যমুনার তীর ভাঙ্গা ঢেউয়ে গা ভাসায় দুরন্ত কৈশোর

বর্ষায় কখনো মেঘ, কখনো বৃষ্টি তাই বলে কি চঞ্চল কিশোরেরা ঘরে বসে থাকবে? নিশ্চয় না; কারণ বাড়ি থেকে নেমে গেছে বন্যার পানি। আর তাই তো একদল দুরন্ত কিশোর জল খেলায় মেতে উঠেছে। এ যেন রং তুলির বদলে যমুনার তীর ভাঙ্গা-পানি দিয়ে আঁকা দুরন্ত কৈশোরের প্রতিচ্ছবি।

তাদের কাছে যমুনা আনন্দ-উল্লাস, হইহুল্লোড় আর উচ্ছ্বাস প্রকাশের নদী। যমুনা পাড়ের প্রতিটি মানুষের জীবনের পরতে পরতে যেন মিশে আসে এ জল। রোদে পোড়া ক্লান্তি ওদের নিমিষেই হারিয়ে যায় যমুনার জলে।

শৈশব ও দুরন্ত কৈশোরের সব আনন্দ ওদের জলকেলিতে। ঠাণ্ডা পানির স্পর্শ থেকে বেরিয়ে আসে ওদের সজীব আনন্দ। এক দুই ঘণ্টা নয়, টানা চার পাঁচ ঘণ্টা যমুনার জল তরঙ্গে এরা সাঁতার কেটে বেড়ায়।

ওদেরই একজন আকাশ। দশ-এগারো বছরের সবুজ ও মেরাজের কাছে যমুনার ঢেউয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ভাসা কোন কষ্টের নাম নয়। এর নাম উল্লাস, আনন্দ আর উচ্ছ্বাস।

তার আগে বেশ দূর থেকে ওদের দেখে মনে হচ্ছিলো কাছে না গেলে ‘মিস’। তাই দূর থেকে স্পিডবোট ঘুরিয়ে নিতে হলো। কাছে এসে গতি থামিয়ে দিতেই কিশোরের দল ঝাঁপিয়ে পড়লো যমুনার জলে। মনে হচ্ছিল স্পিডবোড তাদের উদ্ধারে এসেছে! কিন্তু না,বরং তাদের জলকেলির সঙ্গী হতেই কাছে যাওয়া।

দুরন্ত কৈশোর।।। ছবিঃ বার্তা বাজার।

লাফালাফি করে ওরা স্পিডবোট ধরে বেশ কাত করে ফেলছিলো। চালক পেছনে ঘুরিয়ে নিলেন। ওরা আবার ব্যস্ত হলো জলকেলিতে। আনন্দময় শৈশবের এক দুপুরে ওদের উল্লাসের দৃশ্যটি সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর ঘাটাবাড়ি বালুচর নামক যমুনার তীরে জলতরঙ্গে মাড়িয়া শৈশব কৌশরের সুখময় সময় পার করছে এরা।

যমুনার পাড়ে এই কৈশোর দলের প্রতিদিনের ঠিকানাই জলতরঙ্গের সঙ্গে লাফালাফি। এ যেন যমুনার স্রোতের প্রখরতা লঞ্চ ডুবিয়ে দেয়। সেই স্রোতে গা ভাসায় এরা প্রতিনিয়ত। তীর ভাঙ্গা ঢেউ মোকাবেলা তাদের কাছে জীবনের আর এক নাম। সেই ঢেউকে আবার ভয় কীসে।

বার্তা বাজার/এস.আর

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর