ঢাকায় বসবাসরত ভোলা সদরের বাসিন্দা এক গৃহবধূকে তার স্বামী ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নিহতের স্বামী পুলিশের কনস্টেবল পদে ঢাকায় কর্মরত।
ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে পাঁচ লাখ টাকা ও বৌয়ের প্রাপ্ত সম্পত্তির বিনিময়ে সালিশ করে নিহতের ভাইদের সাথে দফারফা করে ময়নাতদন্ত ছাড়াই আজ শনিবার সকালে লাশ দাফন করা হয়। তবে নিহতের স্বামীর দাবি- তার স্ত্রী আত্মহত্যা করেছে।
আজ শনিবার সকালে সরেজমিনে গেলে স্থানীয়রা জানান, ভোলা সদর উপজেলার পূর্ব ইলিশা ইউনিয়নের সরদার বাড়ি নাছির হাওলাদারের মেয়ে জেসমিনের (২৭) সাথে প্রায় ১২ বছর আগে একই উপজেলার পশ্চিম ইলিশা বিশ্বরোড এলাকার পুলিশ কনস্টেবল মো. মাকসুদের (৩২) বিয়ে হয়। তাদের ২ সন্তান রয়েছে।
নিহতের স্বামী ঢাকায় থাকেন। গত ১৮ তারিখ রাতে মাকসুদের ছুরিকাঘাতে জেসমিন গুরুতর আহত হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল শুক্রবার ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
অভিযোগ রয়েছে, স্বামীর পরোকীয়ায় বাঁধা দেওয়া ও অন্য নারী ঘরে আনা নিয়ে তাদের দাম্পত্য কলহ হয়। এর জেরে এ ঘটনা ঘটে। তবে এ ঘটনা ধামাচাপা দিতে পাঁচ লাখ টাকা ও স্ত্রীর সম্পত্তির অর্ধেকের বিনিময়ে নিহতের ভাইদের ম্যানেজ করা হয় বলে নিশ্চিত করেন স্থানীয় সালিশদার প্রতিনিধি মানিক বাঘা।
পরে শনিবার ভোলার ইলিশায় তাকে দাফন করা হয়। এ ব্যাপারে নিহতের পরিবারের সদস্যরা রহস্যজনক কারণে মুখ খুলতে নারাজ।তবে নিহতের স্বামী তার স্ত্রীকে হত্যা করেননি বলে জানান।
তিনি বলেন, ১৮ আগস্ট রাত ১০ টার দিকে তার স্ত্রী নিজেই ছুরি দিয়ে পেটে আঘাত করে। তাকে প্রথমে মুগদা হাসপাতালে নেওয়া হয়। তারপর ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। এবং সেখানেই সে মারা যায়। পুলিশ এ ব্যাপারে কাউকে আটক করেনি।
তবে পুলিশ কনস্টেবল মাকসুদুর রহমান ছুরি দিয়ে তার স্ত্রীকে হত্যা করেছে এমন কথা তার ছোটো মেয়ে বলেছে। এমন একটি ভিডিও ফুটেজ কালের কণ্ঠের প্রতিনিধির হাতে রয়েছে।
ভোলা সদর থানার ওসি মো. ছগির মিয়া ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বলেন, লাশ দাফন সম্পন্ন হয়েছে। আমাদের কাছে এখনো কেউ অভিযোগ করেনি।
বার্তাবাজার/কেএ