পটুয়াখালীর কলাপাড়া নীলগঞ্জ ইউনিয়নের উমেদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. রেজাউল করিম সোনাগাজী সেই মাদরাসার অধ্যক্ষের ষ্টাইলে ছাত্রীদের কক্ষে ডেকে যৌন হয়রানী করে ফেঁসে গেছেন।
বিদ্যালয়ের তৃতীয় থেকে প ম শ্রেণির একাধিক ছাত্রীকে স্কুল ছুটির পর শ্রেণি কক্ষে একা ডেকে শরীরের স্মর্শকাতর স্থানে হাত দেওয়াসহ যৌন হয়রানী করে। গত প্রায় তিন বছর ধরে প্রধান শিক্ষক এহেন ঘৃর্ণিত কর্মকান্ড করে আসছে। সর্বশেষ কোরবানীর আগে চতুর্থ শ্রেণির দুই ছাত্রীকে যৌন হয়রানী করে। ছাত্রীরা অভিভাবকদের কাছে ঘটনা খুলে বললে ফাঁস হয়ে যায় প্রধান শিক্ষকের যৌন হয়রানীর সিরিজ ঘটনা।
এ ঘটনার বিচার চাইতে প্রায় অর্ধশত অভিভাবক ও এলাকাবাসী শনিবার (২৪ আগষ্ট) দুপুরে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে প্রধান শিক্ষকের কক্ষ ঘেরাও করে। তারা বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে প্রধান শিক্ষকের শাস্তি দাবি করলে গোটা এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়। শতশত এলাকাবাসী এ সময় বিদ্যালয়ে ভীড় করে। খবর পেয়ে কলাপাড়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়।
অভিভাবক ও এলাকাবাসীদের ভীড় দেখে প্রধান শিক্ষক মো. রেজাউল করিম হঠাৎ অসুস্থ্য হয়ে পড়ে। তাৎক্ষণিক পুলিশ ও এলাকাবাসীদের সহায়তায় প্রধান শিক্ষককে উদ্ধার করে কলাপাড়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু তাঁর অবস্থার অবনতি ঘটলে বিকালে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়।
হাসপাতালে জরুরী বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক মো. আশরাফুল ইসলাম জানান, শিক্ষক রেজাউল করিম হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে বরিশাল রেফার করা হয়েছে।
একাধিক অভিভাবকের অভিযোগ, স্কুল ছুটির পড়ে অন্য শিক্ষকরা যখন চলে যেতো তখন শ্রেণি কক্ষের দড়জা,জানালা বন্ধ করার কথা বলে শ্রেণি কক্ষে ঢুকিয়ে ছাত্রীদের তাদের শরীরে হাত দিতো প্রধান শিক্ষক। বেে শুইয়ে নির্যাতনের চেষ্টা করতো।
গত কোরবানীর আগে নির্যাতনের শিকার হয়েছে চতুর্থ শ্রেণির দুৃই ছাত্রী। তাদেরই একজন কন্যা সাহসীকা(১১) (ছদ্মনাম)। তার অভিযোগ, স্যার আমাকে ক্লাসের জানালা বন্ধ করতে বলে। আমি জানালা বন্ধ করে বের হওয়ার সময় স্যার (প্রধান শিক্ষক) আমাকে চেপে ধরে। আমার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় হাত দেয়। এছাড়া (.. লেখার অযোগ্য) চেষ্টা করে। এ সময় সে ডাক চিৎকার দিলে তার মুখ চেপে ধরে এবং পকেট থেকে পাঁচশ টাকার নোট বের করে এ ঘটনা কাউকে বলতে নিষেধ করে।
এ ছাত্রীর মা অভিযোগ করেন, তার মেয়ে বাসায় গিয়ে এ ঘটনা খুলে বলে। মেয়ে ভয়ে দুই দিন স্কুলে যায়নি। এ ঘটনা প্রতিবেশীসহ স্কুল কমিটির কাছে নালিশ করলেও তারা কোন ব্যবস্থা না নিয়ে ঘটনা চেপে যেতে বলে।
অপর যৌন হয়রানীর শিকার ছাত্রীর অভিযোগ, হেড স্যার স্কুল ছুটির পর রুমের মধ্যে আটকে পায়জামার দড়ি ছিড়ে ফেলে। বেে র উপর শোয়ানোর চেষ্টা করে। সারা শরীরে হাত দেয়। তাকে হাতে কামড় ও ডাক চিৎকার দিলে তাকে ছেড়ে দেয় এবং টাকা ও স্কুলের বিস্কুটের প্যাকেট দেয়ার প্রলোভন দেখায়।
এ ছাত্রীর বোন অভিযোগ করেন, তার ছোট বোন ক্লাস ফোরে। তার উপরও কুনজর পড়েছে বুড়া হেড মাষ্টারের। তার শাস্তির জন্য বিচার দিতে স্কুলে এসেছেন অন্য অভিভাবকদের সাথে। তারা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন প্রধান শিক্ষকের।
প ম শ্রেণির একাধিক ছাত্রী অভিযোগ করে বলেন, তারা যখন তৃতীয় শ্রেণিতে পড়তো তখনও এভাবে স্কুৃল ছুটির পর স্যার রুমে আটকে আমাদের শরীরে হাত দিতো। তখন আমরা কিছু না বুজলেও এখন বুজতে পারি। এখনও স্যার আমাদের গায়ে হাত দেয়। প্রতিবাদ করলে টাকার লোভ দেখায়। সামনে পরীক্ষা তাই আমরা ভয়ে কিছু বলি না।
অভিভাবক গোলাম মোস্তফা জানান, তার নাতনী এ বিদ্যালয়ে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ে। প্রধান্ শিক্ষক ছাত্রীদের সাথে যে ঘৃর্ণিত আচরণ করেছেন তা ক্ষমার অযোগ্য। একই কথা বলেছেন স্থানীয় বয়োবৃদ্ধ হাতেম আলী সরদার। তিনি বলেন, ছোট ছোট মেয়েরা। তারাও যদি খোদ স্কুলে এ ধরণের পরিস্থিতিতে পড়ে স্কুলে, তাহলে কোথায় তারা নিরাপদে থাকবে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. মুসা খান বলেন, তাাদের কাছেও অনেক অভিভাবক অভিযোগ করেছেন। বিষয়টি ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরাও জানেন। এজন্য প্রধান শিক্ষককে সতর্ক করে দেয়া হয়েছিলো। কিন্তু আজতো সকল অভিভাবকই অভিযোগ নিয়ে এসেছে।
এ বিদ্যালয়ে প্রাক প্রাথমিক থেকে প ম শ্রেণি পর্যন্ত ১১৯ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। এদের মধ্যে ছাত্রী রয়েছে ৬৪ জন। পাঁচ জন শিক্ষকের পদ থাকলেও দায়িত্বরত আছেন চার জন।
এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক মো. রেজাউল করিমের কাছে সাংবাদিকরা ছাত্রীদের যৌন হয়রানী করার বিষয়ে জানতে চাইলে কোন সদুত্তর দেননি। এমনকি তার সামনে ছাত্রীরা আঙ্গুল তুলে ঘটনার সত্যতা ও ঘটনার বর্ণনা করলেও তিনি চুপ করে থাকেন। এর কিছুক্ষণ পরই তিনি অসুস্থ্য হয়ে পড়েন।
বার্তা বাজার/এস.আর