আজ শুক্রবার রাত ৩:৫৫, ২৪শে নভেম্বর, ২০১৭ ইং, ১০ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ৪ঠা রবিউল-আউয়াল, ১৪৩৯ হিজরী

‘আমি তোমাকে কিনেছি, ‘যা চাই‍‍’ করতে পারব, মুখ বন্ধ রাখ‍‍’

নিউজ ডেস্ক | বার্তা বাজার .কম
আপডেট : অক্টোবর ২২, ২০১৭ , ১:১২ পূর্বাহ্ণ
ক্যাটাগরি : আলোচিত খবর
পোস্টটি শেয়ার করুন

বার্তা সংস্থা সিএনএন এর একটি প্রতিবেদনে উঠে আসে হায়দরাবাদের অন্ধকার জগতের চালচিত্র। মা তার ১২ বছর বয়সী মেয়েকে বিক্রি করে দিয়েছিলেন ৭০ বছর বয়সী ওমানি পর্যটকের কাছে। মেয়েটির সাথে মাস দুয়েক বসবাস করে ওমানে চলে যায় সে পর্যটক।

কীভাবে নারী পাচারকারী, দালাল, মোল্লা, শিশু সেক্সে আসক্ত পর্যটকদের এই চক্রটি কাজ করে যাচ্ছে। পুরনো হায়দরাবাদ শহরে এ রকম শত শত কাহিনী আছে বলে জানা যায় যেখানে দরিদ্র পরিবারের মেয়েদের কিছুদিনের জন্য বিক্রি করে দেওয়া হয়।

ওদিকে ১২ বছর বয়সী শিশু গর্ভবতী হন এবং একটি কন্যার জন্ম দেন। স্রেফ ফোনে ডিভোর্স দিয়ে তথাকথিত বিয়ের ইতি টানেন সেই ওমানি বুড়ো। তারপর কঠিন দিন নেমে আসে জীবনে। সেটাকে বিয়ে হিসেবে রূপ দেওয়ার জন্য একজন মোল্লা প্রস্তুত থাকে। কিন্তু নির্দিষ্ট কয়েকদিন বা মাস পড়ে সেই পর্যটক কিছু টাকা দিয়ে সেখান থেকে চলে যান। যাওয়ার আগে আবার ডিভোর্স ও দিয়ে যান। এ সবগুলো পরিচালনা করার জন্য বিভিন্ন দালাল, মোল্লা ও খদ্দের প্রস্তুত থাকে। সেই শিশু ওমানি পর্যটকের হাতে আটক ছিলেন দুই মাসের মতো। সে দুই মাস তাকে ঘর থেকে বের হতে দেওয়া হতো না। তার সাথে জোর করে শারীরিক সম্পর্ক করা হতো।

কোনো ধরনের প্রতিবাদ করার চেষ্টা হলে সে লোকটি বলত : আমি তোমাকে কিনেছি। আমি যা চাই তাই করতে পারব। তোমার বাবা-মাকে পয়সা দিয়েছি। আমার যতদিন ইচ্ছা তোমাকে ব্যবহার করতে পারব। তোমার মুখ বন্ধ রাখ। ১২ বছর বয়সী শিশুর কাছে তার তথাকথিত স্বামীর সাথে সময় ছিল ভয়ানক কষ্টের। প্রতিরাতে সে ৭০ বছর বয়সী পুরুষের হাতে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হতো। তার কঠিন সে দিনগুলো নিয়ে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, আমার লেখাপড়া ছিল না। আমার সাথে কি হচ্ছে সেটা আসলে বুঝে উঠতে পারিনি। আমি আসলে শিশু ছিলাম। আমি বাইরে যেতে চাইলে আমাকে ঘরের ভেতরে তালা দিয়ে যেত। আবার ফিরে এসে আমার সাথে নির্যাতন করত।

শাহীন নামে একটি এনজিও এগিয়ে আসে তাদের মতো মেয়েদের সহায়তায়। জামিলা নিশাত নামে একজন নারী সমাজকর্মী সংস্থাটি প্রতিষ্ঠা করেন ২০ বছর আগে। জামিলা নিশাত জানান তার সংস্থাটি অন্তত ১০০ জন মেয়েকে সরাসরি সেবা প্রদান করে আসছে।

প্রায় ১ হাজার মেয়ে ও নারীকে পরোক্ষভাবে সহায়তা করে আসছে। সেই শিশু বর্তমানে শাহীন এর আওতায় আছেন। সেই শিশুদের মতো মেয়েদেরকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার জন্য সেলাই কাজ, মেহেদী লাগানোর কাজ ও কম্পিউটার ব্যবহার শেখাচ্ছে শাহীন।

শাহীন এর মাধ্যমে পুলিশের কাছে একটি মামলা দায়ের করে মুনিরা। ৭০ বছর বয়সী ওমানি পর্যটকের কাছে বিক্রি করে দেওয়ার জন্য যে দালাল হিসেবে কাজ করেছিল তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার কঠিন অভিজ্ঞতাগুলোর কথা বলতে গিয়ে সে বলে, আমি যে ধরনের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গিয়েছি আমি চাই না অন্য কোনো মেয়ে সে অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাক।