১৫, ডিসেম্বর, ২০১৮, শনিবার | | ৬ রবিউস সানি ১৪৪০

প্রার্থীদের চাপের মুখে জাতীয় পার্টি

আপডেট: নভেম্বর ২৯, ২০১৮

প্রার্থীদের চাপের মুখে জাতীয় পার্টি

আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে প্রার্থীদের চাপে রয়েছে জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি (জাপা)। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পার্টির মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার দলের সিনিয়র কো- চেয়ারম্যান রওশন এরশাদকে নিয়ে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এদিকে মহাজোটগতভাবে জাতীয় পার্টিকে ছাড় দেওয়া ৪৫টি আসনের বেশকিছু আসনেই আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন।

এ ছাড়া ৪৫টি আসনের বাইরে আরও অন্তত ৫টি আসন মহাজোটগতভাবে পেতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে জাতীয় পার্টি। জাপা মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, জাতীয় পার্টি একটি বড় দল, সবাইকে মনোনয়ন দেওয়া সম্ভব নয়। আবার মহাজোটের কথা বিবেচনায় রেখেও ছাড় দিতে হচ্ছে। তাই অনেকেই মনোনয়ন না পেয়ে, ক্ষোভে অসত্য এবং বানোয়াট অভিযোগ তুলছেন। মানুষের মাঝে গ্রহণযোগ্যতা আছে, নির্বাচনের সামর্থ্য আছে এবং জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা আছে তাদেরই মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এ পর্যন্ত ২২০ জনকে জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে মনোনয়নের চিঠি দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ৯ ডিসেম্বর মহাজোটের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে। গণমাধ্যমে মহাজোটের যে তালিকা প্রকাশ করছে, তা বিভ্রান্তিমূলক। জানা যায়, ঢাকা-১৭ আসনে পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ জোটগতভাবে মনোনয়ন চাইলেও এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। পার্টি সূত্র জানিয়েছে, ৪৫টি আসন নিয়ে মহাজোট চূড়ান্ত হয়েছে। তবে আরও এক-দুটি বাড়তে পারে। জোটগতভাবে আরও যে কয়টি আসন দাবি করছে জাতীয় পার্টি তার মধ্যে রয়েছে বরগুনা-২ আসনে পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আলহাজ মিজানুর রহমান। ঢাকা-১৩ আসনটিও দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক সফিকুল ইসলাম সেন্টুকে জোটগতভাবে দেওয়ার জন্য চাপ রয়েছে। দুই শতাধিক আসনে মনোনয়ন দিলেও মহাজোটের তালিকায় না থাকা বেশ কয়েকজন প্রার্থী থেকে প্রত্যাহারের চিঠি রাখা হয়নি।

আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটগতভাবে জাতীয় পার্টি ভোট করলেও কয়েকটি আসন উভয় দলের জন্য ওপেন থাকতে পারে। এদিকে গতকাল দেখা গেছে তড়িঘড়ি করে জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের মনোনয়ন ফরম জমা দিতে। উল্লেখযোগ্যদের মধ্যে রয়েছে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ রংপুর-৩ ও ঢাকা ১৭ থেকে, রওশন এরশাদ ময়মনসিংহ ৪ ও ৭, জিএম কাদের লালমনিরহাট-৩, কাজী ফিরোজ রশীদ ঢাকা-৬, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা ঢাকা-৪, ফখরুল ইমাম ময়মনসিংহ-৮, সুনীল শুভ রায় খুলনা-১, মেজর (অব.) খালেদ আখতার লালমনিরহাট-১, পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ সুনামগঞ্জ-৪, মীর আবদুস সবুর আসুদ ঢাকা-৫, আজম খান নরসিংদী-২, শেখ সিরাজুল ইসলাম মুন্সীগঞ্জ-১, এ টি ইউ তাজ রহমান সিলেট-৪, রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২, কাজী মামুনুর রশীদ ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫, মিজানুর রহমান বরগুনা-২, মো. নোমান মিয়া মুন্সীগঞ্জ-২, এসএম ফয়সল চিশতী ঢাকা-১১, জহিরুল আলম রুবেল মানিকগঞ্জ-২, লে জে (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ফেনী-৩, সেলিম ওসমান নারায়ণগঞ্জ-৫, লিয়াকত হোসেন খোকা নারায়ণগঞ্জ-৩, জিএম বাবু মণ্ডল বগুড়া-১, মাসুদ পারভেজ সোহেল রানা বরিশাল-২, আমানত হোসেন আমানত ঢাকা-১৬, মোস্তাকুর রহমান মোস্তাক-ঢাকা-১৪, শামসুল হক ঢাকা-১৫, হাজী নাসির ঢাকা-১২।

অনেকে আবার দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে ছোটাছুটি করছেন দলের শীর্ষ নেতাদের কাছে। এসব বিষয়ে রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, মহাজোটের বিষয়টি আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে অনেক দূর এগিয়েছে। মহাজোট নিয়ে কোনো বিভ্রান্তি নেই। জাতীয় পার্টি মহাজোটের অংশ হিসেবেই নির্বাচনে অংশ নেবে। আশা করছি চূড়ান্ত সময়ে জাতীয় পার্টি জোটগতভাবে সম্মানজনক আসন পাবে।