১৫, ডিসেম্বর, ২০১৮, শনিবার | | ৬ রবিউস সানি ১৪৪০

ফারজানা জঙ্গি না হলে, জঙ্গি কে?

আপডেট: নভেম্বর ২৯, ২০১৮

ফারজানা জঙ্গি না হলে, জঙ্গি কে?

জঙ্গি সংগঠন হামজা বিগ্রেডকে অর্থায়নের অভিযোগে ২০১৫ সালের ১৮ আগস্ট রাজধানীর ধানমণ্ডি থেকে গ্রেফতার হয়েছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সাকিলা ফারজানা। তার সাথে গ্রেফতার করা হয়েছিল দুই সহকর্মী আইনজীবীকেও।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে ফারজানা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

সেই ফারজানা প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বৃহস্পতিবার বলেছেন, ফারজানা কি জঙ্গির সাথে জড়িত নয়? ফারজানা যদি জঙ্গি না হয় তাহলে জঙ্গি কে? বিএনপি যাদের মনোনয়ন দিয়েছে তাদের অনেকেই জঙ্গিদের সাথে জড়িত।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের পক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এমন মন্তব্য করেন তিনি।

বিএনপির যারা মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেননি, তাদের প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এটা তাদের ইন্টারনাল বিষয়। আমি যতদূর জানি তাদের মধ্যে দুইজন আছেন, যারা কাঙ্ক্ষিত জায়গা থেকে মনোনয়ন পাননি বলে মনোনয়নপত্র জমা দেননি। আর মির্জা আব্বাস সময় মতো মনোনয়নপত্র জমা দেননি। নির্বাচন কমিশন তাই মনোনয়নপত্র জমা নেয়নি। বিএনপি মনগড়া অভিযোগ করলে তো হবে না’।

তিনি আরো বলেন, তাদের ভিতরে জগাখিচুড়ি অবস্থা বিরাজ করছে। সব নেতারা এখন মির্জা ফখরুলের কন্ট্রোলের বাইরে। এছাড়া ঐক্যফ্রন্টও এখন ঐক্যবদ্ধ নয়।

বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের হয়রানি করা হচ্ছে এমন অভিযোগের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, তথ্য প্রমাণ দিয়ে বলুন কোথায় কোথায় আপনাদের প্রার্থীকে বাধা দেওয়া হচ্ছে। তাহলে নির্বাচন কমিশন তার ব্যবস্হা নিবে। অন্ধকারে ঢিল ছোড়া তাদের পুরানো অভ্যাস।

জামাত ছাড়া বিএনপি অচল এমন দাবি করে আওয়ামী লীগের এ নেতা আরো বলেন, জামায়াত ছাড়া বিএনপি অচল। জামায়াত বিএনপি মিলে একাকার। তারা একসাথে রাজনীতি করছে। দেখুন ২০১৪ সালে সাধারণ মানুষের উপর যে হামলা চালিয়েছে তার সাথে কি জামাত জড়িত ছিলো না?

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হবে এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করে ওবায়দুল কাদের বলেরন, বিএনপি তথা ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে আসবে আমরাও এটা চাই। কারণ আমরা প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন চাই। আমরা চাই না একা একা নির্বাচন করতে। কিন্তু যদি নির্বাচনে না এসে বলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচনে জয়ী হয়ে গেছে তাহলে হবে না। অবশ্য তারা নির্বাচনে না আসলে তাদের নিবন্ধন বাতিল হয়ে যাবে সেটা তারাও জানেন।

জাতীয় পার্টি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা জাতীয় পার্টিকে বলেছি প্রয়োজনে ৩০০ আসনে আপনাদের প্রার্থী দিয়ে দেন। কিন্তু যোগ্য এবং উইনেবল হতে হবে। আমরা যাদের যোগ্য এবং উইনএবল মনে করেছি তাদের মনোনয়ন দিয়েছি।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের সাথে বৈঠক প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, ইউরোপীয় পার্লামেন্ট মনে করেছে বাংলাদেশে এই মূহর্তে নির্বাচনের সহায়ক পরিবেশ বিরাজ করছে। তাই তারা নির্বাচনের সময় পর্যবেক্ষক পাঠাবে না। এটা তাদের ইন্টারনাল বিষয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন দলের সাংগঠনিক সম্পাদক আফম বাহাউদ্দিন নাছিম, আহম্মদ হোসেন, বিএম মোজাম্মেল, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক আব্দুস সবুর, উপ দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া প্রমুখ।