ঈদ আনন্দে দর্শণার্থীদের ভিড় শেরপুরের পর্যটন কেন্দ্রগুলো

ঈদুল আযহার ছুটিতে প্রকৃতিপ্রেমী দর্শণার্থীদের ভিড়ে মুখরিত হয়ে উঠেছে শেরপুরের গারো পাহাড়ের পর্যটন কেন্দ্রগুলো। শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী, শ্রীবরদী ও নালিতাবাড়ীসহ ৩টি উপজেলার গারো পাহাড় এলাকায় রয়েছে বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্র।

এ কেন্দ্রগুলোতে পরিবার-পরিজন নিয়ে নৈসর্গিক দৃশ্য দেখতে ছুটে আসছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার হাজারো মানুষ। পর্যটকদের খুব সহজেই আকৃষ্ট করে জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলার গজনী অবকাশ পর্যটন কেন্দ্র, শ্রীবরদী উপজেলার রাজার পাহাড় ও নালিতাবাড়ী উপজেলার মধুটিলা পর্যটন কেন্দ্র, পানিহাতা তাড়ানির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। এখানে প্রতিনিয়ত হাতছানি দিয়ে ডাকে পাহাড়, টিলা আর সমতল ভূমির সবুজের সমারোহ। এছাড়া শাল, গজারি, সেগুন বাগান, ছোট-বড় মাঝারি টিলা, আর লতাপাতার বিন্যাস প্রকৃতিপ্রেমীদের দোলা দিয়ে যায়। অপরূপ রূপের চাদর মোড়ানো পাহাড় আর সেই পাহাড়ের পাশ ঘেঁষেই রয়েছে ভারতের মেঘালয় রাজ্য। জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, ১৯৯৩ সালে শেরপুর শহর থেকে ৩৪ কিলোমিটার দূরে ঝিনাইগাতীর কাংশায় গজনীর পাহাড়ি বনাঞ্চলের ২৭০ বিঘা জমিতে অবকাশ পর্যটন কেন্দ্রটি গড়ে তোলা হয়। অপার সম্ভাবনাময় এই পর্যটন কেন্দ্রটিকে দেশ ও বিদেশের পর্যটকদের সামনে নতুন করে উপস্থাপন করতে উদ্যোগ গ্রহণ করে জেলা প্রশাসন। পর্যটন কেন্দ্রটি সাজাতে এখন ডাইনোসর, বাঘ, হাতি, দোয়েল, ঈগলসহ ২০ প্রকার রঙবেরঙের ভাস্কর্য শোভা পাচ্ছে। পর্যটন কেন্দ্রে এবার যোগ হয়েছে চিড়িয়াখানা। সেখানে রাখা হয়েছে বিরল প্রজাতির মুরগী, বানর, মেছো বাঘ, হরিণ, সজারু, লজ্জাবতি বানর, বিলুপ্তির তালিকায় থাকা গন্ধগকুল, ঈগল, পেঁচা, টিয়া, তোতাসহ ১৮ প্রজাতির পাখি। এছাড়া শেরপুর সম্পর্কে পর্যটকদের অবহিত করতে কেন্দ্রে খোলা হয়েছে ব্র্যান্ডিং কর্ণার। ঘুরতে আসা বেশ কয়েকজন ভ্রমণপিপাসু বলেন, ছোট ছোট নৌকা করে ঘোরার জন্য রয়েছে লেক। লেকের বুকে নৌকায় চড়ে পাহাড়ের পাদদেশে কফি আড্ডা আর গানে অন্যরকম অভিজ্ঞতা পেয়েছি। এছাড়া গারো ‘মা ভিলেজ’ আর ‘মাশরুম ছাতা’র নিচে বসে পাহাড়ের ঢালে আদিবাসীদের জীবনযাত্রা, দিগন্ত জোড়া ধান ক্ষেত আর পাহাড়ি জনপদের ভিন্ন জীবনযাত্রা ও ‘চুকুলুপি চিলড্রেনস পার্ক’ আর ‘শিশু কর্ণার’ অনেক আনন্দ দিয়েছে।

সরেজমিনে ওইসব বিনোদন কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, পর্যটকদের মধ্যে কেউবা তুলছেন সেলফি, কেউবা নিজ ও প্রিয়জনের ছবি ক্যামেরাবন্দি করছেন মোবাইল ফোনে।

গাজীপুর থেকে আসা দর্শনার্থী আমজাদ আলী জানায়, ঈদের ছুটিতে শহরের কোলাহল ছেড়ে গজনী অবকাশে ঘুরতে এসেছেন। পর্যটন কেন্দ্রে তৈরি করা নতুন নতুন ভাস্কর্য তাদের মনে অনেক আনন্দ দিয়েছে।

পর্যটন কেন্দ্রের ব্যবসায়ী জুয়েল মিয়া বলেন, গত ঈদগুলোর চেয়ে এবার প্রচুর দর্শণার্থীর সমাগম হয়েছে। তাই তাদের বিক্রি অনেক ভালো হচ্ছে। ঈদের দিন থেকে সোমবার পর্যন্ত প্রতিদিন হাজার হাজার পর্যটকের পদচারণায় মুখরিত গজনী অবকাশ পর্যটন কেন্দ্র।

দর্শণার্থীরা যাতে নির্বিঘ্নে ঘোরাফেরা করতে পারেন সেজন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উল্লেখযোগ্য সদস্য নিয়োজিত রয়েছেন বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রুবেল মাহমুদ।

বার্তাবাজার/এসআর

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর