১৫, ডিসেম্বর, ২০১৮, শনিবার | | ৬ রবিউস সানি ১৪৪০

ঢাকার উইকেটে সাহায্য পাবেন মোস্তাফিজও

আপডেট: নভেম্বর ২৯, ২০১৮

ঢাকার উইকেটে সাহায্য পাবেন মোস্তাফিজও

চট্টগ্রাম টেস্টে দলে থেকেও যেন ছিলেন না পেসার বাংলাদেশ দলের বাঁ-হাতি মোস্তাফিজুর রহমান। না খেলার মতোই খেলেছিলেন তিনি। প্রথম ইনিংসে সবার আগে বোলিংয়ে এসে করেছিলেন মাত্র দুই ওভার। দ্বিতীয় ইনিংসে সবার পরে বোলিংয়ে এসেও জুটেছে সেই দুই ওভারই। ব্যাট হাতেও যে খুব বেশি বল খেলেছেন তেমনও নয়। দুই ইনিংসে ব্যাট করেছেন কেবল ছয়টি বল।

চার স্পিনারে একাদশ সাজিয়ে একমাত্র পেসার মোস্তাফিজকে আক্ষরিক অর্থেই পুতুল বানিয়ে দলে রাখা হয়েছিল। প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজও যে পেসারদের দিয়ে খুব বেশি ফায়দা নিতে পেরেছেন, এমনটা নয়। প্রথম ইনিংসে শ্যানন গ্যাব্রিয়েল ভয় ধরালেও, দ্বিতীয় ইনিংসে টাইগার ইনিংসে ছড়ি ঘুরিয়েছেন ক্যারিবীয়ান স্পিনার জোমেল ওয়ারিকান, দেবেন্দ্র বিশুরাই।

ঢাকার মিরপুর শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে উইকেট নিয়ে আগে থেকে কেউই কিছু বলতে পারে না। স্বাগতিক বাংলাদেশ দলের অধিনায়কদের কন্ঠেও প্রায়ই ঝরে, হোম এডভান্টেজ নিতে না পারার ক্ষোভ। ব্যতিক্রম নয় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টেও। ম্যাচের আগের দিনও স্বাগতিক অধিনায়ক সাকিব আল হাসান জানেন না উইকেটের আচরণ কেমন হবে, কিংবা চট্টগ্রামের মতোই বল ঘুরবে কি-না এখানে!

তবে ঢাকার মাঠে নিজের অতীত অভিজ্ঞতা থেকে অন্তত একটি জিনিস নিশ্চিত করেছেন সাকিব যে, এখানে সকাল বেলা দলের একমাত্র পেসার মোস্তাফিজের জন্যও কিছু না কিছু থাকবে। তবে সেটি যতটা না উইকেটের কারণে, তার চেয়ে বেশি কন্ডিশনের কারণে।

সাকিব বলেন, ‘মোস্তাফিজ বা পেসারদের জন্য সাহায্য থাকবে কি-না বলা যায় না। তবে ঢাকার উইকেটে সবসময় সকাল বেলা একটু হলেও পেস বোলারদের সাহায্য করে। বিশেষ করে, এমন আবহাওয়ায়, যখন একটু শিশির পড়ে, একটু ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা ভাব থাকে। ঢাকার উইকেটটাতে সবসময় পেস বোলারদের একটু হেল্প থাকে। সেটা আমাদের বিবেচনায় আছে।’

পেসারদের জন্য যে উইকেটের কারণেই সাহায্য থাকবে না বা উইকেটে বাড়তি কিছু থাকবে নয়া পেসারদের জন্য- তা মোটামুটি নিশ্চিত। তাহলে কেমন হতে পারে ঢাকা টেস্টের উইকেট? এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে পারেননি বাংলাদেশ অধিনায়ক সাকিব। যে কারণে ম্যাচের জন্য কোনো নির্দিষ্ট পরিকল্পনা সাজানোর পক্ষে নন তিনি।

এর চেয়ে বরং পরিষ্কার মাথায় মাঠে নেমে, ম্যাচের পরিস্থিতি ও অবস্থা অনুযায়ী এগুনোর কথা বলেন সাকিব। তার মন্তব্য, ‘আসলে উইকেট দেখে সবসময় অনুমান করা যায় না। এটা পৃথিবীর কোন উইকেটই সম্ভব না। যে কেউ হয়তো বলতে পারবে যে এরকম হতে পারে, কিন্তু কেউ বলতে পারবে না এরকমই হবে।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘মিরপুরের উইকেটও সেদিক থেকে একই রকম। তাই যখন খেলাটা শুরু হবে তখন মাঠে গেলেই বোঝা যাবে। আরেকটা জিনিস হচ্ছে টেস্ট ম্যাচ পাঁচ দিনের খেলা। প্রতিদিন উইকেট বদলায়, প্রতি সেশনে উইকেটে পরিবর্তন দেখা যায়।আসলে কোন নির্দিষ্ট পরিকল্পনা মাথায় নিয়ে না খেলাই উচিত। ওপেন মাইন্ডে থাকলে বরং টিমের জন্য ভালো।’