আজ শনিবার সকাল ১১:৫১, ২৫শে নভেম্বর, ২০১৭ ইং, ১১ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ৬ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৩৯ হিজরী

নাতির ধর্ষণের রায় দিলেন দাদা

নিউজ ডেস্ক | বার্তা বাজার .কম
আপডেট : অক্টোবর ২২, ২০১৭ , ১:০৩ পূর্বাহ্ণ
ক্যাটাগরি : ময়মনসিংহ,সমগ্র বাংলা
পোস্টটি শেয়ার করুন

ময়মনসিংহ: গৌরীপুরে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ুয়া এক কিশোরীকে (১৩) ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে প্রতিবেশী বখাটে সজীবের (২৩) বিরুদ্ধে। গত সোমবার উপজেলার রামগোপালপুর ইউনিয়নের পাচাশি গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত সজীব পাচাশি গ্রামের আব্দুল কাদির মন্ডলের ছেলে ও সাবেক ইউপি মেম্বার লাল মিয়া মন্ডলের নাতি।

ঘটনা প্রকাশের পর নির্যাতিতার পরিবার আইনের আশ্রয় নেয়ার চেষ্টা করলে গ্রাম্য মাতব্বরা ওই দিন রাতেই বিষয়টি মীমাংসা করতে সালিশ ডাকেন। সালিশে নাতি সজীবকে বাঁচাতে দাদা লাল মিয়া মন্ডল নির্যাতিতা কিশোরীকে দুই কাঠা জমি  দিয়ে ধর্ষণের ঘটনা মীমাংসা করার রায় দেন।

স্থানীয়রা জানায়, বখাটে সজিবের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে আরো কয়েকটি যৌন হয়রানির অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু প্রভাবশালী পরিবারের সন্তান হওয়ায় কেউ তাদের বিরুদ্ধে কথা বলতে সাহস পায় না।

স্থানীয় ও নির্যাতিতার পরিবার সূত্রে জানা গেছে, পাচাশি গ্রামের ওই কিশোরী স্থানীয় একটি মাদরাসায় ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে। গত সোমবার দুপুরে প্রতিবেশী সজীব ওই কিশোরীকে বাড়িতে একা পেয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। ঘটনা প্রকাশ হওয়ার পর স্থানীয় মাতব্বর ও ধর্ষক সজীবের দাদা বিষয়টি রাতের মধ্যেই মীমাংসা করার আশ্বাস দেন।

পরে ওই দিন রাত ১০টায় লাল মিয়া মন্ডল তার ভাতিজা নজরুল ইসলাম মন্ডলের বাড়িতে সালিশ ডাকেন। সালিশে নির্যাতিত কিশোরীর ইজ্জতের মূল্য নির্ধারণ হয় ২০ শতাংশ (দুই কাঠা) জমি।মাতব্বরদের চাপ ও সজীবের পরিবারের হুমকির মুখে নির্যাতিতা কিশোরীর পরিবার বিষয়টি মেনে নিতে বাধ্য হয়।

ঘটনা  ধামাচাপা দিতে নির্যাতিতা কিশোরীকে ঢাকায় তার বাবার কাছে পাঠিয়ে দেয়া হয়। ইতিমধ্যে জমির দলিল লিখা হয়ে গেছে। রেজিস্ট্রি হওয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।

নির্যাতিতা কিশোরীর বাবা বলেন, সজীব আমার মেয়েকে টানা-হেচড়া করেছে। ঘটনা প্রকাশ হওয়ার পর গ্রাম্য সালিশে সজীবের দাদা লাল মিয়া মন্ডল ও তার ভাতিজা এনামূল হক মন্ডল মেয়ের নামে দুই কাঠা জমি দিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করেছে। আমরা গরীব মানুষ, গ্রামের মুরুব্বীদের রায় মেনে নিয়েছি। এখন বিষয়টি নিয়ে ঘাটাঘাটি করলে সমস্যা।

সজীবের দাদা লাল মিয়া মন্ডল বলেন, সজীব ও মেয়ের বিষয়টা আমাদের গোষ্ঠীর বিষয়। এটা মীমাংসা হয়ে গেছে। এখানে থানা-পুলিশ জানানোর মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। জমি দেয়ার বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, কোনো জমি লিখে দেইনি।

গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেলোয়ার আহম্মদ বলেন, পাচাশি গ্রামের ধর্ষণের বিষয়টি ফেসবুক মাধ্যমে জানতে পেরেছি। ধর্ষণের অপরাধ সালিশে মীমাংসাযোগ্য নয়। অভিযোগ পেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।