ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৩৭ কোটির টাকার টেন্ডার কে জিম্মি করতে তুচ্ছ ঘটনায় শাখা ছাত্রলীগের সাথে বিদ্রোহী গ্রুপের রাতভর দফায় দফায় সংঘর্ষ,গুলি ও ককটেল বিস্ফোরনের ঘটনা ঘটেছে। রবিবার দিবাগত সাড়ে ১০ টা থেকে শিক্ষার্থীদের সকল আবাসিক হলে থেমে থেমে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে দুই গ্রুপের প্রায় ১২ জন শিক্ষার্থী আহত হওয়ার খবর জানা যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে আহতদের কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়,‘বিদ্রোহী গ্রুপের এক কর্মী বর্তমান বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সভাপতি সেক্রেটারী ভয়ে কুষ্টিয়া থাকেন এমন ধরনের স্ট্যাটাস দেয়। ছাত্রলীগের কোন নেতাকর্মী যেন বর্তমান কমিটিতে যোগদান না করেন সেই বিষয়ে বিভিন্ন আবাসিক হলে হলে কর্মীদের হুমকি ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন বিদ্রোহী গ্রুপের কর্মীরা। এই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রাকিব সহ প্রায় ৩০/৩৫ জন নেতাকর্মী সহ সাদ্দাম হোসেন আবাসিক হলের ২০৫ নং কক্ষে গিয়ে বিদ্রোহী গ্রুপের কর্মী মোশারফ হোসেন নীল কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এসময় সাধারণ সম্পাদক রাকিব সহ বেশ কিছু নেতাকর্মীরা বিদ্রোহী গ্রুপের কর্মীদের শাসিয়ে বলেন,বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সকল সাংগঠনিক কর্মকান্ড কেন্দ্রের নিয়ম অনুযায়ী আমাদের সিদ্ধান্তক্রমে পরিচালিত হবে। অন্যকোন বহিরাগত ও বিদ্রোহীদের ইশরায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের কার্যক্রম পরিচালিত হতে পারেনা। এসময় বিদ্রোহী মোশারফ হোসেন নীল তাঁদের কথায় সায় না দিলে এক পর্যায়ে বাকবিতান্ড শুরু হয়। মূহুর্তের মধ্যেই বঙ্গবন্ধু আবাসিক হল থেকে বিদ্রোহী গ্রুপের নেতাকর্মীরা দেশীয় অস্ত্র লাঠিসোটা নিয়ে সাধারণ সম্পাদকের গ্রুপে হামলা চালালে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।
সংঘর্ষ চলাকালে উভয় গ্রুপের নেতাকর্মীদের হাতে লোহার রড, রামদা, জিআই পাইপ, দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি অবস্থান নিতে দেখা যায়। সংঘর্ষের একপর্যায়ে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে ও ককটেল বিস্ফোরিত হয়। থেমে থেমে রাতভর সংঘর্ষের পর রাত প্রায় দুইটার সময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের হস্তেক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আসে। এতে ক্যাম্পাসে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে ৫৩৭ কোটি টাকার টেন্ডার কে কেন্দ্র করেই মূলত হঠাৎ একটি গ্রুপ বেশ কয়েক দিন ধরে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরীর পাঁয়তারা করছেন বলে প্রগতিশীল শিক্ষকবৃন্দ অভিযোগ করেন।
ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, ‘ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত ও বহিরাগতদের নিয়ে ক্যাম্পাস কে অস্থিতিশীল করতে বিদ্রোহীরা বারবার হামলার পরিকল্পনা করে যাচ্ছেন। আমি বিদ্রোহী গ্রুপের কর্মীকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সাংগঠনিক কার্যক্রমে অছাত্র ও বহিরাগদের নিয়ে কথা বললে হঠাৎই অতির্কিত হামলা শুরু হয়।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা প্রফেসর ড. পরেশ চন্দ্র বর্মন বলেন, ‘আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি কে নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে দুই গ্রুপের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেছি। এখন ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।’
বার্তাবাজার/কে.জে.পি