১৪, ডিসেম্বর, ২০১৮, শুক্রবার | | ৫ রবিউস সানি ১৪৪০

বিএনপির তালিকায় আ. লীগে স্বস্তি

আপডেট: নভেম্বর ২৯, ২০১৮

বিএনপির তালিকায় আ. লীগে স্বস্তি

বিএনপি যখন দুই জোটকে নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, তখন আওয়ামী লীগের একটি বড় অংশই হোঁচট খেয়েছিল। আওয়ামী লীগের অনেকেই নার্ভাস হয়ে পড়েছিলেন। কিন্তু আজ যখন বিএনপির নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট এবং ২০ দলীয় জোট মনোনয়ন জমা দিলো তখন আওয়ামী লীগের উচ্ছ্বাস সবার চোখে পড়েছে। বিএনপি নিজেরাই যে মনোনয়ন জট তৈরি করেছে, তা আগামী একমাসে কীভাবে কাটবে সে এক বিরাট প্রশ্ন। বিএনপি ৩০০ আসনের বিপরীতে নিজেরাই প্রার্থী দিয়েছে ৮০০। বিএনপির মূল শরিক ২০ দলীয় জোট থেকে প্রার্থী দেওয়া হয়েছে ১১৯ জন। আর অন্য শরিক জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ২১০ জন প্রার্থী আজ মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে। মোট ১২শ প্রার্থীর জঞ্জাল সরিয়ে ৩০০ প্রার্থী ৯ ডিসেম্বরের মধ্যে খুঁজে বের করা যেন সাগর সেঁচে মুক্তো বের করার মতোই এক অসাধ্য কাজ। যারা একবার মনোনয়নপত্র জমা দেবেন, তারা কি আর মাঠ ছাড়বেন? আওয়ামী লীগ তাঁর নিজের জন্য সবচেয়ে বেশি যেটা নিয়ে ভয় পাচ্ছিল, তা ছিল দলের অন্তঃকলহ। অথচ এখন প্রতিপক্ষের শিবিরে গড়ে ৪ জন প্রার্থী দেখে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তো উল্লসিত হতেই পারে।

অবশ্য বিএনপির নেতারা বলছেন, একাধিক প্রার্থী দেওয়ার কারণ ভিন্ন। অধিকাংশ নির্বাচনী এলাকায় সম্ভাব্য প্রার্থী হয় দণ্ডিত অথবা তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। তাই শেষ পর্যন্ত যদি তিনি নির্বাচন না করতে পারেন, তার বদলে বিকল্প প্রার্থী দেওয়া হয়েছে।

কিন্তু অনুসন্ধানে দেখা গেছে, নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত যদি বিএনপি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তাহলেও যোগ্য প্রার্থীর অভাব প্রকট হবে। শেষে যিনি বিএনপির টিকেট পাবেন, তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থীর সঙ্গে কুলিয়ে উঠতে কতোটা পারবেন, সে এক প্রশ্ন বটে।

বিএনপির প্রার্থী তালিকা দেখে আওয়ামী লীগের খুশির আরেক কারণ হলো, সেই বিতর্কিত ব্যক্তিদের প্রতিই বিএনপির আস্থা। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে সন্তুষ্ট হতে পারেনি দেশের সাধারণ মানুষ। কিন্তু বিএনপির মনোনয়নে তারা আরও বিরক্ত। যাদের বিরুদ্ধে সীমাহীন দুর্নীতির অভিযোগ, সন্ত্রাসী তৎপরতার অভিযোগ, বিভিন্ন কারণে যারা বিতর্কিত, এবারের নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্ব তাদের উপরই আস্থা রেখেছে।

রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি যে অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেনি এই মনোনয়ন তার এক জ্বলন্ত উদাহরণ বলেই রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। অনেক রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ বলছেন, আওয়ামী লীগ বর্তমান এমপিদের ওপরই আস্থা রেখেছে। আওয়ামী লীগের কাছে সুযোগ ছিল ক্লিন ইমেজদের ভালো প্রার্থী দেওয়ার। কিন্তু আওয়ামী লীগের প্রার্থী নির্বাচন ভালো হয়নি। তাঁর মতে, ‘বিএনপির সামনেও সুযোগ ছিল নতুন রূপে আত্ম প্রকাশ করার। অবিতর্কিত প্রার্থীদের মনোনয়ন দেয়ার এক সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু বিএনপির মনোনয়ন হয়েছে খুবই খারাপ।’

দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের প্রার্থী তালিকা দেখে বলাই যায় আওয়ামী লীগ মনোনয়নের দৌড়ে কিছুটা হলেও এগিয়ে। বিএনপির চেয়ে তুলনামূলক ভালো প্রার্থী দিয়েছে দলটি। একারণেই বিএনপির তালিকা দেখে আওয়ামী লীগের কর্মীরা উচ্ছ্বসিত হতে পারে। স্বস্তি আসতে পারে।