নারায়ণগঞ্জে এক গৃহবধূকে অচেতন করে ধর্ষণ ও অশ্লীল ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে কয়েক লাখ টাকা ও স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে পুলিশের একজন কনস্টেবলের বিরুদ্ধে।
সোমবার সকালে ভুক্তভোগী গৃহবধূ নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলার তদন্তকারী সংস্থা ডিবি সাব্বির আহমেদ মেহেদী নামের ওই পুলিশ কনস্টেবলকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অভিযুক্ত সাব্বির আহমেদ মেহেদী চাঁদপুর হাজীগঞ্জ থানা মালিগাঁও এলাকার। সে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ সানারপাড় পদ্মকুড়ি স্কুলের সামনে মো. মিজানুর রহমানের বাড়ির ভাড়াটিয়া।
মামলার অভিযোগে গৃহবধূ উল্লেখ করেন, আমি আমার দুই মেয়েকে নিয়ে স্কুলে আসা-যাওয়ার সুবাধে সাব্বির আহম্মেদ মেহেদীর সঙ্গে পরিচয় হয়। পরে মোবাইল ফোনে কথা হতো। ৭ আগস্ট সাব্বির আমাকে ফোন করে বলে যে জরুরী কথা আছে। তখন আমি আমার ভাইয়ের বাসা চাষাঢ়ায় আছি বলে জানাই। তাকে বাসায় আসতে বলি। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় সাব্বির আমার ভাইয়ের বাসায় আসার সময় সঙ্গে একটি কোকাকোলার বোতল নিয়ে আসে। সে আমাকে কোকাকোলা খাওয়ানোর পর আমি অচেতন হয়ে যাই। তখন বাসায় কোনো লোক না থাকার সুযোগে সে আমাকে ধর্ষণসহ বিভিন্ন অশ্লীল ছবি তুলে।
ওই নারী অভিযোগে আরো জানান, পরবর্তীতে আমার জ্ঞান ফিরলে সাব্বির আমাকে হুমকি দেয় যে, তোমার নোংরা ছবি আমার কাছে আছে। উক্ত বিষয়ে কাউকে জানালে আমি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেব। এ সুযোগে আরো কয়েকবার সে বিভিন্ন জায়গা নিয়ে ধর্ষণ করে। এক পর্যায়ে অশ্লীল ছবির ভয় দেখিয়ে তিন লাখ টাকা দাবি করে। পরে মান সম্মানের ভয়ে দুই লাখ টাকা দেই। আর সাব্বির আমার কিছু গহনা হাতিয়ে নেয়। পরবর্তীতে সাব্বির আরো এক লাখ টাকা দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করে এবং গত ১১ আগস্ট বিকাশের মাধ্যমে ৩০ হাজার টাকা দিই। পরে আমি সাব্বিরকে আর টাকা দেব না বললে তার মোবাইলের অশ্লীল ছবিগুলো আমার মোবাইলে পাঠিয়ে দেয়। এসব ছবি আমার স্বামীর মোবাইলসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়াসহ বিভিন্ন হমকি দেয়। এ ঘটনায় সুষ্ঠু ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।
ওই নারীর ভাই জানান, তাকে ডিবি জানিয়েছে অভিযুক্ত মেহেদী ডিএমপির পুলিশ কনস্টেবল। কিন্তু কোন এলাকার সেটা স্পষ্ট করেনি।
নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার পরিদর্শক (অপারেশন) জয়নাল আবেদীন জানান, ‘এক নারী বাদী হয়ে ধর্ষণের মামলা করেছেন। মামলাটি ডিবি তদন্ত করছে।’
ডিবির পরিদর্শক এনামুল হক জানান, মেহেদী নামের এক যুবককে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে সে পুলিশের কনস্টেবল কি না সেটা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
বার্তা বাজার/এস.আর