‘অসম্মান ও যুদ্ধের মধ্যে বাছতে হলে যুদ্ধকেই বেছে নেওয়া উচিত’

গত সোমবার ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ নম্বর অনুচ্ছেদে কাশ্মিরকে যে স্বায়ত্তশাসিত রাজ্যের মর্যাদা দেওয়া হয়েছিল সেটি বাতিলের ঘোষণা দেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। একইসঙ্গে কাশ্মীর থেকে ভেঙে লাদাখকে আলাদা করার ঘোষণাও দেন। আর তাতে সাত দশকের গুচ্ছিত মর্যদা হারায় জম্মু কাশ্মীর।তবে ভারতের এমন বেআইনি সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারছে না ইসলামাবাদ।

ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি কড়া সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ইমরান খানের সরকার। কূটনৈতিক মহলের দাবি, ইমরান খান যে পদক্ষেপ নিয়েছেন তাতে আন্তর্জাতিক চাপে থাকবে ভারত।

ইমরান কৌশল হিসেবে প্রাথমিক ভাবে, ইসলামাবাদ ছাড়তে বলা হল ভারতীয় হাই কমিশনারকে। আপাতত স্থগিত করা হল দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য।

কাশ্মীর থেকে বিশেষ মর্যাদা খারিজ হতেই মঙ্গলবার পাক সংসদে দাঁড়িয়ে মঙ্গলবার এই আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পাক জাতীয় নিরাপত্তা কমিটিকে ডেকে কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা প্রত্যাহারে দিল্লির সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করল পাক সরকার। কূটনৈতিক মহলের দাবি, উপত্যকায় কেন্দ্রীয় শাসনে স্বাভাবিক ভাবেই চাপে ইসলামাবাদ। এই চাপ কাটাতে পালটা কৌশল হিসেবে মোদি সরকারের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্তকেই এখন আন্তর্জাতিক ইস্যু করতে মরিয়া ইসলামাবাদ। তার প্রাথমিক কৌশল হিসেবে তড়িঘড়ি কিছু সিদ্ধান্ত পাক সরকারের।

অবিলম্বে ভারতে পাঠানো হবে ইসলামাবাদে নিযুক্ত ভারতীয় হাই কমিশনার অজয় বিশারিয়াকে। পালটা হিসেবে দিল্লি থেকে ফেরানো হচ্ছে পাক দূতকেও। ওই বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, পরিস্থিতির উন্নতি না হলে আর কোনও কূটনৈতিক অফিসারকে পাঠানো হবে না দিল্লিতে। কূটনৈতিক সিদ্ধান্তের পাশাপাশি কাশ্মীরের প্রতিবাদে আপাতত ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য স্থগিতের সিদ্ধান্ত ইসলামাবাদের। একসঙ্গে কমানো হবে কূটনৈতিক সম্পর্ক। ইতিমধ্যে জাতীসংঘের কাছে বিচার দিয়েছে ইসলামাবাদ।

জম্মু-কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা খারিজের পরেই ভারতকে ক্রমাগত হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছে পাকিস্তান। বুধবার পাক পার্লামেন্টের যৌথ অধিবেশনে মন্ত্রী ফাওয়াদ চৌধুরি বলেন, ‘‘যখন কূটনীতিই হচ্ছে না তখন কূটনীতির জন্য অর্থ খরচ করে লাভ কি? ভারতীয় হাইকমিশনার এখানে কী করছেন? পাক হাইকমিশনারও বা দিল্লিতে কী করছেন? ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করা উচিত। যুদ্ধকে পাকিস্তান ভয় পায় না। অসম্মান ও যুদ্ধের মধ্যে বাছতে হলে যুদ্ধকেই বেছে নেওয়া উচিত।’’

বার্তাবাজার/এএস

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর