১৪, ডিসেম্বর, ২০১৮, শুক্রবার | | ৫ রবিউস সানি ১৪৪০

প্রতারণার শিকার জাপা প্রার্থীরা হন্যে হয়ে খুঁজছেন এরশাদকে

আপডেট: নভেম্বর ২৯, ২০১৮

প্রতারণার শিকার জাপা প্রার্থীরা হন্যে হয়ে খুঁজছেন এরশাদকে

প্রতারণার শিকার হয়ে জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা এখন হন্যে হয়ে খুঁজছেন দলের চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদকে। পার্টি চেয়ারম্যান সিএমএইচকে ভর্তি থাকায় বিপাকে পড়েছে মনোনয়ন জমা দেওয়া প্রার্থীরা। তবে মনোনয়ন পাবার আশায় যারা দলের বিভিন্ন স্তরের নেতাদের উপঢৌকন দিয়েছিলেন তারাও চরম বিপাকে আছেন। একে তো মনোনয়ন পাননি উপরন্তু টাকা ফেরত পাবেন সে নিশ্চয়তাও নেই। অধিকাংশ নেতাই নির্বাচনী কাজে স্ব-স্ব এলাকায় চলে যাওয়ায় কারোরই দেখা মিলছে না জাতীয় পার্টি কাকরাইলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় কিংবা বনানীস্থ পার্টি চেয়ারম্যান কার্যালয়ে।

বুধবার (২৮ নভেম্বর) দিনভর বনানী কার্যালয়ের সামনে অপেক্ষমান ছিলেন বেশ কয়েকজন মনোনয়ন প্রত্যাশী। এদের মধ্যে ছিলেন চাঁদপুর, বরিশাল ও উত্তরাঞ্চলের কয়েকজন প্রার্থী। এসব প্রার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, মনোনয়ন দেওয়া হবে এমন নিশ্চয়তা দিয়ে তাদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নেওয়া হয়েছে। চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকায় তাদের নাম না থাকায় তারা হতাশ হয়ে খোঁজাখুজি শুরু করেন যেসব নেতাদের টাকা দিয়েছেন তাদের। খুলনা অঞ্চলের দলের একজন প্রভাবশালী প্রেসিডিয়াম সদস্যর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ বিস্তর। নাম প্রকাশ না করার শর্তে মনোনয়ন প্রত্যাশী এক নেতা জানান, চেয়ারম্যানের খুব কাছের এক প্রেসিডিয়াম সদস্য বেশ কয়েকজন প্রার্থীর কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়েছেন পার্টি চেয়ারম্যানকে দেবেন বলে। তাদের মনোনয়নও নিশ্চিত করা হয়েছিল কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা মহাসচিব স্বাক্ষরিত চিঠি পাননি। এ বিষয়ে দলের মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বিষয়টি জানেন না বলে জানান। এদিকে, দলীয় মহাসচিবের বিরুদ্ধেও দলীয় মনোনয়ন বিক্রির গুরুতর অভিযোগ গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে। এসব বিষয় নিয়ে জাপার অভ্যন্তরে চলছে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা। জাপা মহাসচিবের নিজ নির্বাচনী এলাকা পটুয়াখালীতেও বুধবার ঝাঁড়ুমিছিল করেছে স্থানীয় জনতা।

এদিকে, জাপার একাধিক সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, মহাজোট থেকে জাতীয় পার্টিকে ৪৭টি আসন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। যাদের মধ্যে অধিকাংশরাই দশম জাতীয় সংসদের সংসদ সদস্য। এর বাইরে কিছু আসনে নতুন প্রার্থীদের মনোনয়ন দেওয়া হয়। তবে ৪৭টি আসনের বাইরেও দুই শতাধিক আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। দলের মহাসচিব স্বাক্ষরিত চিঠি নিয়ে ঐসব প্রার্থীরা স্ব-স্ব আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। জানা গেছে, যারা জাপার হয়ে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন তাদের কাউকেই সুনিদিষ্ট কোন নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। শেষ পর্যন্ত তারা নির্বাচনী লড়াইয়ে থাকবেন নাকি মহাজোট প্রার্থীদের সমর্থন দেবেন তা অস্পষ্ট। এমন বাস্তবতায় জাপার মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থীরা চরম অনিশ্চয়তায় পার্টি চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদকে খুঁজে বেড়াচ্ছেন।