চাকুরীতে ঢুকেই স্ত্রী হাসিনাকে শহিদুল ফোন করে বলেছিলেন, খুব দ্রতই পাওনাদারদের টাকা পরিশোধ করে দিবো শোধ করা হলো না পাওনাদারের টাকা।
তার আগেই ১৫ আগষ্ট মালশিয়ার শহিদুল হৃদযন্ত্রেরক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যুরকোলে ঢলে পরেন। টাংগাইল ঘাটাইল উপজেলার দিগর ইউনিয়নের টেগুরী গ্রামের একাব্বার হোসেনের ছেলে শহিদুল ইসলাম জীবন-জীবিকার সন্ধানে মালশিয়া গিয়ে লাশ হয়ে ফিরলেন। গত বুধবার (২১ আগস্ট ) সকালে নিহত শহিদুলের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে এসে পৌছালে সেখানে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়।
এলাকাবাসী জানায়, অভাবের সংসারে স্বচ্ছলতা ফেরাতে ধার দেনা করে প্রায় একবছর ছয়মাস আগে মালশিয়া পাড়ি জমিয়েছিলেন শহিদুল ইসলাম (৪০)। সেখানে গিয়ে একটি চাকরি জোটে তার। স্বপ্ন দেখেন সুন্দর ভবিষ্যতের। টাকা পাঠাবেন। ছেলে হাবিব, মেয়ে ছাবিনা ভাল স্কুলে পড়াশুনা করাবেন।
বৃদ্ধ মা সন্তানের নিথর দেহ দেখে বাকরুদ্ধ হয়ে যান। স্ত্রী লাশের পাশে বার বার ছুটে যাচ্ছেন প্রিয় মানুষের মুখখানা একবার দেখার জন্য। বারবার মূর্ছা যান তিনি।
সন্তান দুটি কাঁদছেন অঝোর ধারায়। উপস্থিত সবাই তাদের কি শান্তনা দিবে। কেউ কোন ভাষা খুঁজে পাচ্ছিলেন না।
এর আগে মঙ্গলবার রাতে ঢাকা বিমানবন্দর থেকে নিহত শহিদুেেলর কফিন গ্রহন করেন ছোট ভাই হাসেম আলী। বুধবার সকালে শহিদুলের মৃতদেহ বাড়িতে আসছে এমন সংবাদ গ্রামে পৌছালে শত শত শোকার্ত মানুষ আগে থেকেই বাড়িতে গিয়ে ভীর করতে থাকে।
নিহতের ছোট ভাই হাসেম আলী জানান, আমরা দুই ভাইয়ের মধ্যে শহিদুল বড়। জীবিকার সন্ধানে গত দেয় বছর আগে দালালের মাধ্যমে মালশিয়ায় জান। একটি কোম্পানীতে চাকরি শুরু করেন।
মালশিয়ার হৃদযন্ত্রেরক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান শহিদুল ইসলাম। বহু প্রতিক্ষার পরে মঙ্গলবার রাতে দেশে আসে ভাইয়ের লাশ। সেখান থেকে সকালে এ্যাম্বুলেন্স করে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসি। বুধবার সকাল ১১ টায় টেগুরী ঈদগা মাঠে নিহত শহিদুলের জানাযা নামাজ শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে।
বার্তাবাজার/এস.আর