অ্যান্ডারসনের চূড়ায় ওঠার নৈপথ্যে

সদ্য সমাপ্ত ভারত-ইংল্যান্ড সিরিজের কেনিংটন ওভাল টেস্টটি ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য দুইটি কারণে বিশেষ সমাদৃত। কারণ এ ম্যাচের মধ্য দিয়েই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়েছেন বর্তমান সময়ের অন্যতম সেরা টেস্ট ক্রিকেটার অ্যালিস্টার কুক। এছাড়াও ম্যাচের একদম শেষ উইকেট নিয়ে টেস্ট ইতিহাসের পেসারদের মধ্যে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারীর খেতাব নিজের করে নিয়েছেন জিমি অ্যান্ডারসন।

৫৫৯ উইকেট নিয়ে ম্যাচটি খেলতে নেমেছিলেন অ্যান্ডারসন। ৫৬৩ উইকেট নিয়ে টেস্টে পেসারদের মধ্যে চূড়ায় বসে ছিলেন অস্ট্রেলিয়ান কিংবদন্তি গ্লেন ম্যাকগ্রা। অ্যালিস্টার কুককে জয় উপহার দেয়ার পথে ওভাল টেস্টে ৫ উইকেট নেন অ্যান্ডারসন। ছাড়িয়ে যান ম্যাকগ্রাকে, উঠে যান পেসারদের চূড়ায়।

১৪৩ টেস্টে ৫৬৪ উইকেট নিয়ে এখন পরিসংখ্যানের খাতায় সর্বকালের সেরা পেসারের নাম জিমি অ্যান্ডারসন। যদিও তিনি নিজে কখনোই সেরা মানেননা নিজেকে। বারবার নিজের বক্তব্যে সেরা মেনে নেন ম্যাকগ্রাকেই। মূলত নিজের ক্যারিয়ারের শুরুতে ম্যাকগ্রাদের মতো কিংবদন্তি বোলারদের অনুসরণ করেই এত দূর এসেছেন বলে জানান ৩৬ বছর বয়সী এ পেসার।

সর্বোচ্চ উইকেট শিকারের রেকর্ড নিজের করে নেয়াটা সহজ ছিল না অ্যান্ডারসনের জন্য। কাঙ্ক্ষিত চূড়ায় পৌঁছতে বেশ কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে তাকে। নিজ দেশের গণমাধ্যম ‘দ্য সান’ পত্রিকায় লেখা এক কলামে নিজের ক্যারিয়ারের উত্থান, নিজের বর্তমান অবস্থান ও সামগ্রিক পরিস্থিতি সম্পর্কে লিখেছেন অ্যান্ডারসন।

অনুশীলনে বিভিন্ন নতুন নতুন জিনিস চেষ্টা ও নিজের স্কিলগুলো আরও শানিয়ে নেয়ার ব্যাপারে অ্যান্ডারসন লিখেন, ‘নতুন লাল বল যখন ৬০ ওভার পুরনো হয়ে যাবে, সুর্য যখন অস্ত যাওয়ার পথে থাকবে, পিচে কোন সহায়তা থাকবে না, হবে না কোন মুভমেন্ট- তখন পেস বোলার হিসেবে আমি কি করবো? এ সমস্যা সমাধানে আমি প্রায়ই নেটে একটা পুরনো বল নিতাম এবং উইকেট বরাবর বোলিং করতে থাকতাম। এটাই আমার কাছে স্কিল উন্নতির সহজ উপায় মনে হয়।’

‘আমি আমার জীবনের বড় একটা সময় কেবল ফাস্ট বোলারদের দেখেই কাটিয়ে দিয়েছি। প্রথমত বাচ্চাকালে টিভিতে দেখতাম, পরে বড় হয়ে যখন ক্রিকেট খেলা শুরু করলাম তখন তো সামনাসামনিই দেখতে পাই। এমনকি এখনো আমি ছুটির দিবে টিভির সামনে বসে যাই ফাস্ট বোলারদের ব্যাপারে আলোচনা শুনতে, তারা কিভাবে বল গ্রিপ করে, বোলিংয়ের সময় কি চিন্তা করে, কেনো তারা স্লোয়ার, বাউন্সার বা ইয়র্কার করে এসব বোঝার চেষ্টা করি। আমার মনে হয় না আমি কখনো বোলিংয়ের ব্যাপারে ক্লান্ত হবো।’

নিজের চেষ্টা ও অধ্যবসায়ের কল্যাণেই ম্যাকগ্রাকে ছাড়িয়ে টেস্ট ইতিহাসের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি বোলার হতে পেরেছেন অ্যান্ডারসন। তবু নিজেকে ম্যাকগ্রার চেয়ে ভালো মানেন না এ ইংলিশ পেসার। তার মতে ম্যাকগ্রা ছিলেন একজন কমপ্লিট পেসার।

অজি কিংবদন্তির ব্যাপারে অ্যান্ডারসন লিখেন, ‘আমি হয়তো উইকেট সংখ্যায় তাকে ছাড়িয়ে গেছি। তবে আমি সত্যিই বিশ্বাস করি যে ম্যাকগ্রার বাউন্স, অবিশ্বাস্য একুরেসি, এগ্রেশন ও দুই দিকেই সুইং করানোর ক্ষমতাই তাকে সেরা বানিয়েছে। তার ভাণ্ডারে সবকিছু ছিল। খেলার মাঠে তার আচরণও প্রশংসনীয়। সে মাঠের মধ্যে আমার মতোই ক্ষেপে যেত এবং কখনো রান দেয়া বা উইকেট না পাওয়া মেনে নিতে পারত না।’

জিমি অ্যান্ডারসন ম্যাকগ্রার রেকর্ড ভাঙার পরে অস্ট্রেলিয়ান কিংবদন্তি অ্যান্ডারসনের জন্য নতুন লক্ষ্য বেঁধে দিয়েছেন ৬০০ উইকেটের। অ্যান্ডারসন নিজেও মনে করেন আর কিছুদিন খেললেই ইতিহাসের প্রথম পেসার হিসেবে ৬০০ উইকেটের মাইলফলক ছুয়ে ফেলতে পারবেন তিনি।

You might also like