১৪, ডিসেম্বর, ২০১৮, শুক্রবার | | ৫ রবিউস সানি ১৪৪০

ভোটে চার ভাইসহ এক পরিবারের ৫ সদস্য

আপডেট: নভেম্বর ২৯, ২০১৮

ভোটে চার ভাইসহ এক পরিবারের ৫ সদস্য

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন চার ভাই।তাদের একজনের মেয়েও নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

এদের সবাই স্থানীয় ও জাতীয় রাজনীতিতে পরিচিত মুখ। দু’জন নির্বাচন করবেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে, অন্যজন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে আর আরেকজন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ থেকে।

বলছি টাঙ্গাইলের বিখ্যাত সিদ্দিকী পরিবারের কথা। সিদ্দিকী পরিবারের তিন সদস্য টাঙ্গাইল-৪ আসন থেকে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।পরিবারের বাকি দু’জনের মধ্যে একজন টাঙ্গাইল-৫ ও অপরজন টাঙ্গাইল-৮ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার মনোনয়ন জমা দেয়ার শেষ দিনে তারা নিজ নিজ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

আলোচিত এই চার ভাই হলেন-আওয়ামী লীগের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য, বহিষ্কৃত সাবেক মন্ত্রী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী। কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের হয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সরকারি সাদত কলেজের সাবেক ভিপি শামীম আল মনসুর আজাদ সিদ্দিকীও একই আসনে নিজ দলের পক্ষ থেকে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

সিদ্দিকীদের আরেক ভাই মুরাদ সিদ্দিকী টাঙ্গাইল-৫ সদর আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন।

সিদ্দিকীদের অপর ভাই বেলাল সিদ্দিকী রাজনীতি থেকে দূরে, তাই তিনি নির্বাচন করছেন না।তিনি প্রবাসে থাকেন।

প্রার্থী হয়েছেন তাদের পরবর্তী প্রজন্মও।তিনি কুড়ি সিদ্দিকী, বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর মেয়ে। তিনি টাঙ্গাইল-৮ সখিপুর-বাসাইল আসন থেকে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

কালিহাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা অমিত দেবনাথ তাদের মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেন।

মনোনয়নপত্র জমাদানকালে লতিফ সিদ্দিকী বলেন, ‘আমি কালিহাতীর মানুষের ভালোবাসা ও চাপেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছি। নেতৃত্ব শূন্যতা দূর করতে কালিহাতীর জনগণ তাদের বিজয় তারাই ছিনিয়ে আনবেন।’

লতিফ সিদ্দিকী কালিহাতী থেকে ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য, ১৯৭৩, ১৯৯৬ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হন। সর্বশেষ ২০১৪ সালের নির্বাচনে তিনি বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি নির্বাচিত হন। তখন তাকে শেখ হাসিনার মন্ত্রিসভার পূর্ণ মন্ত্রী করা হয়।

ওই বছরই সেপ্টেম্বর মাসে নিউইয়র্কে এক অনুষ্ঠানে পবিত্র হজ ও তাবলিগ জামাত এবং প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন। তার বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড় ওঠে।

এ কারণে মন্ত্রিত্ব ও দলীয় পদ হারান সিদ্দিকী পরিবারের এ বড় সন্তান। পরে সংসদ থেকেও পদত্যাগ করেন তিনি।

এই আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেয়া বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রধান। মুক্তিযুদ্ধে কাদেরিয়া বাহিনীর প্র্রধান স্বাধীনতার পর বীরোত্তম খেতাব পান।

একসময় আওয়ামী লীগ করলেও মতবিরোধের জেরে দল ত্যাগ করে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ গঠন করেন। এর পর এই দল থেকেই একাধিক নির্বাচনে অংশ নেন তিনি।

এই আসনে ২০১৭ সালের জানুয়ারি অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী নির্বাচন করার জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিলেও ঋণখেলাপির কারণে তার প্রার্থিতা অযোগ্য ঘোষণা করেন উচ্চ আদালত।

এই আসনে অপর প্রার্থী আজাদ সিদ্দিকী কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের রাজনীতির সংগে জড়িত। তিনি এই আসন থেকে নির্বাচন করতে চান।

সিদ্দিকীদের আরেক ভাই মুরাদ সিদ্দিকী টাঙ্গাইল-৫ সদর আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন।মুরাদ সিদ্দিকী স্থানীয় রাজনীতিতে প্রিয়মুখ।

কাদের সিদ্দিকীর মেয়ে কুড়ি সিদ্দিকী টাঙ্গাইল-৮ সখিপুর-বাসাইল আসন থেকে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।