শিশু রীমার চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন প্রধানমন্ত্রী

ক্যানসার আক্রান্ত ১১ বছরের রীমার চিকিৎসার যাবতীয় দায়িত্ব নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালে ভর্তি রীমার পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর এ বার্তা পৌছে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক পরিচালক ডা. জুলফিকার লেনিন।

সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার ওসমানপুরে গ্রামে রীমার বাড়ি। বয়স ১১, দুই ভাই-বোনের মধ্যে রীমা বড়। গ্রামের পাঁচপাড়া মোহাম্মাদিয়া ইসলামিয়া হাফেজিয়া দাখিল মাদ্রাসার পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী রীমা।

মা নেই, বাবা বাসের হেল্পার। প্রায় দেড় বছর আগে রীমার ডান পা থেকে পুঁজ দেখা দেয়। অনেক চিকিৎসা করান রীমার বাবা তার সাধ্য অনুযায়ী, কিন্তু কাজ হয়নি। ধীরে ধীরে ছোট্ট রীমার পা ফুলতে থাকে। চিকিৎসার এক পর্যায়ে ধরা পরে ১১ বছরের রীমা ক্যান্সারে আক্রান্ত। রীমার চিকিৎসা শুরু হয় সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে রীমার প্রাথমিক অস্ত্রেপাচারও করা হয়। কিন্তু তার অবস্থার অবনতি হলে রীমার পরিবারকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় আসার পরামর্শ দেন সেখানকার চিকিৎসার। কিন্তু ঢাকায় এসে চিকিৎসা করানোর মতো আর্থিক সামর্থ্য এই পরিবারটির ছিল না।

কিন্তু ততদিনে শিশু রীমার ক্যান্সার এবং টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে না পারার বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রচার হয়।

আর তারপরই লন্ডন থেকে একজন আইনজীবী ফোনে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত সহকারী সচিব কাজী নিশাত রসুলের সাথে; যেন বিষয়টি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জানতে পারেন। কাজী নিশাত রসুল বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আনেন। প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি জেনে তাৎক্ষণিক নির্দেশ দেন ১১ বছরের রীমাকে ঢাকা নিয়ে আসার জন্য।

ওসমানীনগরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, ওসমানপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এবং স্থানীয় সাংবাদিকদের সহায়তায় রীমাকে ঢাকায় আনা হয় এবং গত ১২ সেপ্টেম্বর তাকে জাতীয় ক্যান্সার ইন্সটিটিউটে ভর্তি করা হয়।

এরপরই গতকাল বুধবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ক্যান্সার আক্রান্ত রীমাকে দেখতে যান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক পরিচালক ও স্বাচিপের যুগ্ম-মহাসচিব সহযোগী অধ্যাপক ডাঃ জুলফিকার লেনিন।

এসময় ডা. জুলফিকার লেলিন রীমার চিকিৎসার বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন । তিনি অসহায় রীমার পরিবারকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সার্বিক সহায়তার কথা বলেন। এ ব্যাপারে সার্বিক দায়িত্ব পালন করছেন ক্যান্সার হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মোশাররফ হোসেন, চিফ মেডিকেল অফিসার ডা. রফিকুল ইসলাম, ডা. পাভেল এবং ডা. মাজহার।

You might also like