজ ডেস্ক | বার্তা বাজার .কম
আপডেট : মার্চ ১১, ২০১৭ , ১০:০৮ পূর্বাহ্ণ
ক্যাটাগরি : খেলাধুলা
পোস্টটি শেয়ার করুন

উইকেট নেয়ার পর মেহেদী হাসান মিরাজকে অধিনায়ক মুশফিকের অভিনন্দন। গলে চতুর্থ দিনের অর্ধেকটাই কাটলো বাংলাদেশ দলের আক্ষেপে। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে উপল থারাঙ্গা সেঞ্চুরি করলেন। চা বিরতির পর ইনিংস ঘোষণার আগে লঙ্কানদের ৬টি উইকেটের পতন হলো। কিন্তু স্কোর বোর্ডে তখন ২৭৪ রান। আগের ইনিংসে ১৮২ রানের লিডের সুবাদে লিডটাও পাহাড়সহ ৪৫৬ রানের। পরিসংখ্যান বলে চতুর্থ ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে এত বড় ব্যবধানে জয় সম্ভব হলেও খুবই বিরল। বাংলাদেশ দলকে দ্বিতীয় ইনিংসে মাঠে নামতে হলো বিশাল চাপ নিয়েই। কিন্তু ভুল যা হওয়ার হয়ে গেছে। গলের ব্যাটিং উইকেটে অলআউট হলেও ৪৯৪ রান তুলেছিল লঙ্কানরা। তিন পেসার নিয়ে আক্রমণে নেমে সফলতার মুখ দেখেনি টাইগাররা। স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ শেষ দিকে জ্বলে না উঠলে আরো বড় সংগ্রহ হতো রঙ্গনা হেরাথের দলের। দ্বিতীয় ইনিংসেও একই চিত্রের দেখা মিললো। তিন পেসারের মধ্যে তাসকিন আর মোস্তাফিজ নিলেন একটি করে উইকেট। দুই স্পিনার সাকিব ও মিরাজ নিলেন ২টি করে উইকেট। তৃতীয় পেসার শুভাশিষ আগের ইনিংসে ২৪ ওভার বল করলেও এই ইনিংসে হাতে বল পান মাত্র ৭ ওভার। এতেই বুঝা যায় গোড়ার গলদটাই  শেষ পর্যন্ত টাইগারদের দুর্ভোগের কারণ হয়ে থাকবে।

চা বিরতির পর মাত্র ২টি বলই খেলে শেষ হয়েছিল টাইগারদের ইনিংস। এরপর বৃষ্টির হানাতে লঙ্কার আর মাঠে নামার সুযোগ হয়নি। গতকাল চতুর্থ দিন শ্রীলঙ্কার শুরুটাও হয়েছে সতর্ক। তাসকিন, মোস্তাফিজরা বল হাতে কিছু করতে না পারলেও চেষ্টা করেছেন রান আটকে রাখতে। এর মধ্যেও এসেছিল একটি সুযোগ। মেহেদী হাসান মিরাজকে বেরিয়ে এসে তুলে মেরেছিলেন ওপেনার দিমুথ করুনারত্নে। শর্ট কাভারে সাকিব লাফিয়ে বলে হাত ছুঁইয়েও জমাতে পারেননি বল। ৭ রানে জীবন পেয়ে আর পেছনে ফিরে তাকাননি এই ব্যাটসম্যান। মনোযোগ দিয়েছেন ইনিংস গড়ায়। দুই ব্যাটসম্যানের রানের গতি তেমন ছিল না। উপুল থারাঙ্গা ও করুনারত্নে ওপেনিং জুটিতেই পঞ্চাশ ছাড়িয়েছে। একটু একটু করে বাড়ছিল লিড। এর মধ্যে অবশ্য বাংলাদেশকে দিনের প্রথম সাফল্য এনে দেন তাসকিন আহমেদ। তার শর্ট বল করুনারত্নে ঠিকমতো পুল করতে পারেননি। ডিপ স্কয়ার লেগ থেকে ছুটে ক্যাচ নিয়েছেন মাহমুদুল্লাহ।

জীবন পেয়েও ফিরেন ৩২ রানে। তাসকিন প্রথম উইকেট পেলেও মোস্তাফিজ রান আটকে রাখেন দারুণ ভাবে। তার প্রথম স্পেলে ৫ ওভারে চারটি মেডেন রান মাত্র ১টি। অবশ্য ততক্ষণে লঙ্কার লিড ২৫০ রান ছাড়িয়েছে। তারা মধ্যাহ্ন বিরতিতে গিয়েছিল ৮৭ রানে মাত্র ১ উইকেট হারিয়ে।

বিরতির পর মাঠে ফিরে রানের গতি বাড়িয়েছে লঙ্কানরা। বিশেষ করে উপুল থারাঙ্গা ও আগের ইনিংসে ১৯৪ রানে আউট হওয়া কুশল মেন্ডিস, দুজনের ব্যাটই চলছিল। তাদের তাড়াহুড়াতেই অবশ্য সাফল্য পায় বাংলাদেশ। সেটি অবশ্য সাকিবের হাত ধরে। সাকিবের আগের ওভারেই স্লগ সুইপে ছক্কা মেরেছিলেন মেন্ডিস। একই কাজ ফের করতে গিয়ে ক্যাচ দেন সীমানায় তাসকিনের হাতে। ভয়ঙ্কর মেন্ডিস ১৯ রানে ফিরলে ভাঙে ৬৫ রানের জুটি। প্রথম স্পেলে ৫ ওভারে ১ রান দেয়া মোস্তাফিজের পরের ৩ ওভারে এসেছে ২২। থারাঙ্গা অপ্রতিরোধ হয়ে উঠছিলেন টাইগার বোলারদের সামনে। সাকিবের বলে এক রান নিয়ে থারাঙ্গা  করলেন সেঞ্চুরি। টেস্ট ক্যারিয়ারের এটি তার তৃতীয় ও দেশের মাটিতে প্রথম সেঞ্চুরি। তার তৃতীয়  টেস্টে ২০০৬ সালের মার্চে বাংলাদেশের বিপক্ষে  ১৬৫ রানে প্রথম সেঞ্চুরি করেছিলেন। অবশ্য সেঞ্চুরির পরই মেরেছেন ছক্কা। পরের ওভারে মিরাজকে টানা দুটি চার।  শেষ পর্যন্ত রানের গতি বাড়াতে গিয়েই মিরাজের বলে বোল্ড হয়েছেন ১১৫ রানে। এরপর সাকিব ফেরালেন বিপজ্জনক আসেলা গুনারত্নেকে। আগের ওভারেই মিরাজের বলে স্টাম্পড হতে হতে হননি গুনারত্নে। তবে খুলতে পারলেন না রানের খাতা। সাকিবের দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে অফ স্ট্যাম্প ভেঙে যায় তার। লেন্থে পিচ করে হালকা টার্ন করে ব্যাটের পাশ দিয়ে স্টাম্পে চুমু দেয় বল। তার বিদায়ে কিছুক্ষণ ভুগিয়েছেন ডিকওয়েলা। তবে আউট হওয়ার আগে মিরাজের বলে রিভার্স সুইপ করে চার মেরেছিলেন  ডিকওয়েলা। পরে বল অফ স্টাম্পের বাইরের খেললেন রিভার্স। বল কিছুটা বাতাসে ভাসলো, কিন্তু অসাধারণ ক্ষিপ্রতায় গ্লাভসে লুফে নেন লিটন। আর দ্বিতীয় ইনিংসে নিজের প্রথম উইকেট পেলেন মোস্তাফিজ ২৭ বলে ৩৩ রান করা দিলরুয়ান পেরেরাকে ফিরিয়ে।

পেসারদের মধ্যে  মোস্তাফিজ ৯ ওভারে ২৪ রানে পেয়েছেন একটি উইকেট। তাসকিন ৮ ওভারে ৩২ রান দিয়ে পেয়েছেন একটি উইকেট। তিনি প্রথম ইনিংসে বল করেছিলেন ২১ ওভার। তিন পেসার দ্বিতীয় ইনিংসে বল করলেন মোট ২৪ ওভার। অন্যদিকে দুই স্পিনার করেন ৪৭ ওভার। স্পিনার মিরাজ প্রথম ইনিংসে ২২ ওভার বল করেছিলেন। এই ইনিংসে করলেন ২০ ওভার। নিলেন ২টি উইকেট। সাকিব প্রথম ইনিংসে বল করেছিলেন ৩২.১ ওভার আর গতকাল করলেন ২৫ ওভার। দুই স্পিনার দুই ইনিংসে ৯৯ ওভার। প্রশ্ন হচ্ছে স্পিনারদেরই উপর এত নির্ভরতা তাহলে কেন একজন  জেনুইন স্পিনার খেলানো হলো না! চেনা মাঠ, চেনা পিচে কোচ-ম্যানেজারদের তিন পেসার খেলানোর সিদ্ধান্তটাই হবে বড় আক্ষেপের।
স্কোর কার্ড (চতুর্থ দিন)
শ্রীলঙ্কা-বাংলাদেশ প্রথম টেস্ট
গল আন্তর্জাতিক স্টেডিয়াম, শ্রীলঙ্কা
৭-১১ মার্চ, ২০১৭
শ্রীলঙ্কা ১ম ইনিংস: ৪৯৪
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ৩১২
শ্রীলঙ্কা দ্বিতীয় ইনিংস (৪র্থ দিন)
ব্যাটসম্যান    রান    বল    ৪    ৬
নিমুথ ক মাহমুদ ব তাসকিন    ৩২    ৭৩    ১    ০
থারাঙ্গা ব মিরাজ    ১১৫    ১৭২    ১১    ২
কুশল ক তাসকিন ব সাকিব    ১৯    ৪৯    ০    ১
চান্ডিমাল অপরাজিত    ৫০    ৭৫    ৪    ০
গুনারত্নে ব সাকিব    ০    ৩    ০    ০
ডিকওয়েলা ক লিটন ব মিরাজ    ১৫    ১৭    ১    ১
দিলরুয়ান ক লিটন ব মোস্তাফিজ    ৩৩    ২৭    ৫    ১
অতি: (ব ২, লব ১, ও ৬, নব ১)    ১০
মোট: (৬ উইকেটে, ৬৯)    ২৭৪
উইকেট পতন: ১-৬৯ (করুনারত্নে), ২-১৩৪ (কুশল), ৩-১৯৮ (থারাঙ্গা), ৪-১৯৯ (গুনারত্নে), ৫-২২২ (ডিকওয়েলা), ৬-২৭৪ (দিলরুয়ান)।
বোলিং: শুভাশিষ ৭-০-৩৪-০, মিরাজ ২০-১-৭৭-২, মোস্তাফিজ ৯-৪-২৪-১, সাকিব ২৫-২-১০৪-২, তাসকিন ৮-০-৩২-১।
বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংস
ব্যাটসম্যান    রান    বল    ৪    ৬
তামিম ইকবাল অপরাজিত    ১৩    ৪৪    ১    ০
সৌম্য সরকার অপরাজিত    ৫৩    ৪৭    ৬    ১
অতিরিক্ত: (নব ১)    ১
মোট: (১৫ ওভার)    ৬৭
বোলিং: লাকমল ৬-৩-৮-০, দিলরুয়ান ৫-০-২৪-০, হেরাথ ৪-০-৩২-০, গুনারত্নে ০-০-৩-০।
টস: শ্রীলঙ্কা (ব্যাটিং)
অবস্থা: বাংলাদেশ ৩৯০ রানে পিছিয়ে