ঈদের ছুটি শেষে সঞ্জীবতা ফিরে পেল বাকৃবি প্রাঙ্গন

ছুটি মানেই আনন্দ। স্কুল জীবনে প্রতিদিন ক্লাসের পরে ছুটির ঘন্টা বেজে উঠলে কে কার আগে ক্লাসের বাইরে বের হবে তা নিয়ে হৈ হুল্লৈার পরে যেত। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে সেই জোশটা পাওয়া যায় না। সপ্তাহে দুদিন ছুটি আর তেমন ছুটি পাওয়া যায় না। নিজের ক্যাম্পসেই আবাসিক হলে থাকা হয় বলে ছুটির সেই গূঢ় মর্ম অনুধাবন করা কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়। বছরে দুই ইদের ছুটি আর পূজার ছুটি বাদে ছুটির দেখা মেলা ভার। তার মাঝে যখন ইদের ছুটি হয তখন আনন্দের অন্ত থাকে না। বাড়িতে যাওয়ার জন্য মন উওলা হয়ে ওঠে। যখন বাড়িতে যাই কিছুদিন পর বাড়িতেও ভালো লাগেনা কারণ বন্ধুবান্ধব ছাড়া জীবন কেমন যেন এক বিচ্ছিন্ন গাছের পাতার মত। তাই ক্লাশ শুরু হওয়ার তাগীদে এবং বন্ধুবান্ধবের সাথে আবার দেখা পুনরায় জীবনকে একটি রুটিনে আটকে ফেলার জন্য প্রিয় ক্যাম্পসে এসে পাড়ি জমাতে হয়।

তাই পবিত্র ইদুল আজহা ও জাতীয় শোক দিবসের উপলক্ষে দীর্ঘ ১০ দিনের ছুটি শেষে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) ক্যাম্পাসে ফিরতে শুরু করেছে শিক্ষার্থীরা। ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল আবাসিক হলসমূহ খুলে দেওয়া হয়েছে। পুনরায় চা ল্য প্রাণ ফিরে পেয়েছে ক্যাম্পাস। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনসহ আড্ডার চিরচেনা স্থানগুলো শিক্ষার্থীদের পদচারণায় ক্যাম্পাসকে আবারো মুখরিত করে তুলেছে।

দীর্ঘ ছুটি শেষে প্রিয় সহপাঠীদের কাছে পেয়ে পরস্পর ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়, গল্প আর আড্ডায় মেতে উঠে শিক্ষার্থীরা। ১০ দিনের ছুটি শেষে গত ১৮ আগস্ট থেকে একাডেমিক কার্যক্রম চালু হয়েছে সাথে সাথে শুরু হয়েছে ক্লাস ও পরীক্ষা। বিশ্ববিদ্যালয় খোলার দুই -তিন দিন পরে আবার আগের মত সৌন্দর্য ও প্রাণ ফিরে পেয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। বোটানিক্যাল গার্ডেন, কামাল-রঞ্জিত মার্কেট, আম বাগান, বিজয় ৭১ এর সামনে শিক্ষার্থীদের জমে উঠেছে আড্ডা। তাছাড়াও কেন্দ্রীয় লাইব্রেরীর পাশে ও প্রশাসনিক ভবনের পাশে শিক্ষার্থীদের গ্রুপ স্টাডিজ এর দৃশ্যও চোখে পড়ে। প্রায় সবখানেই চলছে ঈদে কাটানো মজার মজার সময়গুলো বন্ধুদের সাথে শেয়ার করার ধুম। সব মিলিয়ে গান,গল্প,হাসি আর আড্ডায় মেতে উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস।

বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছে ইদের ছুটি নিয়ে জানতে চাইলে বলে, পরিবারের সাথে ইদে ছুটি কাটানোর মজাটাই ভিন্ন কারন, একমাত্র ইদেই সবার সাথে সাক্ষাত করা সম্ভব হয় । তারপর মায়ের হাতের রান্না খাওয়া তো আর মিস করা যায়না। ক্যাম্পাসে এসে বন্ধুদের সাথে আবার ফিরে যাই আগের চিরচেনা সেই স্থানগুলোতে ভুলে যাই বন্ধুদের সাথে আড্ডার মাঝে সেই বাড়িতে কাটানো সময়গুলো।

আরেক জন জানান, ক্যাম্পাস আমার ভালোবাসার যায়গা কেননা ক্যাম্পাসে আসলেই দেখতে পাই চিরচেনা সেই মুখগুলো। বন্ধুদের ছাড়া আসলে আমার সময় যেন কাটে না তাইতো বাড়িতে গিয়ে বারবার মনে পড়ে ক্যাম্পাসের বন্ধুদের সাথে কাটানো আনন্দঘন সময়ের কথা । সব মিলিয়ে ছুটি কাটিয়ে আবার ক্যাম্পাসে ফিরে এসে চিরচেনা মখগুলো দেখে খুবই ভালো লাগছে ।

এদিকে এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে সকল বিভাগে যাথাররীতি ক্লাস ও পরীক্ষা শুরু হয়েছে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম ও আগের মতই চালু হয়েছে । বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহণ এখন শিক্ষার্থীদের নিয়ে ছেড়ে যায় গন্তব্যস্থলে। সবকিছু মিলে ইদের ছুটির মধ্যে শিক্ষার্থী শুন্য ক্যাম্পাস আবার শিক্ষার্থীদের পদচারণায় নতুন ভাবে প্রাণ ফিরে পেয়েছে। ছুটির সময়ের ঘুমিয়ে থাকা ক্যাম্পাস যেন পূর্বের ন্যায় আবার জেগে উঠেছে। নাড়ির টানে বাড়িতে দীর্ঘদিন অতিবাহিত করার পর ক্যাম্পাসে ফিরে প্রথমে অস্বস্তিবোধ করলেও মানিয়ে নিতে মোটেও অসুবিধা হচ্ছে না আবাসিক শিক্ষার্থীদের।

শিক্ষার্থীদের ফিরে আসার মাধ্যমে আবার প্রাণোবন্ত হয়ে উঠেছে চির সবুজে ঘেরা এই প্রাণপ্রিয় ক্যাম্পাস। প্রতিটি সময় এভাবেই মুখরিত হয়ে থাকবে বাকৃবির প্রাঙ্গন এই আশাই ব্যাক্ত করছি।

বার্তা বাজার/এস.আর

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর