২১, অক্টোবর, ২০১৮, রোববার | | ১০ সফর ১৪৪০

রামগঞ্জে ভিক্ষুককে পিটিয়ে আহত

আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৮

রামগঞ্জে ভিক্ষুককে পিটিয়ে আহত

আবদুর রহমান,রামগঞ্জ(লক্ষ্মীপুর)সংবাদদাতা: রামগঞ্জ উপজেলার ইছাপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য লিটন বিদ্যুৎ সংযোগের চাহিদা অনুযায়ী অতিরিক্ত টাকা না দেওয়ায় একই গ্রামের ওজি বাড়ির মৃত আবুল কালামের বিধবা স্ত্রী ও ভিক্ষুক আনোয়ারা বেগমকে পিটিয়ে মারত্মক আহত করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

পরে বাড়ির লোকজন তাকে উদ্ধার করে রামগঞ্জ সরকারী হাসপাতালে ভর্তি করেন। ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার দিবাগত রাতে ওই ভিক্ষুকের বসত ঘরের সামনে। এ ব্যাপারে আজ বিকেলে আনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে রামগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইছাপুর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড শিবপুর গ্রামের ইউপি সদস্য মোঃ লিটন গ্রামের বিভিন্ন বাড়ীতে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার নামে এলাকার অর্ধশতাধিক লোকের নিকট থেকে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা করে উত্তোলন করেন। শিবপুর ওজি বাড়ির জাকির হোসেন, আকবর হোসেন, জসিম, আবু মিয়া, বাসু মিয়া, দুদ মিয়া, মাসুদ আলম, আনোয়ার হোসেন, নসু মিয়াসহ ১২জনের কাছ থেকে প্রথম ধাপে বিদ্যুতের খুটি দেওয়ার নামে ১ লক্ষ ৩০ হাজার এবং পরবর্তিতে মিটারের জন্য ৬ হাজার টাকা করে আদায় শেষে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়।

কিন্তু ওই বাড়ির ভিক্ষুক আনোয়ারা বেগম বিভিন্ন স্থান থেকে ধার দেনা ও ভিক্ষা করে ৫ হাজার টাকা দিলেও ১ হাজার টাকা কম দেওয়ায় বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে রাখেন। পরে আনোয়ারা বেগম তার ভাসুরের পরামর্শে রামগঞ্জ বিদ্যু অফিসের ডিজিএম কাছে নালিশ করেন। এতে মেম্বার ক্ষীপ্ত হয়ে আনোয়ারা বেগমকে গত সোমবার রাত ৯টায় ঘরে ঢুকে এলোপাতাড়ি কিল, ঘুসি ও বাশ দিয়ে পিটিয়ে মারাত্মক আহত অবস্থায় ফেলে যায়। পরে বাড়ির লোকজন ও বিধবার মেয়েরা এসে তাকে উদ্ধার করে রামগঞ্জ সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেন।

হাসপাতালে চিকিৎসাধিন অবস্থায় আনোয়ারা বেগম জানান, ১০ বছর পূর্বে স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে ৬ ছেলে মেয়েদেরকে নিয়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভিক্ষা করে অনেক কষ্টে চলছি। লিটন মেম্বার প্রথমে পিলার দেওয়ার জন্য বাড়ির সবার যৌথ পুকুর লিজ লাগিয়ে ১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা নেয়। পরে মিটারের জন্য ৬ হাজার টাকা করে দাবী করে বাড়ির সবাই দিলে ও আমি ভিক্ষা ও ধার দেনা করে ৫ হাজার টাকা দিয়েছি। ১ হাজার টাকা না দেওয়ায় আমাকে মিটার দেন নাই, তাই আমি বিদ্যূৎ অফিসে গিয়েছি । এ জন্য মেম্বার ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে মেরে মারাত্মক আহত করেন।

মেম্বার মোঃ লিটন জানান, মহিলাটি খুব অসহায় হওয়ার কারনে আমি পুর্বে যখন ১শত মিটারের জন্য আবেদন করার সময় এমপির ডিও লেটার নিয়ে এমপির পিএস ফরিদ বাঙ্গালীকে ৬০ হাজার টাকা দিয়েছি । তখনও এ মহিলার কাছ থেকে কোন টাকা নেয় নাই। এখন মিটারের জন্য শুধু ২ হাজার টাকা নিয়েছি। মারধর করার বিষয়টি সত্য নহে।

রামগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ তোতা মিয়া জানান, এ ব্যাপারে তদন্ত সাপেক্ষ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।