১৫, ডিসেম্বর, ২০১৮, শনিবার | | ৬ রবিউস সানি ১৪৪০

এত প্রার্থী কোথায় যাবে

আপডেট: নভেম্বর ২৯, ২০১৮

এত প্রার্থী কোথায় যাবে

৩০০ আসনে ৮০০ প্রার্থী সামাল দিতে হবে বিএনপিকে। অন্যদিকে হাতেগোনা কয়েকটি আসনে আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থী। এত বিপুল সংখ্যক প্রার্থী সম্পর্কে বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের এক নেতা জানালেন, কৌশলগত কারণেই ৩০০ আসনে একাধিক প্রার্থীকে মনোনয়ন দিতে হয়েছে। তাঁর মতে, এমনিতেই সরকারের রোষানলে আছেন নেতারা। গতকালও পুরান ঢাকার একজন প্রার্থীকে আটক করেছে পুলিশ। তা ছাড়া মামলার দণ্ড, ঋণখেলাপিসহ নানা সমস্যাও আছে। মূলত এসব কারণেই একাধিক প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ার কৌশল নেওয়া হয়েছে।

এ দিকে ২০-দলীয় জোট ও জাতীয় ঐক্য ফ্রন্টের আসন বণ্টন নিয়েও দরকষাকষি এখনো শেষ হয়নি। কিছু কিছু আসন নিয়ে রয়েছে টানাপড়েনও। এ সংকট কাটিয়ে ওঠা নিয়েও রয়েছে সংশয়। তবে বিএনপির শীর্ষ নেতারা যে কোনো মূল্যে ঐক্য ধরে রাখার পক্ষে। তাই সর্বোচ্চ ছাড় দিয়ে হলেও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে ধরে রাখতে চান তারা। সূত্রে জানা যায়, ধানের শীষের প্রার্থীদের মধ্যে কারা শক্তিশালী এবং এলাকায় ভোটের শেষ পর্যন্ত অবস্থান করতে পারবেন তা আগামী ৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিএনপি খোঁজখবর নেবে। শক্তিশালী প্রার্থীদের মাঠে রেখে দেওয়া হবে। মামলার দণ্ড ও ঋণখেলাপিসহ বিভিন্ন কারণে যারা বাদ পড়বেন তাদের আগেই জানিয়ে দেওয়া হবে। এক্ষেত্রে প্রথম প্রার্থী বাদ পড়লে দ্বিতীয়জনের হাতে ধানের শীষ তুলে দেওয়া হবে। কোথাও কোথাও তৃতীয়জনকেও বেছে নিতে পারে দলটি। মনোনয়নের চিঠি দেওয়া প্রার্থীদের প্রতি চোখ রাখছে বিএনপির মনিটরিং সেল। এরমধ্যে যেসব প্রার্থী এলাকায় যেতে পারবেন না কিংবা মাঠে অবস্থান নিতে পারবেন না তাদের আগেই বাদ দেওয়া হবে। এমনকি ২০-দলীয় জোটের প্রার্থীর দিকেও চোখ রয়েছে বিএনপির। দলের অবসরপ্রাপ্ত কিছু সাবেক আমলা এ নিয়ে কাজ করছেন।

এ প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব ও ফ্রন্টের মুখপাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমরা দলীয়ভাবে মনোনয়নপত্র জমা দিচ্ছি। ২০-দলীয় জোটও দিচ্ছে। এখন ঐক্যফ্রন্টের শরিক দলগুলো তাদের দলগতভাবে মনোনয়নপত্র জমা দিচ্ছেন। পরে তাদের সঙ্গে আসন বণ্টন ঠিক করা হবে। আসন বণ্টন নিয়ে কোনো সমস্যা হবে না।’ সূত্রমতে, দলীয় মনোনয়ন নেওয়া প্রার্থীদের সঙ্গে লন্ডন থেকে ফোনে নিয়মিত কথা বলছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আলাদা করে কথা বলছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও। প্রার্থীদের বলা হচ্ছে, আসন্ন নির্বাচনে হামলা-মামলা থেকে রক্ষা পেতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। গুলশান কার্যালয়ে দলীয় প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নেওয়ার সময় স্কাইপিতে তারেক রহমান সব প্রার্থীদের কাছ থেকে এ প্রতিশ্রুতিও নেন। দলের হাইকমান্ড থেকে বলা হয়, খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলনের অংশ হিসেবেই ভোটে যাচ্ছে বিএনপি। দল যার হাতে ধানের শীষ তুলে দেবে তার পক্ষে সবাইকে কাজ করতে হবে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য জানান, এবার মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে ২০০১ ও ২০০৮ সালের প্রার্থী তালিকা সামনে রাখা হয়েছে। তবে বিকল্প হিসেবে অধিকাংশ সাবেক ছাত্রনেতাদের রাখা হয়েছে। বিএনপির মনোনয়নের চিঠি নেওয়া প্রার্থীর মধ্যে অর্ধশতাধিকই ছিল নতুন প্রার্থী। এ ছাড়া ২০ জনের মতো নারী এবং ১০ জন সংখ্যালঘু প্রার্থী রয়েছে। সূত্রে জানা যায়, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০-দলীয় জোটকে গতকাল পর্যন্ত ৫২টি আসন ছেড়ে দিয়েছে বিএনপি। আরও ১০টি আসন নিয়ে দরকষাকষি চলছে। যৌক্তিকতা থাকলে শেষপর্যন্ত ১০টিও ছাড় দিতে পারে দলটি। এ পর্যন্ত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে ১৮টি, ২০-দলীয় জোটের শরিক জামায়াতকে ২৪টি, এলডিপিকে ৪টি, জমিয়তকে দুটি, কল্যাণ পার্টিকে একটি, খেলাফত মজলিশকে একটি, বিজেপিকে একটি, জাপাকে একটি এবং এনপিপিকে একটি আসন ছেড়েছে। জামায়াত আরও ৪-৫টি আসন নিয়ে দরকষাকষি করছে বলে জানা গেছে। এ দিকে গতকাল জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিক দল গণফোরাম দলীয়ভাবে ৬০ জনের মতো মনোনয়নপত্র দাখিল করেছে। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জেএসডি ৩০টির মতো আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে। নাগরিক ঐক্য জমা দিয়েছে ৯টি আসনে। বগুড়া-২ আসনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না। সেখানে বিএনপির প্রার্থী বিউটি বেগম মনোনয়ন জমা দেননি। মাহমুদুর রহমান মান্নার হাতে ফুল দিয়ে তাকে সমর্থন জানান। কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের পক্ষ থেকে মনোনয়ন জমা দেওয়া হয়েছে ৪০টির মতো আসনে। এর মধ্যে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী টাঙ্গাইল-৮ ও টাঙ্গাইল-৪ আসনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। সূত্রে জানা যায়, ১৮টি আসনে বিএনপির ছাড়ের ঘোষণায় সন্তুষ্ট নন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতারা। সম্প্রতি বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এক উপাচার্যের টেলিফোন কথোপকথনের অডিও ফাঁসে ঐক্যফ্রন্টের আসন জটিলতার বিষয়টি উঠে আসে। তবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতারা প্রতীক দেওয়ার আগ পর্যন্ত দরকষাকষি করে যাবেন। বিশেষ করে গণফোরাম এত কম আসন মানতে পারছেন না। এরই মধ্যে গণফোরামে কয়েকজন হেভিওয়েট প্রার্থীও যোগদান করেছেন। তারা অন্তত ২০টি আসন চায় বিএনপির কাছ থেকে। এ ছাড়া জেএসডি, নাগরিক ঐক্য ও কৃষক শ্রমিক জনতা লীগও আসন বাড়ানোর জন্য বিএনপির সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করে যাচ্ছে।

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জেএসডি সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন বলেন, ‘প্রতীক বরাদ্দের আগেই আমরা আসন বণ্টন সম্পন্ন করব। গণতন্ত্র রক্ষার নির্বাচনে আমার মনে হয়, আসন বণ্টন নিয়ে কোনো সমস্যা হবে না। কারণ, সবারই উদ্দেশ্য এক। সবাই ছাড় দিতে প্রস্তুত।’ কৃষক শ্রমিক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ইকবাল সিদ্দিকী বলেন, ‘আমরা এখন দলীয়ভাবে মনোনয়ন দিচ্ছি। তবে শিগগিরই ঐক্যফ্রন্টের আসন বণ্টন চূড়ান্ত হবে।’

এ দিকে ২০-দলীয় জোটের শরিক দল জামায়াতও অন্তত ৩০টি আসন চায় বিএনপির কাছ থেকে। তাদের সর্বোচ্চ ২৪ আসন ছাড়েও সন্তুষ্ট নয় জামায়াত। এ নিয়ে বিএনপির সঙ্গে তাদের টানাপড়েন চলছে। তবে শেষ পর্যন্ত আরও ২-৩টি আসন বিএনপি ছাড় দিলে জামায়াত কোনো আপত্তি করবে না বলে জানা গেছে। জোটের শরিক দল ডেমোক্রেটিক লীগের সাধারণ সম্পাদক ধানের শীষের মনোনয়ন না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়েছেন। তিনি পৃথকভাবে ময়মনসিংহ-৮ থেকে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। নতুন জোট করার কথাও বলেছেন তিনি।