রাজাকারের পদচারণায় কলঙ্কিত সংসদ চাই না

জাতীয়

রাজাকারের পদচারণায় কলঙ্কিত হোক, এমন সংসদ চাই না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্ত।

বৃহস্পতিবার (২৯ নভেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ ও একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির যৌথ আয়োজনে আয়োজিত ‘নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক জোট ও দলসমূহের নিকট আমাদের প্রত্যাশা’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

রানা দাসগুপ্ত লিখিত বক্তব্যে বলেন, মুক্তিযুদ্ধের অহংকার যারা হৃদয়ে ধারণ করেন তারা কখনো চাইবেন না ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্তের মূল্যে পাঁচ লক্ষ নারীর চরম লাঞ্ছনা ও ত্যাগের মূল্যে যে জাতীয় সংসদ আমরা অর্জন করেছি, সেই পবিত্র সংসদ কোনো স্বাধীনতাবিরোধী, মানবতাবিরোধী, অপরাধী, রাজাকার, ভূমিদস্যু, দুর্নীতিবাজ ও মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক ব্যক্তির পদচারণায় কলঙ্কিত হোক।’

তিনি বলেন, ‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে আমরা রাজনৈতিক দলের নিকট আহ্বান জানিয়ে ছিলাম, মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধী কিংবা মৌলবাদী ও সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের সঙ্গে যুক্ত কোন ব্যক্তিকে যেন মনোনয়ন দেয়া না হয়। নির্বাচন কমিশনকে আমরা বলেছিলাম, যেহেতু জামায়াতে ইসলামী একাত্তরের গণহত্যাকারীদের দল। যে দলের গঠনতন্ত্র আমাদের সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ার কারণে উচ্চ আদালত ও নির্বাচন কমিশন এই দলকে নির্বাচনে অংশগ্রহণে অযোগ্য ঘোষণা করেছে— এই দলের কোন সদস্য যেন নির্বাচনে প্রতিনিধিত্ব করতে না পারে। দুর্ভাগ্যের বিষয় আমাদের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।’

তিনি আরও বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের পর স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধানে গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, ধর্মণিরপেক্ষতা ও জাতীয়তাবাদকে প্রজাতন্ত্রের মূলনীতি হিসেবে গ্রহণের পাশাপাশি ধর্মের নামে হানাহানি, বৈষম্য ও নির্যাতনের অবসানের জন্য ধর্মের নামে রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। দেশ ও জাতির জন্য অত্যন্ত দুর্ভাগ্যের বিষয় হচ্ছে ১৯৭৫-এ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রহমান ও মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব প্রদানকারী চার মহান নেতার নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর সংবিধান থেকে ‘ধর্মণিরপেক্ষতা’, ‘বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদ’ ও ‘সমাজতন্ত্র’ মুছে ফেলা সহ ধর্মের নামে রাজনীতির ওপর যে নিষেধাজ্ঞা ছিল তা প্রত্যাহার করে সংবিধানসহ সমাজ ও রাজনীতিতে মৌলবাদী ও সাম্প্রদায়িকরণ হয়েছে, সেই কলঙ্ক থেকে আজও আমরা মুক্ত হতে পারেনি।’

‘দেশের সকল নাগরিকের মতো আমরা আশা করি, এ নির্বাচন গণতন্ত্রে বিশ্বাসী সকল রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে অবাধ সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য হবে। এ নির্বাচনের প্রধানত তিনটি রাজনৈতিক জোটের অধীনে সর্বাধিকসংখ্যক দল যেমন অংশগ্রহণ করেছে, একইভাবে সর্বোচ্চ সংখ্যক নির্বাচকমণ্ডলী তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। আমরা আশা করব, ২০০১ নির্বাচন এর মতো সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের কোন ঘটনা ঘটবে না।’

সংবাদ সম্মেলনে ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর তান্ত্রিক মানুষের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষার জন্য ১২ টি দাবি উত্থাপন করেন তিনি। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- সাম্প্রদায়িক রাজনীতি ও সন্ত্রাসকে প্রশ্রয় না দেয়া এবং ক্ষমতায় গেলে মৌলবাদী ও সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস কঠোরভাবে দমন করা; সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়ন; সংখ্যালঘু কল্যাণ মন্ত্রণালয় গঠন; অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর সন্তানদের শিক্ষাগত যোগ্যতা অনুযায়ী পাঁচ শতাংশ কোটা; পার্বত্য শান্তি চুক্তি এবং পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি করণ আইন; অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন বাস্তবায়নসহ আরো বেশ কিছু রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির ও মওলানা জিয়াউল হাসানসহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।