২৩, অক্টোবর, ২০১৮, মঙ্গলবার | | ১২ সফর ১৪৪০

খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় : অপেক্ষার শেষ কোথায়?

আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১৮

খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় : অপেক্ষার শেষ কোথায়?

২০১১ সালের ৫ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খুলনায় একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দেন। এর প্রায় ৪ বছর পর ২০১৫ সালের ৫ জুলাই জাতীয় সংসদে খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যলয় বিলটি পাস হয়। তারও ৩ বছর পর গত ১১ সেপ্টেম্বর প্রথম উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন প্রফেসর ড. মো. শহীদুর রহমান।

দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ধীরগতিতে এতদিন হতাশায় ভুগছে খুলনার মানুষ। উপাচার্য নিয়োগের পর নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। কিন্তু কবে নাগাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হবে সেটা সঠিকভাবে বলতে পারছেন না নতুন উপাচার্য কিংবা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ইতোপূর্বে একটি প্রকল্প তৈরি করা হলেও সেটি স্থগিত করা হয়। নতুন উপাচার্য নিজেই এখন প্রকল্প তৈরি করবেন। সেই প্রকল্প অনুমোদনের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভৌত অবকাঠামো নির্মাণের কাজ শুরু হবে। এখন কবে নাগাদ সেই কাজ শুরু হয়-সেটা জানার অপেক্ষায় রয়েছে খুলনার মানুষ।

খুলনার জেলা প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন থেকে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর ২০১১ সালের ২৪ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থান নির্ধারণের জন্য তৎকালীন সিটি মেয়র তালুকদার আবদুল খালেককে প্রধান করে ১২ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। তারা নগরীর দৌলতপুরে কৃষি সম্প্রসারণ প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের অব্যবহৃত ৫০ একর জমিসহ ব্যক্তি মালিকানাধীন ১২ একর জমি নিয়ে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলার প্রস্তাব দেন।

সূত্রটি জানায়, পরবর্তীতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ও কৃষি সম্প্রসারণ প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের জায়গায় খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের প্রস্তাব অনুমোদন দেয়। এরপর শুরু হয় জমি অধিগ্রহণের কাজ। ২০১১ সালের ৯ নভেম্বর জমির ম্যাপ, দাগ-খতিয়ানসহ অন্যান্য তথ্য উপাত্ত চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) উপ-পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) নূর মোহাম্মদ মোল্লা খুলনার জেলা প্রশাসককে চিঠি দেন।

চিঠি পেয়ে ওই বছরের ২৭ নভেম্বর জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে যাবতীয় কাগজপত্র পাঠানো হয়। তখন ওই ৬২ একর জমির দাম ছিলো ৪০ কোটি টাকা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভৌত অবকাঠামো নির্মাণের জন্য একটি প্রকল্প তৈরির কাজও শুরু হয়। কিন্তু আইন তৈরি না করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভৌত কাজ শুরু করা যাবে না এমন আলোচনার পর প্রকল্প তৈরির কাজ থমকে যায়। মন্ত্রণালয় থেকে আইন তৈরির ওপর জোর দেয়া হয়।

পরে ২০১৫ সালের ৫ জুলাই সংসদে ‘খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বিল-২০১৫’ পাস হয়। এরপর ফের জমি অধিগ্রহণের জন্য ব্যয় প্রাক্কলন পাঠানোর জন্য খুলনার জেলা প্রশাসনকে চিঠি দেয় ইউজিসি। ২০১৭ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি আড়ংঘাটা মৌজার ৬২ একর জমির প্রাক্কলন ব্যয় ইউজিসিতে পাঠায় খুলনার জেলা প্রশাসন। তখন এই জমির অধিগ্রহণ ব্যয় ধরা হয় ১৩১ কোটি ২৪ লাখ টাকা।

বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির মহাসচিব শেখ আশরাফ উজ জামান বলেন, খুলনাবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন এ অঞ্চলে একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় হবে। কিন্তু সব কাজে ধীরগতির কারণে সেই স্বপ্ন ফিকে হতে বসেছিলো। দীর্ঘ ৮ বছর পর উপাচার্য নিয়োগ দেয়ার পর আবারও মানুষ স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে। এখন দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ শুরুর প্রত্যাশায় রয়েছে খুলনার মানুষ।

তিনি বলেন, আমরা চাই আগামী বছর থেকে যাতে শিক্ষার্থী ভর্তি হতে পারে। কেননা দৌলতপুরে কৃষি সম্প্রসারণ প্রশিক্ষায়তনেই সীমিত পরিসরে শিক্ষাকার্যক্রম পরিচালনার সব সুযোগ রয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় শাখার উপ-সচিব মো. হাবিবুর রহমান জানান, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অনুষদের মাইক্রোবায়োলজি অ্যান্ড হাইজিন বিভাগের অধ্যাপক ড. শহীদুর রহমানকে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তিনিই এখন সবকিছু দেখেশুনে প্রকল্প তৈরি করবেন। সেই প্রকল্প অনুমোদনের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য জমি অধিগ্রহণসহ ভৌত কাজ শুরু হবে। এখন কাজ কত দ্রুত শুরু করতে পারবেন সেটা নির্ভর করছে উপাচার্যের ওপর।

এ বিষয়ে খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. শহীদুর রহমান বলেন, আইন পাস হলেও অন্যান্য বিষয়গুলো কী অবস্থায় রয়েছে- খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে। আজ (১৬ সেপ্টেম্বর) আমি মন্ত্রণালয়ে উপাচার্য পদে যোগদান পত্র দিয়েছি। এরপর খুলনায় এসে বাস্তব অবস্থা বুঝে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে আলাপ করে বিস্তারিত উদ্যোগ নেব।