১৪, ডিসেম্বর, ২০১৮, শুক্রবার | | ৫ রবিউস সানি ১৪৪০

আসামের রাজনীতিতে তৃণমূলের প্রবেশ

আপডেট: ডিসেম্বর ৫, ২০১৮

আসামের রাজনীতিতে তৃণমূলের প্রবেশ

নাগরিকপঞ্জী নিয়ে ভারত জুড়ে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামে জল মাপতে নেমে পড়লেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। বুধবার থেকে আসামে শুরু হয়েছে দু’দফার পঞ্চায়েত নির্বাচন। আর এই নির্বাচনে প্রথমবারের মত অংশগ্রহণ করছে তৃণমূল কংগ্রেস।

‘ত্রিস্তর পঞ্চায়েতের সর্বোচ্চ স্তর জেলা পরিষদের চারশ ২০টি আসনের মধ্যে একশ ৮০টি আসনে আমরা প্রার্থী দিয়েছি। প্রথমবারের মতো অংশগ্রহণ করে ৪০ শতাংশের বেশি আসনে প্রার্থী দেওয়া কম কথা নয়,’ বলেন এক তৃণমূল নেতা।

জুলাই মাসের ৩০ তারিখে নাগরিকপঞ্জী প্রকাশ হয় এবং তারপর থেকে মমতার রাজনৈতিক কার্যক্রমের মধ্যে আসামের গুরুত্ব ক্রমশ বাড়ছে। নাগরিকপঞ্জী প্রকাশের পরপর যে বিতর্ক শুরু হয়, ওই সময়ই মমতা তার এক প্রতিনিধিদল আসামে পাঠান। কিছুদিন আগে আসামে বাঙালি নিধনের পরেও তৃণমূলের নেতারা নিহতদের পরিবারের কাছে যান।

‘আসামে বাঙালিদের ওপর যে অত্যাচার চলছে, দিদি তার বিরোধিতা করতে বদ্ধপরিকর। প্রথমে নাগরিকপঞ্জী থেকে ৪০ লাখ বাঙালির নাম বাদ দেওয়া হয়। তারপর হলো বাঙালি নিধন। আসামের বাঙালিরা যাতে নিরাপত্তাহীনতায় না ভোগেন, তাই আমরা তৃণমূলের তরফ থেকে নির্বাচনে নেমেছি,’ বলেন এক তৃণমূল নেতা।

যদিও তৃণমূল ত্রিস্তর পঞ্চায়েতের বাকি দুই স্তরে গ্রাম পঞ্চায়েত এবং আঞ্চলিক পঞ্চায়েত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে না, আগামীতে আসাম নিয়ে অনেক পরিকল্পনা রয়েছে মমতার দলের।

‘আসামের বাঙালি অধ্যুষিত এলাকাগুলো থেকে লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থী দেবে,’ জানিয়েছেন এক তৃণমূল নেতা।

‘তারা আমাদের রাজ্যে গোলমাল সৃষ্টি করতে আসছেন। আমরা তা আটকাবো এবং তার সাথে বিজেপি শাসিত রাজ্যে ওদের সাথে রাজনৈতিক লড়াই করব,’ বলেন এক তৃণমূল নেতা।

নাগরিকপঞ্জী এবং নাগরিকত্ব আইন বদলের আবহে হতে চলা এই নির্বাচনে বিজেপি আর জোটসঙ্গী অাসাম গণ পরিষদের লড়াই মূলত কংগ্রেসের এবং এআইডিউএফ এর সাথে। তবে তৃণমূলের অংশগ্রহণ এই নির্বাচনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

বুধবার প্রথম দফার নির্বাচনের পর ডিসেম্বরের ৯ তারিখে দ্বিতীয় দফার নির্বাচন। ভোট গণনা হবে ডিসেম্বরের ১২ তারিখে।