আমাদের কারনে স্থানীয়দের সমস্যা হচ্ছে, আমরা জন্মভূমিতে ফিরতে চাই

রোহিঙ্গা নির্যাতনের দুই বছর পূর্ণ হলেও এখনও তার জন্মভূমিতে ফিরে যেতে পারেনি। নির্যাতনের শিকার এসব রোহিঙ্গা টেকনাফ দিয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ শুরু করে। তবে নিজ জন্মভূতিতে ফিরে যাওয়া আকুতিতে আজও দু’চোখ ভেজে তাদের।

রোববার রোহিঙ্গা নির্যাতনের দুই বছর পূর্ণ উপলক্ষে রোহিঙ্গারা উখিয়ার কুতুপালং ডি-৪ ক্যাম্প মাঠে এক বিশাল জনসমাবেশের আয়োজন করে। সেখানে নিজেদের অধিকার আদায়ে ঐক্যবদ্ধ থাকার ঘোষণাও দেন নেতারা। রোববার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে উখিয়ার কুতুপালংয়ের ক্যাম্প এক্স-৪-এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটির চেয়ারম্যান মাস্টার মুহিব উল্লাহ, আব্দুর রহিম, মোহাম্মদ ইলিয়াছসহ অন্য নেতারা। সমাবেশে উপস্থিত রেজিস্টার্ড ক্যাম্প কমিটির সদস্য রোহিঙ্গা সাইফুল বলেন, আমরা এখানে বসবাস করায় স্থানীয়দের অসুবিধা হচ্ছে। আমরা জন্মভূমিতে ফিরে যেতে চাই।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন,এ দেশের প্রধানমন্ত্রীর (শেখ হাসিনা) কাছে আমরা ঋণী। তিনি আশ্রয় দিয়ে আমাদের নতুন জীবন দিয়েছেন।

তবে রোহিঙ্গাদের নিয়ে অভিযোগ করেন টেকনাফ বাসিন্দা আবদুল হক। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা আসার কারণে অতিশয় দুর্ভোগে আছি। আমাদের প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য হারিয়ে গেছে, নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রবাদীর দাম আগুনের মতো বেড়ে গেছে।

রোহিঙ্গাদের কারণে এনজিওর কাজ করে এমন মানুষের সংখ্যা এত বেড়ে গেছে যা আমাদের এলাকার ধারণ ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে।তাই রোহিঙ্গারা যত তাড়াতাড়ি তাদের দেশে ফিরে যায় তত আমাদের জন্য ভালো।

আরেক বাসিন্দা রাজিয়া বেগম বলেন, রোহিঙ্গাদের প্রথমে আমরা মানবতা দেখিয়ে জায়গা দিয়েছিলাম, নিজের খাবার-দাবার এমনকি পরনের কাপড়-ছোপড়ও দিয়েছিলাম। কিন্তু এখন ওদের জন্য আমরা ঠিকমতো চলাফের করতে পারছি না।

এ ছাড়া আগের মতো আমরা হাটে-বাজারে যেতে পারছি না। যদিও তাদের ক্যাম্পের বাইরে যাওয়ার নিয়ম নেই তবুও তারা হাটে-বাজারে এসে ভিড় করছে, যা আমাদের জন্য অতীব কষ্টের বিষয় হয়ে উঠেছে।

উল্লেখ্য, রোববার রোহিঙ্গা সংকটের দুই বছর পূর্ণ হয়েছে। ২০১৭ সালের এ দিনে ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞের ঘটনা ঘটে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে।এর পর থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে রোহিঙ্গারা। বর্তমানে বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গার সংখ্যা প্রায় ১১ লাখ।

বার্তাবাজার/কেএ

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর