সিরাজগঞ্জে বাল্যবিয়ে থেকে রক্ষাপেল তিন স্কুল ছাত্রী!

সিরাজগঞ্জ সদরে একই রাতে তিন স্কুল ছাত্রীকে বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা করেছেন সদরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আনিসুর রহমান।

শুক্রবার (২৩ আগস্ট) সিরাজগঞ্জ সদরের খোকশাবাড়ী ইউনিয়নের দিয়াড় পাচিল গ্রামের ছাত্রী মোছাঃ ফাতেমা খাতুন (১৬),সয়দাবাদ ইউনিয়নের মূলীবাড়ী গ্রামে অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী মোছাঃ নুপুর খাতুন (১৪) ও শিয়ালকোল ইউনিয়নের শিলন্দা পূর্বপাড়া গ্রামে তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী মোছাঃ সনি খাতুন (১৩) এর বাল্যবিবাহ বন্ধ করা হয়।

আদালত সূত্রে জানা যায়,শুক্রবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিরাজগঞ্জ সদরের খোকশাবাড়ী ইউনিয়নের দিয়াড় পাচিল গ্রামে সংগীয় ফোর্স নিয়ে কনের বাড়ীতে উপস্থিত হন ভ্রাম্যমাণ আদালত। তখন কনের বাড়ীতে কনে দিয়াড় পাচিল গ্রামের আব্দুল মালেক রতন এর মেয়ে ফাতেমা খাতুন (১৬) এর সাথে পৌরসভার কালীবাড়ী ঘোষপাড়ার স্থানীয় কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান ৩য় বর্ষের ছাত্র বায়েজিদ বোস্তামী (২১) এর বিয়ের আয়োজন চলছিল। সে কালীবাড়ি ঘোষপাড়ার আব্দুল বারী এর পুত্র।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে কাজী পালিয়ে যায়। কনে অপ্রাপ্তবয়স্ক।এরপর ভ্রাম্যমাণ আদালত বাল্যবিবাহ বন্ধ করে কনের বাবা আব্দুল মালেক রতনকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন এবং কনের বাবার কাছ থেকে কনের ১৮ বছর না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে দিবে না বলে মুচলেকা নেন।

পরে সিরাজগঞ্জ সদরের সয়দাবাদ ইউনিয়নের মূলীবাড়ী গ্রামে অভিযান চালান ভ্রাম্যমাণ আদালত। তখন কনের বাড়ীতে কনে নয়ন সেখের কন্যা নুপুর খাতুন (১৪) এর সাথে পৌরসভার হোসেনপুরের মৃত আব্দুল শেখের পুত্র হিরা মন্ডল (৩২) এর বিবাহের আয়োজন চলছিল। কনে স্থানীয় উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী। এরপর ভ্রাম্যমাণ আদালত বাল্যবিবাহ বন্ধ করে দিয়ে কনের বাবার কাছ থেকে কনের ১৮ বছর না হওয়া পর্যন্ত বিবাহ দিবেন না মর্মে মুচলেকা নেন এবং কনের বাবা নয়ন শেখ ও বর হিরা মন্ডল প্রত্যেককে ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করেন।

এরপর রাত ৯ টায় শিয়ালকোল ইউনিয়নের শিলন্দা পূর্বপাড়া গ্রামে অভিযান চালান ভ্রাম্যমাণ আদালত। তখন কনের বাড়ীতে কনে শিয়ালকোল ইউনিয়নের শিলন্দা পূর্বপাড়া গ্রামের সেলিম হোসেন এর কন্যা সনি খাতুন (১৩) এর সাথে কালিয়া হরিপুর ইউনিয়নের চরবনবাড়ীয়া গ্রামের ইমান আলী এর পুত্র মনিরুল ইসলাম (২৫) এর বিবাহের আয়োজন চলছিল। কনে স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেনীর ছাত্রী। কনে অপ্রাপ্তবয়স্ক। পরে কনের বাবার কাছ থেকে কনে প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত বিবাহ দিবেন না বলে মুচলেকা নেয়া হয় এবং কনের পিতা সেলিম হোসেনকে ১০ দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করা হয়। এ সময় পৌর ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মোঃ নজরুল ইসলাম ও আনসার ব্যাটালিয়নের সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

বার্তাবাজার/কে.জে.পি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর