১৪, ডিসেম্বর, ২০১৮, শুক্রবার | | ৫ রবিউস সানি ১৪৪০

মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেননি মির্জা আব্বাস

আপডেট: নভেম্বর ২৯, ২০১৮

মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেননি মির্জা আব্বাস

ঢাকা–৯ আসন থেকে মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেননি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। মির্জা আব্বাসের অভিযোগ, তাঁর লোকজন নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই মনোনয়নপত্র নিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়েছেন। কিন্তু তা গ্রহণ করা হয়নি।

তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, মির্জা আব্বাসের লোকজন বিকেল পাঁচটার পরে এসেছেন, এ কারণে মনোনয়নপত্র জমা নেওয়া হয়নি।

তবে বিকেল পাঁচটার পরও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র জমা নিতে দেখা গেছে। সর্বশেষ সন্ধ্যা সোয়া ছয়টায় জাতীয় পার্টির এক মনোনয়নপ্রত্যাশী তাঁর মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

গতকাল বুধবার (২৮ নভেম্বর) সেগুনবাগিচায় ঢাকা মহানগরের আসনগুলোর রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে অবস্থান করে এমন চিত্র দেখা গেছে।

জানা যায়, ঢাকা-৯ আসন থেকে মির্জা আব্বাসের পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দিতে আসেন তার সমর্থকরা। তাদের দাবি, বিকাল সাড়ে ৪টায় তারা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে এসে হাজির হন। কাগজপত্র তৈরি করতে কিছুটা সময় লেগেছে। কিন্তু, ইচ্ছাকৃতভাবে তার মনোনয়নপত্র জমা নেওয়া হয়নি।

মির্জা আব্বাসের মনোনয়নপত্র নিয়ে আসা খন্দকার সিকান্দার কাদের বলেন, ‘আমরা নির্ধারিত সময়ের আগেই এসেছি। কিন্তু, মির্জা আব্বাসের ছবি দেখে মনোনয়নপত্র শেষ মুহূর্তে জমা নেওয়া হয়নি। যদিও পাঁচটার পর অন্যদের মনোনয়নপত্র জমা নেওয়া হয়েছে। বিকাল ৫টার পরও তাদেরকে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ের ভেতর অবস্থান করতে দেখা যায়। এ সময় মনোনয়নপত্র জমা নেওয়ার জন্য নির্বাচনি কর্মকর্তাদের অনুরোধ করলেও তারা মির্জা আব্বাসের মনোনয়নপত্র জমা নেয়নি।’

তবে এই বিষয়ে নির্বাচনি কর্মকর্তাদের দাবি, যারা মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় বিকাল পাঁচটার মধ্যে অফিস কম্পাউন্ডে ছিলেন, তাদেরগুলো নেওয়া হয়েছে। মির্জা আব্বাসের মনোনয়নপত্র নিয়ে তার সমর্থকরা সময় শেষ হওয়ার পর আসায় তা নেওয়া সম্ভব হয়নি।

রিটার্নিং অফিসার কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘মির্জা আব্বাসেরর মনোনয়নপত্র নিয়ে নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পর আসায়, তা নেওয়া যায়নি। তবে, তিনি আগে ঢাকা-৮ আসন থেকে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।’

এ বিষয়ে মির্জা আব্বাস জানান, ‘আশ্চর্য হয়ে গেলাম! আমারটা যখন দেখল তখন তারা নিল না।’ তিনি বলেন, ‘চারদিক থেকে একটা অত্যাচার শুরু হয়েছে। পুলিশ দিয়ে হয়রানি, কোর্ট দিয়ে হয়রানি, বাড়ির মধ্যেও হয়রানি। গতকাল (মঙ্গলবার) আমার বাড়ির সামনে থেকে ১৮ জনকে ধরে নিয়ে গেছে। আজ (গতকাল) দুজনকে নিয়ে গেছে। বাসার সামনে পুলিশ ঘুরঘুর করছে। আমরা কী করব?’

উল্লেখ্য, গত ৮ নভেম্বর নির্বাচন কমিশন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে। এর চারদিনের মাথায় ইসি নির্বাচন এক সপ্তাহ পিছিয়ে পুনঃতফসিল দেয়। তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ২৮ নভেম্বর। প্রার্থিতা বাছাই ২ ডিসেম্বর। মনোয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময় ৯ ডিসেম্বর। আর ভোটগ্রহণ করা হবে ৩০ ডিসেম্বর।