শেরপুর জলার ধুপাধাট এলাকার ‘কথিত বন্দুকযুদ্ধে’ রুহুল আমিন রিপন (২৬) নামে এক যুবক নিহতের ঘটনায় প্রেস ব্রিফিং করেছেন শেরপুর জেলা পুলিশ। ৭ আগস্ট বুধবার বিকেলে পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ওই প্রেস ব্রিফিং করেন পুলিশ সুপার কাজী আশরাফুল আজীম।
প্রেস ব্রিফিং কালে পুলিশ সুপার জানান, বুধবার ভোররাত ৩টার দিকে সদর উপজেলার ধোপাঘাট সংলগ্ন কড়ইতলা এলাকায় একদল মাদক ব্যবসায়ী মাদক ব্যবসার অর্থ লেনদেন নিয়ে নিজেদের মধ্যে বাগবিতন্দায় জড়িয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে জেলা গোয়েন্দা ও সদর থানা পুলিশের দু’টি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ওই সময় মাদক ব্যবসায়ীদের হামলায় ডিবি পুলিশের এএসআই আরিফুল হক আকন্দসহ ৪ পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে পুলিশ গুলিবিদ্ধ অবস্থায় রুহুল আমিন রিপনকে উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ওই সময় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ও ইয়াবা উদ্ধার করে।
তিনি আরও জানান, নিহত রুহুল আমিন রিপন একজন চিহ্নিত মাদক ব্যসায়ী। তার বিরুদ্ধে শেরপুর ও জামালপুরের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। এছাড়া রুহুলের বাবা-মা ও স্ত্রী মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। কি ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র ও মাদক উদ্ধার হয়েছে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখনও অভিযান চলছে। অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত কিছু বলা যাচ্ছে না। এছাড়া পুলিশের এএসআই আনোয়ার হোসেনকে কুপিয়ে রক্তাক্ত করার ঘটনায় নিহত যুবক জড়িত ছিল কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তবে ওই ঘটনার পর পুলিশের চলমান মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদবিরোধী অভিযান জোরদার করা হয়েছে।
এদিকে বুধবার বিকেলে জেলা সদর হাসপাতালে মর্গে থাকা নিহত যুবকের সুরতহাল সম্পন্ন হলেও রাত পর্যন্ত ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়নি এবং তার লাশ গ্রহণে এগিয়ে যায়নি পরিবারের লোকজন।
এ ব্যাপারে জেলা সদর হাসপাতালের আরএমও ডাঃ খাইরুল কবীর সুমন বলেন, হাসপাতালের মর্গে রাখা লাশের ময়নাতদন্ত হয়নি। বোর্ড গঠনের মাধ্যমে বৃহস্পতিবার সকালে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হবে।
উল্লেখ্য, বুধবার ভোরে সদর উপজেলার চরশেরপুর ইউনিয়নের কড়ইতলা এলাকায় কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয় রুহুল আমিন রিপন।
বার্তাবাজার/কে.জে.পি