যশোর শহরের চাঁচড়া ডালমিল এলাকায় ভাড়াটিয়া গৃহবধূ সালমা(২৪)হত্যা মামলায় প্রায় ১১ মাস পরে ঘাতক স্বামী ফারুক হোসেনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।সে সাতক্ষীরা জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার ঘোজা ডাঙ্গা গ্রামের নূর ইসলাম ওরফে নূরু ঢালীর ছেলে।
গ্রেফতারের পর ফারুক হোসেন নিজ স্ত্রীকে চিকিৎসার নামে হাসপাতালে নেওয়ার পথে রিকশার মধ্যে গলা টিপে হত্যা করে বলে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবান বন্দি দিয়েছে।(সোমবার ২৬শে আগস্ট)দুপুরে যশোরের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আমলী আদালত যশোর কোতয়ালি গৌতম মল্লিকের আদালতে ফারুক হোসেন স্বেচ্ছায় জবান বন্দিতে স্ত্রী দুই সন্তানের জননী সালমাকে হত্যার বর্ণনা দিয়েছে।
মামলার বিবারণে জানাগেছে,ফারুক হোসেন তার দ্বিতীয় স্ত্রী সালমা বেগমকে নিয়ে যশোর চাঁচড়া ডালমিল এলাকার ইকু চৌধুরীর পুকুর পাড়ে ঘর নির্মাণ করে বসবাস করতো। সালমা অসুস্থ্যতার কারনে ফারুক হোসেন প্রথম স্ত্রীর সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে সালমাকে অবহেলা করতো।গত বছর ৮ অক্টোবর সালমা খাতুন চরমভাবে অসুস্থ্য হয়ে পড়লে স্বামী ফারুক হোসেন তাকে রিকশায় তুলে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসছিল।
পথিমধ্যে সালমা খাতুন মারা যায়।মৃত দেহ স্বামী ফারুক হোসেন হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষনা করে।এ ঘটনায় কোতয়ালি মডেল থানায় অপমৃত্যু মামলা দায়ের করে পুলিশ। যশোর কোতয়ালি মডেল থানার অপমৃত্যু মামলা নং ২০৯ তারিখ ৮/১০/১৮ ইং।অপমৃত্যু মামলায় যশোর কোতয়ালি মডেল থানার এসআই মিজানুর রহমান সুরোতহাল রির্পোট তৈরী করে সালমার মরদেহর ময়না তদন্ত সম্পন্ন করে। পারবর্তীতে ময়না তদন্ত ও ভিসারা রিপোর্টে বলা হয়েছে সালমাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।
ভিসারা রিপোর্টের পর গৃহবধূর সালমার ভাই সাতক্ষীরা জেলার দেবহাটা এলাকার বাসিন্দা জাকির হোসেন ফারুক হোসেনকে প্রধান আসামী ও তার মা ফজিলা বেগম এবং ভাই তুহিনকে আসামী করে যশোর কোতয়ালি মডেল থানায় মামলা দায়ের করে।কোতয়ালি মডেল থানার নিয়মিত মামলা নং ৭৮ তারিখ ৩০/০৭/১৯ ইং ধারা ৩০২/৩৪ পেনাল কোড।
মামলাটি তদন্তর দায়িত্ব দেওয়া হয় এসআই মিজানুর রহমানের উপর।মিজানুর রহমান হত্যা মামলার তদন্তর দায়িত্ব পাওয়ার পর ফারুক হোসেনের মাতা ফজিলা বেগম ও ভাই তুহিনকে গ্রেফতার পূর্বক আদালতে সোপর্দ করে। ফারুক হোসেন পলাতক জীবন যাপন শুরু করে। (রোববার২৫শে আগস্ট)দুপুরে বাদি জাকির হোসেনের মাধ্যমে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মিজানুর রহমান দেবহাটা এলাকা থেকে ফারুক হোসেনকে গ্রেফতার করে যশোর কোতয়ালি মডেল থানায় নিয়ে আসে।(সোমবার ২৬শে আগষ্ট)ফারুক হোসেনকে যশোর আদালতে সোপর্দ করা হলে সে আদালতের বিজ্ঞ বিচারকের সামনে স্বেচ্ছায় ১৬৪ ধারা জবানবন্দি প্রদান করে নিজ স্ত্রীর হত্যার বর্ণনা দেয়।
বার্তা বাজার/এস.আর