ভৈরব নদে ফেলছে ময়লা-আবর্জনা, দুষিত হচ্ছে মাটি পানি ও বায়ু

বাংলাদেশ পরিবেশ অধিদপ্তরের কোন অনুমোদন ছাড়াই শহরের বকচর এলাকায় গড়ে উঠেছে একাধিক পোড়া মবিল রিপিয়ারিং কারখানা।আবাসিক এলাকার ওই কারখানা গুলোর দূষিত ময়লা-আবর্জনা নিষ্কাশনের সঠিক ব্যবস্থা না থাকায় তা পড়ছে ভৈরব নদে।ফলে আশপাশের পরিবেশসহ নদের জীব বৈচিত্র্য ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।

এ ছাড়াও কারখানাগুলোয় বন উজাড় করে প্রতিদিন শত শত মণ কাঠ পুড়ানো হচ্ছে।এদিকে এ নদের তীরবর্তী এলাকায় হাসপাতাল-ক্লিনিক, হোটেল- রেস্তোরাঁসহ বিভিন্ন স্থানের বর্জ্য ফেলা হচ্ছে নদে।ফলে ব্যাপক দূষণের কবলে পড়ে ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে এ ভৈরবনদ ও আশপাশের এলাকার পরিবেশ।শহরের যতো ময়লা-আর্বজনা,বর্জ্য ফেলা হচ্ছে এই নদে।ফলে নদের বুক উঁচু হয়ে যাচ্ছে।এতে নদের শহরাংশ সারাবছর থাকছে পানিশূন্য। বাড়ছে মশা-মাছির উপদ্রব।বর্ষা মৌসুমে দেখা দিচ্ছে জলাবদ্ধতা।

স্থানীয়দের দাবি,কারখানা থেকে নির্গত বিষাক্ত কার্বণে এবং শহরের বজ্যে তাদের পোষা প্রাণীও মারা যাচ্ছে।বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানালেও কোন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না।সরেজমিনে জানা যায়,প্রায় এক দশক ধরে বকচর এলাকার ভৈরব নদের পাশে কিছু অসাধু লোক পুরনো মবিল রিপিয়ারিং ব্যবস্থা করছে।প্রতিদিন কারখানায় পুরানো মবিল রিপিয়ারিংয়ের কাজ হয়।

এ জন্য জ্বালানি হিসেবে কাঠ ব্যবহার করা হয়।এ সময় প্রচন্ড ধোয়া ও বিষাক্ত গন্ধে এলাকায় বসবাসের অনুপোযোগী হয়ে পড়ে।তাছাড়াও কারখানা গুলোর বর্জ্য নিষ্কাশনের কোন নিজস্ব ব্যবস্থা নেই।কারখানা থেকে পাইপ দিয়ে সরাসরি শহরের পানি নিষ্কাশনের জন্য তৈরি ড্রেনে ফেলা হচ্ছে।যা গিয়ে পড়ছে ভৈরব নদে।কারখানার বর্জ্য পড়া ভৈরবের ওই এলাকায় কোন জলজ উদ্ভিদ নেই।

এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়,এক সময় তারা নদের ওই এলকাায় মাছ শিকার করতেন। কিন্তু বর্তমানে মাছতো দুরের কথা সেখানে কোন জলজ প্রাণীই নেই। তারা আরো জানান,কারখানার বিষাক্ত বর্জ্য পড়ে নদের জীব বৈচিত্র ধ্বংসের পাশাপাশি এলাকার পরিবেশ দূষিত হয়ে পড়েছে।বিষাক্ত কার্বনে এলাকার কোন বাড়িতে পোষা কোন প্রাণী নেই।

স্থানীয়দের দাবি,পোড়া মবিল রিপিয়ারিং কারখানার কারণে এলাকায় বসবাস করার অনুপোযোগীর কথা তারা জনপ্রতিনিধিদের জানিয়েছেন। প্রশাসনকেও জানিয়েছে।কিন্তু অবৈধভাবে আবাসিক এলাকায় গড়ে ওঠা ওই কারখানাগুলোর বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।অন্যদিকে,যশোর সদর উপজেলার হামিদপুরে সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্প স্থাপন করা হলেও নদের তীরবর্তী এলাকায় হাসপাতাল-ক্লিনিক, হোটেল-রেস্তোরাঁসহ বিভিন্ন স্থানের বর্জ্য পৌরসভার ভ্যানে না দিয়ে সরাসরি ফেলছে নদে।

এ ব্যাপারে বকচর এলাকার কৃষিবীদ সিরাজুল ইসলাম মৃধা বলেন সরকারের অনুমতি ছাড়াই কিভাবে এরা এই অনৈতিক কর্মকান্ড চালায়?পোড়া মবিল রিপিয়ারিং কারখানার ধোয়া আর বিসাক্ত গ্যাসে মাটি,পনি ও বায়ু সবই দুষিত হচ্ছে,অচিরেই তিনি এগুলো বন্ধ করার দাবিজানান।ভৈরব নদ রক্ষা কমিটির আহবায়ক ইকবাল কবির জাহিদ বলেন,আমরা প্রশাসনের কাছে বার বার বিষয়টি উত্থাপন করেছি।কিন্তু কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

বার্তা বাজার/এস.আর

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর