১৪, ডিসেম্বর, ২০১৮, শুক্রবার | | ৫ রবিউস সানি ১৪৪০

জাপাতে সার্কাস চলছেই

আপডেট: নভেম্বর ২৯, ২০১৮

জাপাতে সার্কাস চলছেই

দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নির্বাচন নিয়ে সবচেয়ে হ য ব র ল ও হাস্যকর অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে জাতীয় পার্টিতে। নির্বাচনকে সামনে রেখে অনেক আগে থেকেই জাতীয় পার্টি প্রার্থী বাছাইয়ের ব্যপারে নানা রকম ঘোষণা দিচ্ছিল। প্রথমে বলা হয়েছিল, বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নিলে ৩০০ আসনে প্রার্থী দেবে জাপা আর যদি বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেয় তাহলে মহাজোটগত ভাবে নির্বাচন করবে দলটি। কিন্তু পরবর্তীতে যখন বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেয়, তখন দোদুল্যমানতা সৃষ্টি হয় জাতীয় পার্টিতে। জোটে থেকে নাকি এককভাবে নির্বাচন করবে সে সিদ্ধান্তই নিতে পারছে না তারা। এমনকি জোট পরিবর্তনের সম্ভাবনাও এক পর্যায়ে সৃষ্টি হয়েছিল। সবচেয়ে মজার বিষয় হচ্ছে, জাতীয় পার্টি কে চালাচ্ছে তা নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠেছে।

জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদের একটি নিজস্ব গ্রুপ আছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই গ্রুপটি তাদের মতো করে আওয়ামী লীগের সঙ্গে, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেন-দরবার করছে। রওশন এরশাদও নিজ বলয়ের সদস্যদের জন্য দেন-দরবার করছেন।

জাপা মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদারেরও নিজস্ব বলয় আছে দলের মধ্যে। নিজ বলয়ের লোকজনকে এমনকি নিজের স্ত্রীকে মনোনয়ন দেওয়ার জন্যও তদবির করছেন রুহুল আমিন হাওলাদার।

আবার অনুমিত ভাবেই জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদেরও একটি বলয় আছে। তিনিও আওয়ামী লীগের সঙ্গে মনোনয়ন নিয়ে দেন-দরবার করছেন।

কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, এত গুলো দল-উপদলে বিভক্ত হলেও জাতীয় পার্টিগতভাবে কেউ তাদের কতগুলো আসন দরকার, কোন আসনে জাপার জয়ের সম্ভাবনা কেমন এসব বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো প্রস্তাব মহাজোটের প্রধান শরিক দল আওয়ামী লীগের কাছে এখন পর্যন্ত দিতে পারেনি।

সব মিলিয়ে বর্তমানে জাতীয় পার্টির মনোনয়ন নিয়ে একটি অস্বস্তিকর অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে এবং এই অস্বস্তিকর অবস্থা থেকে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ-বিক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এমনকি জাতীয় পার্টির অনেক মনোনয়ন প্রত্যাশী অভিযোগ করছেন, বিপুল টাকার বিনিময় মনোনয়ন কেনাবেচা করেছেন দলের সিনিয়র নেতারা। ফলে শীর্ষস্থানীয় অনেক নেতার বিরুদ্ধেও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। জাপা মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদারের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই পটুয়াখালীতে বিক্ষোভ হয়েছে।

এছাড়া মনোনয়ন প্রত্যাশীদের নিয়েও সমন্বয়হীনতা সৃষ্টি হয়েছে জাতীয় পার্টিতে। জানা গেছে, জাপা নেতা জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু রংপুর- ২ আসনে মনোনয়ন পত্র জমা দিতে গেছেন কিন্তু এতে দলীয় চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের অনুমতি ছিল না।

জাতীয় পার্টি নিয়ে এত বিভ্রান্তি, এত সমন্বয়হীনতা কেন সে বিষয়ে সব প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেন একমাত্র এরশাদ। কিন্তু এরশাদই এখন অন্তরালে চলে গেছেন। অতীতেও দেখা গেছে, যখনই কোনো ঝামেলা কিংবা রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি হয় তখনই এরশাদ গা ঢাকা দেন। তাই সহসাই এরশাদের কাছ থেকে কোনো সমাধান আসবে বলে মনে হয় না। এমন অবস্থায় জাতীয় পার্টিতে যে ক্ষোভ-বিক্ষোভ ও অসন্তোষ দানা বেঁধে আছে তা জাতীয় পার্টি কীভাবে সামাল দেবে তাই এখন দলের মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে।