চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে কাজ না করে প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

ঘাটাইলের আনেহলা ইউপি চেয়ারম্যান তালুকদার মো: শাহজাহানের বিরুদ্ধে কাজ না করে প্রকল্পের নামে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় হাটকয়ড়া গ্রামের বাসিন্দা বায়েজীদ তালুকদার ওই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে প্রকল্পের অর্থ আত্ম সাতের বিষয়ে সুনিদিষ্টভাবে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দাখিল করেছেন।

অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে অনুসন্ধানে গেলে দেখা যায় ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে আনেহলা ৪নং ওয়ার্ডের ভূমি অফিস থেকে জুলুর বাড়ি পাকা রাস্তা পর্যন্ত রাস্তার বিভিন্ন জায়গায় গাইড ওয়াল নির্মানের নামে ২লাখ ৮১ হাজার ৮শ’ ৪৭ টাকা বরাদ্ধ দেখিয়ে সামান্য কাজ করেছে।

ওই একই প্রকল্পের নামে আবারও ১লাখ ৯৭ হাজার ৭শ’ ৫০ টাকা বরাদ্ধ দেখিয়ে কোন কাজ না করেই অর্থ আত্মসাত করা হয়েছে। একই অর্থ বছরে একই ওয়ার্ডের হামিদের বাড়ি থেকে বারেকের বাড়ি পর্যন্ত একটি রাস্তার নামে প্রকল্পের বরাদ্ধ ধরা হয়েছে ১লাখ ৫৬ হাজার ১শ‘ ৭৮ টাকা। রাস্তাটি দৈর্ঘে ৫০ গজের মতো। স্থানীয় জুলহাস জানায় ২/৩ বছর আগে ৪০ দিন কর্মসূচীর শ্রমিক দিয়ে এখানে কয়েক পাইছা মাটি ফেলানো হয়েছে।

তাছাড়া এ রাস্তায়কোন কাজ করা হয়নি। ৯ নং ওয়ার্ডের গকুলনগর ‘তোজাম্মেলের বাড়ি থেকে সিংগুরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় গেট’ নামে একটি প্রকল্পের বরাদ্ধ রয়েছে ১লাখ ৫০ হাজার টাকা। অথচ স্থানীয় বজলুর রহমান জানান-এ প্রকল্পের ১ কি.মিটারের মধ্যে ২/১ বছরে কোন কাজ করা হয়নি। ওই গ্রামের আ: কদ্দুছ জানান, চলতি বৎসর জুন মাসের দিকে ৪০ দিন প্রকল্পের শ্রমিক দিয়ে সামান্য কাজ করা হয়েছিল। তা ছাড়া কোন কাজ করা হয়নি বলে জানান।

অভিযোগের ভিত্তিতে একই অর্থ বছরের ‘বাশকাইল পাকা রাস্তা থেকে লোকেরপাড়া মজনুর বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা পুন: মেরামত’ নামে কাবিটা প্রকল্পটিতে সরেজমিনে গেলে স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার নাসির উদ্দিনের সাথে কথা হয়। তিনি জানান, এ রাস্তার বাশকাইল ব্রীজ পাড় থেকে খালেকের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তায় ৪০ দিনের প্রকল্পের কাজের শ্রমিক দিয়ে আমি কিছু কাজ করিয়েছিলাম।

এ ছাড়া এ রাস্তায় কোন কাজতো দুরের কথা এ রাস্তার নামে কোন প্রকল্প হয়েছে কিনা তাও আমার জানা নাই। এক সময় ব্রীজ পাড়ের কাছে রাস্তার এক জায়গায় গর্ত ও কাদা হয়ে খাদের সৃষ্টি হয়ে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছিল। ওই সময় রিপন মিয়া নামে এলাকার একজন মাটি ব্যবসায়ি ২৫ হাজার টাকা দেয়। সেই টাকা দিয়ে মাটি ও কিছু ইটের খোয়া দিয়ে রাস্তাটি চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়।

জানতে চাইলে ইউপি চেয়ারম্যান তালুকদার মো: শাহজাহান বলেন, আমি সঠিকভাবে কাজ করেছি। তবে পত্রিকায় তার বিরুদ্ধে কোন কিছু লিখলে কিছুই হবেনা বলে দম্ভোক্তি করেন।

উপজেলা প্রশাসনের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, এ অর্থ আত্মসাতের সাথে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা পিআইও এবং ইউএনও‘র যোগসাজস রয়েছে। ফলে শত অভিযোগেও কিছু হবেনা। জানতে চাইলে পিআইও এনামুল হক সাংবাদিকদের বলেন, অভিযোগকারীর কিছু প্রকল্প আমি বুঝে নিয়েছি। তবে টেন্ডারের মাধ্যমে যে কাজ হয়েছে সেগুলো আমার জানা নাই। এ ছাড়া আর কোন কিছু বলতে রাজি হননি তিনি।

এ বিষয়ে জানতে একাধিকবার অফিসে গিয়ে ইউএনও মো: কামরুল ইসলামকে পাওয়া যায়নি। পরে বুধবার ২.৫৭ মিনিটে তার কর্পোরেট মোবাইল (০১৭৬২৬৯১৬৩৩) নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে রিং বাজলেও তিনি রিসিভ করেননি। জানতে চাইলে উপজেলা চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলাম লেবু বলেন- বিষয়টি আমি জানি।

আমার কাছেও অভিযোগ এসেছে। এখন পর্যন্ত আমি প্রকল্পগুলো দেখি নাই। স্থানীয়রা নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি করে সত্যতা সাপেক্ষে সরকারের অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান।

বার্তাবাজার/এসআর

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর